বিশ্বকাপ নকআউটে প্রথম গোল
রোনালদোর নতুন ইতিহাস
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৪ জুলাই ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
বিশ্বকাপের মঞ্চে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর অর্জনের তালিকা দীর্ঘ। ছয়টি বিশ্বকাপ খেলা, একের পর এক গোল, অসংখ্য রেকর্ড- সবই ছিল তার ঝুলিতে। কিন্তু একটি আক্ষেপ তাকে এত দিন তাড়া করে ফিরেছে। বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে কখনো গোল করতে পারেননি পর্তুগিজ মহাতারকা। অবশেষে সেই অপেক্ষার অবসান ঘটল ২০২৬ বিশ্বকাপে। ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে পেনাল্টি থেকে করা একটি গোলই শুধু পর্তুগালকে ম্যাচে ফেরায়নি, রোনালদোর নামের পাশে যোগ করেছে একগুচ্ছ নতুন রেকর্ডও।
বিশ্বকাপের শেষ বত্রিশের ম্যাচে শুরুতে ধাক্কা খায় পর্তুগাল। ইভান পেরিসিচের গোলে এগিয়ে যায় ক্রোয়েশিয়া। পিছিয়ে পড়ার পর আক্রমণের গতি বাড়ায় রোবের্তো মার্তিনেসের দল। ৬০ মিনিটে রোনালদো দুর্দান্ত এক ফিনিশে বল জালে জড়ালেও অফসাইডের কারণে সেই গোল বাতিল হয়। সাত মিনিট পর আসে কাক্সিক্ষত সুযোগ। রেনাতোকে পেনাল্টি বক্সে ফাউল করলে স্পট কিক পায় পর্তুগাল। চাপের সেই মুহূর্তে কোনো ভুল করেননি রোনালদো। নিখুঁত শটে গোল করে ম্যাচে সমতা ফেরান তিনি। পরে যোগ করা সময়ে গনসালো রামোসের গোলে ২-১ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে পর্তুগাল।
এই একটি গোলেই ইতিহাসের একাধিক পাতায় নাম লেখান রোনালদো। ষষ্ঠ বিশ্বকাপে এসে এটি ছিল তার প্রথম নকআউট গোল। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে এত দিন যে অর্জনটি অধরা ছিল, সেটিও পূর্ণ হলো ৪১ বছর বয়সে। শুধু তা-ই নয়, ৪১ বছর ১৪৭ দিন বয়সে গোল করে বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে সবচেয়ে বেশি বয়সে গোলদাতার রেকর্ডও নিজের করে নেন তিনি। একই ম্যাচে বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে খেলা সবচেয়ে বেশি বয়সী আউটফিল্ড ফুটবলারও হন পর্তুগিজ অধিনায়ক।
এই ম্যাচটি বিশ্বকাপ ইতিহাসেও বিশেষ জায়গা করে নিয়েছে। প্রথমবারের মতো ৪০ বছরের বেশি বয়সী দুই আউটফিল্ড ফুটবলার- ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো ও লুকা মদ্রিচ-একই নকআউট ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছেন। বিশ্বকাপে ২৬তম ম্যাচ খেলেন রোনালদো, আর মদ্রিচের ম্যাচসংখ্যা দাঁড়ায় ২৩।
রোনালদোর গোলটি ছিল বিশ্বকাপে তার চতুর্থ পেনাল্টি গোল। এ ক্ষেত্রে তার চেয়ে এগিয়ে আছেন শুধু ইংল্যান্ডের হ্যারি কেইন, যার পেনাল্টি গোল পাঁচটি। বিশ্বকাপে মোট গোলসংখ্যা এখন ১১, আর চলতি আসরে এটি তার তৃতীয় গোল। এক আসরে এর চেয়ে বেশি গোল তিনি করেছিলেন শুধু ২০১৮ বিশ্বকাপে, তখন করেছিলেন চারটি।
আরেকটি অনন্য কীর্তিও গড়েছেন রোনালদো। বিশ্বকাপ ও ইউরো মিলিয়ে আন্তর্জাতিক বড় দুই আসরে তার গোলসংখ্যা এখন ২৫। এই মাইলফলক স্পর্শ করা প্রথম ফুটবলার তিনি। আন্তর্জাতিক ফুটবলে তার সামগ্রিক পরিসংখ্যানও বিস্ময়কর- পর্তুগালের হয়ে ২৩২ ম্যাচে করেছেন ১৪৬ গোল, সঙ্গে রয়েছে ৪৬টি গোলে সহায়তা।
এই ম্যাচে পর্তুগালও গড়েছে নতুন ইতিহাস। ১৯৬৬ সালের পর এই প্রথম বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে পিছিয়ে পড়েও জয় তুলে নিল তারা। আর সেই প্রত্যাবর্তনের ভিত্তি গড়ে দেন রোনালদোই।
বিশ্ব ফুটবলে লিওনেল মেসি ও ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর প্রতিদ্ব›িদ্বতা বহু বছরের। ৩৯ বছর বয়সেও মেসি যেমন নতুন নতুন রেকর্ড গড়ে চলেছেন, তেমনি ৪১ বছর বয়সে রোনালদোও প্রমাণ করে চলেছেন, বয়স তার সাফল্যের পথে বাধা নয়। ক্যারিয়ারের শেষ প্রান্তে এসেও তিনি যে বড় ম্যাচে পার্থক্য গড়ে দিতে পারেন, ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে সেই রাত তারই
আরেকটি উজ্জ্বল প্রমাণ।
