রদ্রির হ্যান্ডবল না দেখায় ক্ষুব্ধ বেলজিয়াম কোচ
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১২ জুলাই ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে স্পেনের কাছে ২-১ গোলে হেরে বিদায় নেয়ার পরও রেফারির একটি সিদ্ধান্ত ঘিরে ক্ষোভ কাটছে না বেলজিয়াম শিবিরের।
দলের প্রধান কোচ হুডি গাহসিয়ার অভিযোগ, ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে স্পেন অধিনায়ক রদ্রির সম্ভাব্য হ্যান্ডবলের ঘটনাটি ভিডিও সহকারী রেফারির মাধ্যমে পর্যালোচনা না করায় তাদের প্রতি অবিচার হয়েছে। তার দাবি, এমন গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে অন্তত ঘটনাটি পুনরায় দেখে সিদ্ধান্ত নেয়া উচিত ছিল।
লস অ্যাঞ্জেলসের সোফি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় কোয়ার্টার ফাইনালের ৬৬তম মিনিটে বিতর্কিত ঘটনাটি ঘটে। তখন দুই দল ১-১ সমতায়। স্পেনের ডি-বক্সে সতীর্থ এমরিক লাপোর্তের হেডে বল লাফিয়ে ওঠার পর রদ্রির হাতে লাগে। সঙ্গে সঙ্গে পেনাল্টির জোরালো আবেদন জানান বেলজিয়ামের খেলোয়াড়রা।
তবে ইংল্যান্ডের রেফারি মাইকেল অলিভার খেলা চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেন। আরো বিস্ময়ের বিষয়, ভিডিও সহকারী রেফারিও মাঠের রেফারিকে ঘটনাটি পুনরায় পর্যালোচনার জন্য ডাকেননি।
ফুটবলের প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী, হ্যান্ডবলের সিদ্ধান্ত নির্ভর করে খেলোয়াড়ের হাতের অবস্থান, শরীরের স্বাভাবিক ভঙ্গি এবং বল ইচ্ছাকৃতভাবে স্পর্শ করা হয়েছে কি না- এসব বিষয়ের ওপর। ম্যাচের ওই ঘটনায় রদ্রির হাত শরীরের খুব কাছাকাছি ছিল বলে অনেকের মত। তবে বেলজিয়াম শিবিরের দাবি, ম্যাচের ফল নির্ধারণে প্রভাব ফেলতে পারে এমন পরিস্থিতিতে ভিডিও সহকারী রেফারির মাধ্যমে ঘটনাটি অন্তত আরেকবার দেখা উচিত ছিল।
ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে হতাশা লুকাননি কোচ হুডি গাহসিয়া। তিনি বলেন, স্পেনের বিপক্ষে তার দল চোখে চোখ রেখে লড়াই করেছে। কিন্তু একের পর এক প্রতিকূল পরিস্থিতি তাদের বিপক্ষে গেছে। প্রথমে চোট পেয়ে মাঠ ছাড়েন গোলরক্ষক তিবো কোর্তোয়া। পরে কেভিন ডি ব্রুইনাকেও নির্ধারিত সময়ের আগেই বদলি করতে হয়েছে। এর মধ্যেই সম্ভাব্য হ্যান্ডবলের ঘটনাটি পর্যালোচনা না করায় তিনি বিস্ময় প্রকাশ করেন।
গাহসিয়া বলেন, আমরা স্পেনের বিপক্ষে সমানতালে লড়াই করেছি। তিবো কোর্তোয়াকে হারিয়েছি, কেভিন ডি ব্রুইনাকেও আগেভাগে বদলি করতে হয়েছে। এরপর আমি বুঝতে পারছি না কেন মাইকেল অলিভার হ্যান্ডবলের ঘটনাটি ভিডিও সহকারী রেফারিতে দেখলেন না। সিদ্ধান্তটি আমাদের বিপক্ষেই গেছে। অবশ্য ঘটনাটি নিয়ে স্পেনের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। তবে ম্যাচ শেষে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন ফুটবল বিশ্লেষকদের আলোচনায় বিষয়টি বড় বিতর্ক হয়ে ওঠে। অনেকের মতে, রদ্রির হাত স্বাভাবিক অবস্থানে থাকায় পেনাল্টি না দেয়ার সিদ্ধান্ত সঠিক ছিল। আবার অনেকে মনে করেন, বিতর্ক এড়াতে অন্তত মাঠের রেফারিকে ভিডিও সহকারী রেফারির মনিটরে গিয়ে ঘটনাটি আরেকবার দেখে সিদ্ধান্ত নেয়ার সুযোগ দেয়া উচিত ছিল। বিতর্কিত সেই মুহূর্তের ২২ মিনিট পরই বদলি নেমে জয়সূচক গোল করেন মিকেল মেরিনো। তার ৮৮তম মিনিটের গোলে ২-১ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে স্পেন এবং ১৬ বছর পর বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে জায়গা করে নেয়। অন্যদিকে সম্ভাব্য হ্যান্ডবলের ঘটনাটি নিয়ে প্রশ্ন তুলেও হতাশা নিয়েই বিশ্বকাপ অভিযান শেষ করতে হয় বেলজিয়ামকে।
