রোনালদোর জন্য জাতীয় দলের দরজা খোলা
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১২ জুলাই ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
বিশ্বকাপে প্রত্যাশা পূরণ করতে না পারায় সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। ৪১ বছর বয়সী এই মহাতারকার আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার শেষের পথে- এমন আলোচনা যখন জোরালো, ঠিক তখনই আশার বার্তা দিলেন পর্তুগালের নতুন প্রধান কোচ জর্জে জেজুস। তার স্পষ্ট বক্তব্য, বয়স নয়, একজন ফুটবলারের বর্তমান সামর্থ্য ও ফর্মই জাতীয় দলে জায়গা পাওয়ার একমাত্র মানদণ্ড। রোনালদো যদি খেলার মতো অবস্থায় থাকেন, তবে তাকে দলে নিতে কোনো দ্বিধা নেই।
উত্তর আমেরিকা বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর ম্যাচে স্পেনের কাছে ১-০ গোলে হেরে বিদায় নেয় পর্তুগাল। সেই ব্যর্থতার পর প্রধান কোচ রবের্তো মার্তিনেসের অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটে। তার জায়গায় চার বছরের জন্য দায়িত্ব দেয়া হয়েছে অভিজ্ঞ কোচ জর্জে জেজুসকে। ২০৩০ সালের বিশ্বকাপ পর্যন্ত পর্তুগাল জাতীয় দলের দায়িত্বে থাকবেন ৭১ বছর বয়সী এই কোচ। দীর্ঘ ৩৬ বছরের কোচিং জীবনে এবারই প্রথম কোনো জাতীয় দলের দায়িত্ব পেলেন তিনি।
সম্প্রতি সৌদি আরবের ক্লাব আল নাসরে রোনালদোর সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করেছেন জেজুস। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই তিনি মনে করেন, রোনালদোর শারীরিক সক্ষমতা নিয়ে অযথা প্রশ্ন তোলার সুযোগ নেই। লিসবনে দায়িত্ব গ্রহণের পর সংবাদ সম্মেলনে নতুন কোচ বলেন, আমার বয়স ৭১, কিন্তু আমি নিজেকে ৫০ বছরের মানুষের মতোই অনুভব করি। বয়স কোনো বিষয় নয়। ক্রিশ্চিয়ানোর দিকে তাকান। আমার অধীনে সে প্রতি ম্যাচে প্রায় ৮ কিলোমিটার দৌড়াত এবং ঘণ্টায় ২৫ কিলোমিটারেরও বেশি গতিতে খেলত।
বিশ্বকাপের আগে রোনালদো ঘোষণা দিয়েছিলেন, এটিই হবে তার শেষ বিশ্বকাপ। তবে তিনি জাতীয় দল থেকে অবসরের ঘোষণা দেননি। ফলে পর্তুগালের জার্সিতে তাকে আবারো দেখা যেতে পারে। দেশের হয়ে সর্বাধিক ২৩৩টি ম্যাচ খেলা এবং সর্বোচ্চ ১৪৬ গোল করা রোনালদো আন্তর্জাতিক ফুটবলের এই দুই রেকর্ডেরই মালিক। ৬টি বিশ্বকাপে খেলা ইতিহাসের মাত্র ২ ফুটবলারের একজনও তিনি; অন্যজন আর্জেন্টিনার লিওনেল মেসি।
যদিও এবারের বিশ্বকাপে প্রত্যাশার তুলনায় অনেকটাই ¤øান ছিলেন রোনালদো।
টুর্নামেন্টে মাত্র তিনটি গোল করেন তিনি। গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি ম্যাচে নিজের স্বাভাবিক প্রভাবও রাখতে পারেননি। ফলে সমর্থক ও বিশ্লেষকদের সমালোচনার মুখে পড়েন পাঁচবারের ব্যালন ডি’অর জয়ী এই তারকা। তবে নতুন কোচ এসব সমালোচনায় গুরুত্ব দিতে রাজি নন। তার মতে, রোনালদো পর্তুগাল ফুটবলের প্রতীক এবং দেশের ফুটবল ইতিহাসে তার অবদান অনন্য। জেজুস বলেন, ক্রিশ্চিয়ানোর সঙ্গে এখনো কথা হয়নি। তবে আমার বিশ্বাস, সে কখনোই জাতীয় দলের জন্য সমস্যা হবে না। সিদ্ধান্ত নেয়ার সময় আমি তার সঙ্গে বসব। সে কী চায়, সেটাও জানতে হবে। যদি সে জাতীয় দলে খেলার মতো অবস্থায় থাকে, তাহলে অবশ্যই তাকে ডাকব।
জেজুস আরো জানান, আল নাসরে কাজ করার সময় রোনালদো তাকে বলেছিলেন, ক্লাবটির জার্সিতেই নিজের পেশাদার ক্যারিয়ার শেষ করতে চান। তবে জাতীয় দলে খেলার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়ার আগে দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা হবে। নতুন কোচের এমন অবস্থান স্পষ্ট করে দিয়েছে, বয়সের কারণে নয়, মাঠের পারফরম্যান্স দিয়েই ভবিষ্যৎ নির্ধারণ হবে পর্তুগালের সর্বকালের সেরা গোলদাতার।
