ভারী বর্ষণে ফের ডুবল নগরী, ত্রাণ বিতরণে প্রতিমন্ত্রী-মেয়র
চট্টগ্রাম অফিস
প্রকাশ: ১৩ জুলাই ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
সেই যে গত ৪ জুলাই থেকে টানা বৃষ্টি শুরু হয়েছে চট্টগ্রামে তা থামার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। অবস্থাটি এমন হয়েছে যে, নগরবাসী বোধ হয় ধরেই নিয়েছে যে, ভারী বৃষ্টি হলে চট্টগ্রাম নগরী ডুববে, জলজট হবে। সুতরাং এটি মেনে নিয়েই চলতে হবে। সেই ৪ জুলাই থেকে বৃষ্টি, ভারী বৃষ্টি ও অতি ভারী বৃষ্টিতে চট্টগ্রাম নগরী তলিয়ে গেল। জেলার বিভিন্ন স্থানে ভয়াবহ বন্যা দেখা দিল। চট্টগ্রামের হেন কোনো উপজেলা নেই যেখানে বন্যার পানিতে লোকালয়, মানুষ, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল ডোবেনি।
এ অবস্থার মধ্যে গত শনিবার রাত থেকে আবারো ভারী বৃষ্টিতে নগরীর জনজীবনে দুর্ভোগ নেমে আসে। নগরীর জলাবদ্ধতা অনেকটা কমে এলেও রবিবার আবার বিভিন্ন জায়গায় পানি উঠে যায়। রবিবার বেলা ৩টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রামে ১৩৬ দশমিক ৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
কিন্তু শনিবার দুপুরের আগে ও শুক্রবার বৃষ্টির তীব্রতা কিছুটা কম থাকায় নগরীর নিচু এলাকাগুলোর পানি নামতে শুরু করেছিল। তবে শনিবার রাত থেকে আবার ভারী বৃষ্টিতে নগরের বিভিন্ন এলাকায় আবারও জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। চকবাজার, কাপাসগোলা, কাতালগঞ্জ, বাঁকলিয়াসহ বিভিন্ন নিচু এলাকায় সড়কে পানি জমে যায়। এতে যান চলাচল ব্যাহত হয় এবং কর্মজীবী মানুষকে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়। দুর্ভোগে পড়েন স্কুলগামী শিক্ষার্থীরাও।
এদিকে আবহাওয়ার পরিস্থিতির উন্নতির আভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। পূর্বাভাসে কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইসমাইল ভূঁইয়া বলেছেন, সোমবার থেকে ভারী বৃষ্টির প্রবণতা কমবে। তবে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি অব্যাহত থাকতে পারে। গভীর নি¤œচাপের প্রভাব কমে যাওয়ায় চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরের জন্য জারি করা ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত শনিবার দুপুরেই প্রত্যাহার করা হয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী-চসিক মেয়রের ত্রাণ বিতরণ নগরীতে : চট্টগ্রাম নগরীতে টানা ভারী বর্ষণে পানিবন্দি হয়ে পড়া চান্দগাঁও সিএন্ডবি ও মোহরা এলাকার দুর্গত মানুষের মাঝে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, চট্টগ্রাম সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, সংসদ সদস্য এরশাদ উল্লাহ এবং সংসদ সদস্য সাঈদ আল নোমান। রবিবার (১২ জুলাই) তারা ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলো পরিদর্শন করে পানিবন্দি মানুষের খোঁজখবর নেন এবং খাদ্যসামগ্রীসহ প্রয়োজনীয় ত্রাণসামগ্রী তাদের হাতে তুলে দেন। এ সময় তারা স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে বন্যা ও জলাবদ্ধতায় সৃষ্ট দুর্ভোগের বিষয়ে অবহিত হন এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করার আশ্বাস প্রদান করেন।
ত্রাণ বিতরণকালে প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, দুর্যোগকবলিত মানুষের পাশে দাঁড়ানো সরকারের দায়িত্ব। ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কষ্ট লাঘবে সরকার সব ধরনের সহায়তা প্রদান করছে এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এই সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে। মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, নগরবাসীর দুর্ভোগ কমাতে সিটি করপোরেশন সর্বোচ্চ আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করছে। পানিবন্দি মানুষের জন্য খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি ও জরুরি সহায়তা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন ওয়ার্ডে ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। তিনি দুর্যোগ মোকাবিলায় সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান। এ সময় সংসদ সদস্য এরশাদ উল্লাহ ও সংসদ সদস্য সাঈদ আল নোমান ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের প্রতি সহমর্মিতা প্রকাশ করে বলেন, দুর্যোগ-পরবর্তী পুনর্বাসনসহ প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।
