×

যুক্তরাজ্য

ব্রিটিশ রাজনীতির নীরব সাক্ষী, ১৫ বছরে ল্যারি দ্য ক্যাটের অবিচল রাজত্ব

Icon

কাগজ ডেস্ক

প্রকাশ: ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৩:০৯ পিএম

ব্রিটিশ রাজনীতির নীরব সাক্ষী, ১৫ বছরে ল্যারি দ্য ক্যাটের অবিচল রাজত্ব

ল্যারি দ্য ক্যাট। ছবি : সংগৃহীত

প্রধানমন্ত্রী এসেছেন, থেকেছেন, আবার বিদায় নিয়েছেন কিন্তু ১০ নম্বর ডাউনিং স্ট্রিটে থেকে গেছে এক নির্ভরযোগ্য উপস্থিতি। ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবনে টানা ১৫ বছর পূর্ণ করল ল্যারি দ্য ক্যাট। সে যেনতেন কেউ নয়, খোদ যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের বিড়াল। বর্তমানে তার সরকারি পদবি ‘চিফ মাউসার টু দ্য ক্যাবিনেট অফিস’। ইঁদুর শিকার থেকে অতিথি বরণ, সব দায়িত্বই তার কাঁধে।

সেন্ট্রাল লন্ডনের ঐতিহাসিক কালো দরজার সামনে মাঝেমধ্যেই রাশভারী ভঙ্গিতে বসে থাকতে দেখা যায় ট্যাবি জাতের এই বিড়ালটিকে। বয়স এখন ১৯। ২০১১ সালে ব্যাটারসি ডগস অ্যান্ড ক্যাটস হোম থেকে তাকে দত্তক নেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন ও তাঁর স্ত্রী সামান্থা। ল্যারিকে সরকারি বাসভবনে স্বাগত জানাতে পেরে সে সময় অভিভূত হওয়ার কথা জানিয়েছিলেন ক্যামেরন। তাঁর আশা ছিল, অতিথিদের মন জয় করবে ল্যারি। সময়ের সঙ্গে সেই আশা যে পূরণ হয়েছে, তা বলাই বাহুল্য।


২০১১ সালে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ব্রিটেন সফরে এসে ডাউনিং স্ট্রিটে ল্যারির সঙ্গে দেখা করেন। শোনা যায়, তাঁর কাছ থেকে উপহারও পেয়েছিল সে। ২০১৯ সালে ডোনাল্ড ট্রাম্প ব্রিটেন সফরে এলে আনুষ্ঠানিক ছবি তোলার সময় হাজির হয়েছিল ল্যারি, এমনকি পরে প্রেসিডেন্টের গাড়ির নিচে গিয়ে ঘুমিয়েও পড়ে। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সফরেও তার উপস্থিতি নজরে আসে।

সরকারি দায়িত্ব অনুযায়ী, ল্যারির মূল কাজ ইঁদুর ধরা। যদিও সেই কাজে তার সাফল্য নিয়ে মাঝেমধ্যেই প্রশ্ন ওঠে। তবে এই দায়িত্ব নতুন নয়। ১৯২০ সাল থেকেই ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে ইঁদুর ধরার জন্য বিড়াল নিয়োগের প্রথা রয়েছে। এমনকি রাজা অষ্টম হেনরির আমলেও ইংল্যান্ডের সরকারি দপ্তরে এই রেওয়াজ চালু ছিল বলে জানা যায়।

ল্যারির আগে এই পদে ছিল হামফ্রে। ১৯৮৯ সালে তাকে নিয়োগ দেওয়া হয়, যখন ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন মার্গারেট থ্যাচার। ১০ নম্বর ডাউনিং স্ট্রিটের আশপাশে ঘোরাফেরা করতে দেখে তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। ১৯৯৭ সালে অবসর নেয় হামফ্রে।


আরো পড়ুন : অ্যান্ড্রু এবং রাজা চার্লস, রাজকীয় ভাইদের ব্যক্তিগত যুদ্ধ

২০১১ সালের এপ্রিলে প্রথম শিকার ধরে ল্যারি। সেই শুরু। তারপর থেকে ডাউনিং স্ট্রিটে একাধিক রাজনৈতিক পালাবদল হয়েছে। দায়িত্বে এসেছেন টেরেসা মে, বরিস জনসন, লিজ ট্রাস, ঋষি সুনক এবং বর্তমানে কিয়ের স্টার্মার। রাজনৈতিক টানাপড়েন, বিতর্ক ও অস্থিরতার মাঝেও ল্যারি থেকেছে নিজের ছন্দে, কখনও আড়মোড়া ভাঙতে, কখনও পায়রার পিছনে ছুটতে দেখা গেছে তাকে।


বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করেন, ল্যারি এখন ব্রিটিশ ‘সফ্‌ট পাওয়ার’এর এক অনন্য প্রতীক। দলীয় রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে সাধারণ মানুষের কাছে সে স্থিতিশীলতার প্রতীক হয়ে উঠেছে। ফলে তাকে দায়িত্ব থেকে সরানো যে কোনও প্রধানমন্ত্রীর জন্য রাজনৈতিক ঝুঁকি ডেকে আনতে পারে বলেও মত রয়েছে।


গদিতে কে এলেন বা গেলেন সে সব যেন ল্যারির কাছে গুরুত্ব পায় না। তার দায়িত্ব বহাল রয়েছে। এ বার চাকরিতে ১৫ বছর পূর্ণ করল সে। তাকে দেখে মনে আসতে পারে অ্যালফ্রেড লর্ড টেনিসনের সেই বিখ্যাত কবিতার পঙ্‌ক্তি- ‘ফর মেন মে কাম অ্যান্ড মেন মে গো,/ বাট আই গো অন ফর এভার।’

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

এলপিজির মূল্যবৃদ্ধিতে চাপে ভোক্তার সংসার

এলপিজির মূল্যবৃদ্ধিতে চাপে ভোক্তার সংসার

১০ এয়ারবাস কিনতে ৭ অক্টোবর চুক্তি

১০ এয়ারবাস কিনতে ৭ অক্টোবর চুক্তি

রাবিতে সাংবাদিকদের ওপর ছাত্রদলের হামলার, আহত ১০

রাবিতে সাংবাদিকদের ওপর ছাত্রদলের হামলার, আহত ১০

আইএমএফের চুক্তি ‘বাতিল করে দিয়েছি’: অর্থমন্ত্রী

আইএমএফের চুক্তি ‘বাতিল করে দিয়েছি’: অর্থমন্ত্রী

সব খবর

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App