এই দল কখনো বিশ্বাস হারায় না
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৩ জুলাই ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
গোলের খাতা খোলা হলো না। তবু ম্যাচ শেষে আলোচনার কেন্দ্রে ছিলেন লিওনেল মেসিই। সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালে ১২০ মিনিটের কঠিন লড়াই শেষে ৩-১ গোলের জয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে উঠেছে আর্জেন্টিনা। আর সেই জয়ের পর অধিনায়ক লিওনেল মেসির কণ্ঠে শোনা গেল আত্মবিশ্বাসের বার্তা- ‘এই দল কখনো বিশ্বাস হারায় না।’
কানসাস সিটিতে ম্যাচটি মোটেও সহজ ছিল না বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের জন্য। দশম মিনিটে মেসির কর্নার থেকে অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টারের হেডে এগিয়ে যায় আর্জেন্টিনা। কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধে দান এনদোয়ের গোলে সমতায় ফেরে সুইজারল্যান্ড। এরপর নির্ধারিত ৯০ মিনিটে আর গোল না হওয়ায় ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। সেখানেই জুলিয়ান আলভারেস ও লাউতারো মার্তিনেসের গোলে জয় নিশ্চিত করে আর্জেন্টিনা। ম্যাচ শেষে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে সতীর্থদের সঙ্গে উদযাপনের ছবি পোস্ট করে মেসি লেখেন, ‘আমরা আবারো কষ্ট করেছি, কিন্তু এই দল কখনো বিশ্বাস হারায় না। আমরা আবার বিশ্বের সেরা চার দলের মধ্যে। এগিয়ে চলো!’ কঠিন লড়াই শেষে দলের মানসিক শক্তির প্রতিই ছিল অধিনায়কের সবচেয়ে বড় স্বীকৃতি।
মিক্সড জোনেও একই সুর শোনা যায় মেসির কণ্ঠে। তিনি বলেন, ‘আমি খুবই খুশি। এটি ছিল অত্যন্ত কঠিন এবং প্রতিদ্ব›িদ্বতাপূর্ণ একটি ম্যাচ। আমরা জানতাম সুইজারল্যান্ড আমাদের কঠিন পরীক্ষায় ফেলবে। গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, আমরা শেষ পর্যন্ত লড়াই ধরে রাখতে পেরেছি।’ এই ম্যাচে গোল না পেলেও দলের প্রথম গোলটি তৈরির কারিগর ছিলেন মেসি। তার নিখুঁত কর্নার থেকেই হেডে জাল খুঁজে নেন ম্যাক অ্যালিস্টার। চলতি বিশ্বকাপে এটি মেসির দ্বিতীয় অ্যাসিস্ট। গোলশূন্য ম্যাচ খেললেও আক্রমণভাগে তার প্রভাব ছিল স্পষ্ট। মাঝমাঠ থেকে খেলা নিয়ন্ত্রণ, সুযোগ সৃষ্টি এবং প্রতিপক্ষের রক্ষণকে ব্যস্ত রাখার কাজটিও করেছেন দক্ষতার সঙ্গে। বিশ্বকাপে মেসির অ্যাসিস্টের একটি অনন্য পরিসংখ্যানও সমৃদ্ধ হয়েছে এই ম্যাচে। বিশ্বকাপে তার প্রতিটি অ্যাসিস্ট থেকেই গোল করেছেন ভিন্ন ভিন্ন ফুটবলার। ২০০৬ সালে হার্নান ক্রেসপো দিয়ে শুরু হওয়া সেই তালিকায় পরে যোগ হয়েছে কার্লোস তেভেজ, আনহেল দি মারিয়া, গ্যাব্রিয়েল মের্কাদো, সার্জিও আগুয়েরো, নাহুয়েল মলিনা, এনসো ফার্নান্দেস, হুলিয়ান আলভারেস, ক্রিস্তিয়ান রোমেরো এবং সর্বশেষ অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টারের নাম। বিশ্বকাপে আগের পাঁচ ম্যাচে আট গোল করে গোল্ডেন বুটের দৌড়ে এগিয়ে ছিলেন মেসি। সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে সেই ধারাবাহিকতায় বিরতি এলেও দলকে জয়ের পথে রাখতে তার অবদান কম ছিল না। ব্যক্তিগত সাফল্যের চেয়ে দলীয় অর্জনই যে তার কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ, সেটিও যেন আবারো স্পষ্ট হলো এই ম্যাচে।
এই জয়ের মধ্য দিয়ে টানা দ্বিতীয় বিশ্বকাপে সেমিফাইনাল নিশ্চিত করেছে আর্জেন্টিনা। ১৯৮৬ ও ১৯৯০ সালের পর এবারই প্রথম এমন কীর্তি গড়েছে আলবিসেলেস্তেরা। এখন তাদের লক্ষ্য সপ্তমবারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠা।
সামনে অপেক্ষা করছে ইংল্যান্ড। বাংলাদেশ সময় ১৫ জুলাই দিবাগত রাত ১টায় আটলান্টায় মুখোমুখি হবে দুই ফুটবল পরাশক্তি। মেসির জন্য ম্যাচটি বিশেষও বটে। দীর্ঘ আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে বিশ্বকাপ বা প্রীতি ম্যাচ- কোনো পর্যায়েই এর আগে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে মাঠে নামেননি তিনি। সেই অপেক্ষার অবসান হতে যাচ্ছে সেমিফাইনালের মতো বড় মঞ্চে।
সেমিফাইনাল সামনে রেখে মেসি বলেন, ‘এই ধাপটি পেরিয়ে আসা আমাদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ ছিল। এখন আমরা পরের ম্যাচের জন্য কিছুটা স্বস্তি নিয়ে প্রস্তুতি নিতে পারব’। বিশ্বকাপের মঞ্চে সময় যত এগোচ্ছে, শিরোপা ধরে রাখার স্বপ্নও তত বাস্তব হয়ে উঠছে আর্জেন্টিনার। আর সেই স্বপ্নের কেন্দ্রে দাঁড়িয়ে অধিনায়ক মেসি আবারো মনে করিয়ে দিলেন- কঠিন মুহূর্তে বিশ্বাস হারায় না বলেই এই দল এখনো বিশ্বচ্যাম্পিয়নের মতো লড়তে জানে।
