কার্ডের ফাঁদে ইংল্যান্ড, পরিচ্ছন্ন নরওয়ে-আর্জেন্টিনা
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১০ জুলাই ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা নিশ্চিত করা ৮ দলের পারফরম্যান্স শুধু গোল, জয় কিংবা বল দখলের হিসাবেই সীমাবদ্ধ নয়। মাঠের শৃঙ্খলাও হয়ে উঠেছে আলোচনার বড় বিষয়। চলতি ফিফা বিশ্বকাপের শৃঙ্খলা নিয়ে হওয়া পরিসংখ্যান বলছে, একই ধরনের ফাউল করেও সব দল সমানভাবে কার্ড দেখেনি। সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছে ইংল্যান্ড, আর সবচেয়ে পরিচ্ছন্ন ফুটবল খেলেছে নরওয়ে। তাদের পরেই রয়েছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। একই সঙ্গে কোয়ার্টার ফাইনালের আগে ১৭ ফুটবলার নিষেধাজ্ঞার ঝুঁকিতে থাকায় বাড়তি উত্তেজনা যোগ হয়েছে শেষ আটের লড়াইয়ে।
কার্ডের হিসাবে সবচেয়ে দুর্ভাগা ইংল্যান্ড : কোয়ার্টার ফাইনালিস্টদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি কার্ড দেখেছে ইংল্যান্ড। পুরো টুর্নামেন্টে ৫৪টি ফাউলের বিপরীতে থ্রি লায়ন্সদের খেলোয়াড়রা পেয়েছেন ৮টি কার্ড- যার ভেতর রয়েছে ৭টি হলুদ ও ১টি লাল কার্ড। অর্থাৎ গড়ে প্রতি ৬.৭৫টি ফাউলেই একটি করে কার্ড দেখেছে ইংল্যান্ড, যা শেষ আটের দলগুলোর মধ্যে সবচেয়ে খারাপ অনুপাত।
পরিচ্ছন্ন ফুটবলে এগিয়ে নরওয়ে, পরেই আর্জেন্টিনা : শৃঙ্খলা তালিকার সর্বোচ্চ পর্যায়ে রয়েছে নরওয়ে। দলটি ৪৮টি ফাউল করলেও কার্ড দেখেছে মাত্র ২টি, দুটিই হলুদ। অর্থাৎ প্রতি ২৪টি ফাউলে মাত্র একটি কার্ড। এছাড়া বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার রেকর্ডও ঈর্ষণীয়। ৫৯টি ফাউলের বিপরীতে তাদের কার্ড মাত্র ৩টি, সবই হলুদ। গড়ে প্রতি ১৯.৬৬টি ফাউলে একটি করে কার্ড পেয়েছে আলবিসেলেস্তেরা।
বাকি দলগুলোর শৃঙ্খলার চিত্র : মরক্কো ৬১টি ফাউল করে পেয়েছে ৬টি হলুদ কার্ড। অর্থাৎ প্রতি ১০.১৬টি ফাউলে একটি কার্ড। বেলজিয়াম ৬০টি ফাউলের বিপরীতে পেয়েছে ৫টি কার্ড-৪টি হলুদ ও ১টি লাল। তাদের গড় প্রতি ১২টি ফাউলে একটি কার্ড। ফ্রান্স ৪৯টি ফাউল করে দেখেছে ৪টি হলুদ কার্ড। অর্থাৎ প্রতি ১২.২৫টি ফাউলে একটি কার্ড। স্পেন ৫৫টি ফাউল করেও পেয়েছে মাত্র ৩টি হলুদ কার্ড। তাদের গড় প্রতি ১৮.৩৩টি ফাউলে একটি কার্ড।
সবচেয়ে বেশি ফাউলের শিকার মরক্কো : শুধু ফাউল করাই নয়, প্রতিপক্ষের ফাউলের শিকার হওয়ার তালিকাতেও শীর্ষে মরক্কো। আফ্রিকার প্রতিনিধিদের বিপক্ষে প্রতিপক্ষ দলগুলো করেছে সর্বোচ্চ ৮০টি ফাউল। এই তালিকায় দ্বিতীয় ইংল্যান্ড ৭৭টি ও এরপর সুইজারল্যান্ড ৭৫টি। ফ্রান্সের বিপক্ষে হয়েছে ৪৪টি, স্পেনের বিরুদ্ধে ৩৮টি ও নরওয়ের বিরুদ্ধে ৩৫টি ফাউল। আর্জেন্টিনা ও বেলজিয়ামের বিপক্ষে প্রতিপক্ষ সমান ৫৪টি করে ফাউল করেছে।
সেমিফাইনালের পথে ঝুঁকিতে ১৭ ফুটবলার : ফিফার শৃঙ্খলার নিয়ম অনুযায়ী, কোয়ার্টার ফাইনালে আরেকটি হলুদ কার্ড দেখলেই সেমিফাইনালে খেলতে পারবেন না এমন খেলোয়াড়ের সংখ্যা ১৭। সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে মরক্কো ও ইংল্যান্ড। দুই দলেরই চারজন করে ফুটবলার নিষেধাজ্ঞার মুখে। মরক্কোর- আশরাফ হাকিমি, ইশা দিওপ, রেদোয়ান হালহাল ও বিলাল এল খানুস। ইংল্যান্ডের- জুড বেলিংহাম, ডেক্লান রাইস, মার্ক গুয়েহি ও নিকো ও’রাইলি। এ ছাড়া ইংল্যান্ডের জ্যারেল কোয়ানসা আগের ম্যাচে লাল কার্ড পাওয়ায় নরওয়ের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনাল খেলতে পারবেন না। অন্যদিকে ফ্রান্সের মানু কোনে ও মাইকেল অলিসে, সুইজারল্যান্ডের গ্রানিত জাকা, দেনিস জাকারিয়া ও মিরো মুহেইম, স্পেনের ফেরান তোরেস, নরওয়ের আন্তোনিও নুসা, বেলজিয়ামের ব্র্যান্ডন মেখেলে ও আর্জেন্টিনার গনসালো মন্তিয়েলও এক কার্ডের দূরত্বে রয়েছেন নিষেধাজ্ঞা থেকে।
কোয়ার্টার পেরোলেই মিলবে স্বস্তি : তবে ফুটবলারদের জন্য রয়েছে একটি স্বস্তির খবর। ফিফার নিয়ম অনুযায়ী, কোয়ার্টার ফাইনাল শেষে আগের সব একক হলুদ কার্ডের হিসাব মুছে যাবে। ফলে কোয়ার্টার ফাইনালে নতুন করে কার্ড না দেখলে সেমিফাইনালে সবাই পরিচ্ছন্ন রেকর্ড নিয়ে খেলতে পারবেন। এ কারণে কোনো খেলোয়াড়ই শুধু হলুদ কার্ড জমার কারণে সম্ভাব্য ফাইনাল মিস করবেন না।
