×

যুক্তরাষ্ট্র

মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচন: আগাম ভোট পড়েছে প্রায় ৬ কোটি

Icon

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ: ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ০৭:৪৬ পিএম

মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচন: আগাম ভোট পড়েছে প্রায় ৬ কোটি

ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। দেশটির প্রায় ২১ কোটি নিবন্ধিত ভোটারের মধ্যে ইতোমধ্যে প্রায় ৫ কোটি ৮৭ লাখ ভোটার আগাম ভোট দিয়েছেন। ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক বিশ্লেষণী প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, আগাম ভোট দেওয়া ৫ কোটি ৮৭ লাখ ভোটারের মধ্যে ৩ কোটি ১৯ লাখ সরাসরি ভোট দিয়েছেন। বাকি ২ কোটি ৬৮ লাখ ভোটার ডাকযোগে ব্যালট পাঠিয়েছেন। ২০২২ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনে আগাম ভোট দিয়েছিলেন প্রায় ৪ কোটি ৬০ লাখ ভোটার। অর্থাৎ, আগের নির্বাচনের তুলনায় এবার আগাম ভোটের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

যেসব অঙ্গরাজ্যে ভোটারদের দলীয় নিবন্ধনের তথ্য সংরক্ষণ করা হয়, সেসব রাজ্যের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, আগাম ভোটদাতাদের মধ্যে ১ কোটি ২৫ লাখ নিবন্ধিত ডেমোক্র্যাট এবং প্রায় ৯০ লাখ নিবন্ধিত রিপাবলিকান রয়েছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের ৫০টি অঙ্গরাজ্যেই ডাকযোগে ভোট দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। পাশাপাশি অধিকাংশ অঙ্গরাজ্যে নির্বাচনের দিনের আগেই সরাসরি ভোট দেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে।

ইতোমধ্যে দেশটির পূর্বাঞ্চলীয় অঙ্গরাজ্যগুলোতে ভোটকেন্দ্র খুলে দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সকাল ৬টা থেকে নিউইয়র্ক, কানেকটিকাট, নিউ জার্সি, ভার্জিনিয়া এবং ইন্ডিয়ানা ও কেনটাকির কিছু অংশে ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। পর্যায়ক্রমে অন্যান্য অঙ্গরাজ্যেও স্থানীয় সময় অনুযায়ী ভোটগ্রহণ শুরু হবে।

এবারের নির্বাচনে মার্কিন কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদের ৪৩৫টি আসনের সব কটিতে এবং উচ্চকক্ষ সিনেটের ১০০টি আসনের মধ্যে ৩৫টিতে ভোট হচ্ছে। নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টির কাছ থেকে প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটের নিয়ন্ত্রণ কেড়ে নেওয়ার আশা করছে বিরোধী দল ডেমোক্রেটিক পার্টি।

তবে ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পর কখন ফলাফল জানা যাবে, কোন অঙ্গরাজ্যে ভোট গণনায় বেশি সময় লাগতে পারে এবং কবে নাগাদ কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ কোন দলের হাতে যাচ্ছে, তা নিয়ে ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ রয়েছে।

প্রথম ফলাফল কখন জানা যাবে?

ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পর মঙ্গলবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যা থেকেই বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের প্রাথমিক ফলাফল আসতে শুরু করবে। দেশটির পূর্বাঞ্চলের কিছু নির্বাচনি এলাকায় স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টায় প্রথম ভোটগ্রহণ শেষ হবে।

অঙ্গরাজ্যভেদে ভোটকেন্দ্র বন্ধ হওয়ার পরপরই সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ভোট গণনা শুরু করবেন। তবে সব আসনের ফলাফল একই সময়ে পাওয়া যাবে না। কিছু আসনের ফলাফল বুধবার কিংবা তার পরের দিনগুলোতেও অপেক্ষায় রাখতে পারে।

বিশেষ করে যেসব আসনে দুই দলের প্রার্থীর মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে, সেসব আসনের ফলাফল চূড়ান্ত করতে কয়েক ঘণ্টা থেকে কয়েক দিন পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। ফলে নির্বাচনের রাতেই সব আসনের বিজয়ী নির্ধারিত হয়ে যাবে, এমন নিশ্চয়তা নেই।

রিপাবলিকানরা কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারবে, নাকি ডেমোক্র্যাটরা একটি কিংবা উভয় কক্ষের সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করবে, তা বুঝতে কয়েক দিন অপেক্ষা করতে হতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রে কখন শেষ হবে ভোটগ্রহণ?

যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য ও অঞ্চলে স্থানীয় সময় অনুযায়ী ভিন্ন ভিন্ন সময়ে ভোটগ্রহণ শেষ হবে। অঙ্গরাজ্যগুলোর ভোটকেন্দ্র বন্ধ হওয়ার সম্ভাব্য সময় বাংলাদেশ সময় অনুযায়ী নিচে তুলে ধরা হলো।

যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় বাংলাদেশ সময় যেসব এলাকায় ভোটগ্রহণ শেষ হবে

সন্ধ্যা ৬টা                         বুধবার ভোর ৫টা  ইন্ডিয়ানা ও কেনটাকির কিছু অংশ

সন্ধ্যা ৭টা                                  বুধবার সকাল ৬টা   ফ্লোরিডা, জর্জিয়া, সাউথ ক্যারোলাইনা, ভারমন্ট, ভার্জিনিয়ার অধিকাংশ অংশ এবং ইন্ডিয়ানা, কেনটাকি ও নিউ হ্যাম্পশায়ারের কিছু অংশ

সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা                  বুধবার সকাল সাড়ে ৬টা   নর্থ ক্যারোলাইনা, ওহাইও ও ওয়েস্ট ভার্জিনিয়া

রাত ৮টা                                   বুধবার সকাল ৭টা             অ্যালাবামা, কানেকটিকাট, ডেলাওয়্যার, ইলিনয়, মেইন, মেরিল্যান্ড, ম্যাসাচুসেটস, মিসিসিপি, মিসৌরি, নিউ হ্যাম্পশায়ারের অবশিষ্ট অংশ, নিউ জার্সি, ওকলাহোমা, পেনসিলভানিয়া, রোড আইল্যান্ড, টেনেসি, ওয়াশিংটন ডিসি এবং ফ্লোরিডা, কানসাস, মিশিগান, নর্থ ডাকোটা, সাউথ ডাকোটা ও টেক্সাসের কিছু অংশ

রাত সাড়ে ৮টা                            বুধবার সকাল সাড়ে ৭টা আরকানসাস

রাত ৯টা                                      বুধবার সকাল ৮টা          অ্যারিজোনা, কলোরাডো, আইওয়া, লুইজিয়ানা, মিনেসোটা, নেব্রাস্কা, নিউ মেক্সিকো, নিউইয়র্ক, উইসকনসিন, ওয়াইওমিং এবং কানসাস, মিশিগান, নর্থ ডাকোটা, সাউথ ডাকোটা ও টেক্সাসের অবশিষ্ট অংশ

রাত ১০টা                                     বুধবার সকাল ৯টা মন্টানা, নেভাদা, ইউটা এবং আইডাহো ও ওরেগনের কিছু অংশ

রাত ১১টা                                      বুধবার সকাল ১০টা ক্যালিফোর্নিয়া, ওয়াশিংটন এবং আইডাহো ও ওরেগনের অবশিষ্ট অংশ

মধ্যরাত ১২টা                               বুধবার বেলা ১১টা হাওয়াই ও আলাস্কার অধিকাংশ এলাকা

রাত ১টা                                       বুধবার দুপুর ১২টা অ্যালুশিয়ান দ্বীপপুঞ্জসহ আলাস্কার অবশিষ্ট অংশ


যেসব অঙ্গরাজ্যে ভোট গণনায় বেশি সময় লাগতে পারে

যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি অঙ্গরাজ্যে ভোট গণনার বিশেষ পদ্ধতি, ডাকযোগে আসা ব্যালট যাচাই এবং পুনরায় গণনার বিধানের কারণে চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশে বিলম্ব হতে পারে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য পাঁচটি অঙ্গরাজ্য হলো—

আলাস্কা: এই অঙ্গরাজ্যে ‘র‍্যাঙ্কড-চয়েস ভোটিং’ পদ্ধতি চালু রয়েছে। এ ব্যবস্থায় কোনো প্রার্থী ৫০ শতাংশের বেশি ভোট না পেলে ভোটারদের পরবর্তী পছন্দ অনুযায়ী ধাপে ধাপে ভোট গণনা করা হয়। ফলে বিজয়ী নির্ধারণে অতিরিক্ত সময় প্রয়োজন হতে পারে।

নির্বাচনের আগের রাতে সরাসরি দেওয়া আগাম ভোট এবং নির্বাচনের দিনের ভোটের ফলাফল তুলনামূলক দ্রুত পাওয়া গেলেও ডাকযোগে আসা ব্যালটের ফল কয়েক দিন পর প্রকাশিত হতে পারে। ২০২৪ সালের নির্বাচনে পরদিন সকাল নাগাদ প্রায় ৭৫ শতাংশ ভোট গণনা সম্পন্ন হয়েছিল। বাকি ভোট গণনা করতে আরও কয়েক দিন সময় লেগেছিল।

ক্যালিফোর্নিয়া: এই অঙ্গরাজ্যে মূলত ডাকযোগে ভোট দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পরও বেশ কিছুদিন ডাকযোগে পাঠানো ব্যালট এসে পৌঁছায়। এসব ব্যালটের বৈধতা যাচাই করে গণনা করতে হয়। ফলে প্রতিদ্বন্দ্বিতা কাছাকাছি হলে চূড়ান্ত ফলাফল জানতে কয়েক দিন, এমনকি কয়েক সপ্তাহও অপেক্ষা করতে হতে পারে।

অ্যারিজোনা: অঙ্গরাজ্যটির কয়েকটি কাউন্টিতে ভোটাররা নির্বাচনের দিন নির্দিষ্ট কেন্দ্রে ডাকযোগে পাঠানোর জন্য নির্ধারিত ব্যালট জমা দিতে পারেন। এসব ব্যালট গণনার আগে ভোটারের স্বাক্ষর যাচাই করতে হয়। ফলে ভোটের ব্যবধান কম হলে ফলাফল প্রকাশে কয়েক দিন দেরি হতে পারে।

নেভাদা: এই অঙ্গরাজ্যে সব নিবন্ধিত ভোটারের কাছে ডাকযোগে ব্যালট পাঠানো হয়। ডাক বিভাগের সিলযুক্ত ব্যালট নির্বাচনের চার দিন পর পর্যন্ত পৌঁছালেও তা গ্রহণ করা হতে পারে। পাশাপাশি ব্যালটের স্বাক্ষরে কোনো সমস্যা থাকলে তা সংশোধনের জন্য ভোটাররা নির্বাচনের পর ছয় দিন পর্যন্ত সময় পান। এসব প্রক্রিয়ার কারণে চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশে পরবর্তী সপ্তাহ পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।

মেইন: আলাস্কার মতো মেইনেও ‘র‍্যাঙ্কড-চয়েস ভোটিং’ পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়। কোনো প্রার্থী ৫০ শতাংশের বেশি ভোট না পেলে ব্যালটগুলো রাজধানী অগাস্টায় নিয়ে গিয়ে পরবর্তী পছন্দ অনুযায়ী পুনরায় গণনা করতে হয়। এ কারণে চূড়ান্ত ফলাফল পেতে দেরি হতে পারে।

ওয়াশিংটন: এই অঙ্গরাজ্যেও ডাকযোগে ভোটগ্রহণের ব্যবস্থা রয়েছে। ডাক বিভাগের সিল দেওয়া ব্যালট ভোটগ্রহণের পরবর্তী দিনগুলোতে এসে পৌঁছাতে পারে। এসব ব্যালট গণনার কারণে ফলাফল ঘোষণায় বিলম্ব হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

যেসব অঙ্গরাজ্যে দ্রুত ফলাফল আসতে পারে

অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি অঙ্গরাজ্যে ভোট গণনার প্রক্রিয়া তুলনামূলক দ্রুত সম্পন্ন হয়। ফলে সেসব অঞ্চলের ফলাফল নির্বাচনের রাতেই জানা যেতে পারে।

ফ্লোরিডা: অঙ্গরাজ্যটিতে সাধারণত দ্রুত ভোট গণনা করা হয়। বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের সাধারণ নির্বাচনে স্থানীয় সময় রাত ১০টা ৫১ মিনিটের মধ্যে (বাংলাদেশ সময় পরদিন সকাল ৯টা ৫১ মিনিট) ফ্লোরিডায় প্রায় ৯৯ শতাংশ ভোট গণনা সম্পন্ন হয়েছিল।

ওহাইও: এখানে আগাম ভোট এবং অনুপস্থিত ভোটারদের দেওয়া ব্যালটের ফলাফল দ্রুত প্রকাশ করা হয়। ২০২৪ সালের নির্বাচনে ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার মাত্র ছয় মিনিট পর স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৭টা ৩৬ মিনিটে (বাংলাদেশ সময় পরদিন সকাল ৬টা ৩৬ মিনিট) প্রথম ফলাফল পাওয়া যায়। একই নির্বাচনে রাত ১১টা ৩ মিনিটের মধ্যে (বাংলাদেশ সময় পরদিন সকাল ১০টা ৩ মিনিট) প্রায় ৯০ শতাংশ ভোট গণনা সম্পন্ন হয়েছিল।

নর্থ ক্যারোলাইনা: পূর্ব উপকূলের এই অঙ্গরাজ্যে ডাকযোগে আসা ভোটের বড় অংশ নির্বাচনের রাতেই প্রথম ফলাফলের সঙ্গে প্রকাশিত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। ২০২৪ সালের নির্বাচনে স্থানীয় সময় রাত ১টা ৩৬ মিনিটের মধ্যে (বাংলাদেশ সময় সকাল ১০টা ৩৬ মিনিট) প্রায় ৯০ শতাংশ ভোট গণনা সম্পন্ন হয়েছিল।

পেনসিলভানিয়া: ২০২৪ সালের নির্বাচনে স্থানীয় সময় রাত ৮টায় (বাংলাদেশ সময় সকাল ৭টা) ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পরপরই ফলাফল আসতে শুরু করে। রাত ১০টা ১২ মিনিটের মধ্যে (বাংলাদেশ সময় সকাল ৯টা ১২ মিনিট) অর্ধেক ভোট গণনা সম্পন্ন হয়েছিল। পরদিন রাত ১২টা ৪৮ মিনিটের মধ্যে (বাংলাদেশ সময় বেলা ১১টা ৪৮ মিনিট) ৯০ শতাংশ ভোট গণনা শেষ হয়।

উইসকনসিন: ২০২৪ সালের নির্বাচনে ৬ নভেম্বর দিনগত রাত ২টা ২২ মিনিটের মধ্যে এই অঙ্গরাজ্যের প্রায় ৯০ শতাংশ ভোটের ফলাফল প্রকাশিত হয়েছিল। বাংলাদেশ সময় অনুযায়ী তখন সকাল ৭টা ২২ মিনিট।

নির্বাচনের রাতেই অনেক আসনের ফলাফল জানা যেতে পারে। তবে কংগ্রেসের প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটের নিয়ন্ত্রণ কোন দলের হাতে যাচ্ছে, তা নিশ্চিত হতে কয়েক দিন সময় লাগতে পারে।

বিশেষ করে আলাস্কায় সিনেট নির্বাচনের ক্ষেত্রে ‘র‍্যাঙ্কড-চয়েস ভোটিং’ পদ্ধতিতে ভোট গণনার প্রয়োজন হলে ফলাফল আরও বিলম্বিত হতে পারে। এবারের নির্বাচনে সেখানে পরবর্তী ধাপের ভোট গণনা ১৮ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

এ কারণে সব আসনের চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশের জন্য নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা নেই। যেসব আসনে প্রার্থীদের মধ্যে ভোটের ব্যবধান অনেক বেশি থাকবে, সেসব ক্ষেত্রে সব ভোট গণনা শেষ হওয়ার আগেই সংবাদমাধ্যমগুলো বিজয়ী ঘোষণা করতে পারে। তবে সংবাদমাধ্যমের এই ঘোষণা আনুষ্ঠানিক ফলাফল নয়। নির্বাচনী কর্মকর্তাদের মাধ্যমে ফলাফল যাচাই ও প্রত্যয়ন সম্পন্ন হতে আরও সময় লাগে।

এর আগে ২০২৪ সালের নির্বাচনে প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ কোন দলের হাতে থাকবে, তা নিশ্চিত হতে আট দিন সময় লেগেছিল।

ফলাফল নিয়ে কোনো প্রার্থী আপত্তি তুললে কী হবে?

কোনো আসনে দুই প্রার্থীর মধ্যে ভোটের ব্যবধান খুব কম হলে সংশ্লিষ্ট অঙ্গরাজ্যের আইন অনুযায়ী পুনরায় ভোট গণনা বা রিকাউন্ট হতে পারে। এ ক্ষেত্রে নির্বাচনী কর্মকর্তারা নিজ উদ্যোগে কিংবা কোনো প্রার্থীর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে পুনরায় গণনার সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।

এ ছাড়া কোনো প্রার্থী নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে আপত্তি থাকলে আদালতের দ্বারস্থ হতে পারেন। আদালতে আইনি লড়াই শুরু হলে ফলাফল চূড়ান্ত হতে কয়েক দিন, কয়েক সপ্তাহ কিংবা তারও বেশি সময় লাগতে পারে।

এবারের নির্বাচন নিয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বক্তব্যও আলোচনায় এসেছে। তিনি মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলাফল মেনে নেবেন কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। চূড়ান্ত ফলাফলকে সম্মান জানাবেন কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘নির্বাচন সুষ্ঠু হলে তবেই আমি তা মেনে নেব।’

তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট শুধু নিজের মতের সঙ্গে ফলাফল না মেলার কারণে কংগ্রেস নির্বাচনের ফলাফল পরিবর্তন বা বাতিল করতে পারেন না। যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচন পরিচালনা ও ফলাফল প্রত্যয়নের দায়িত্ব মূলত অঙ্গরাজ্যগুলোর ওপর ন্যস্ত। কোনো প্রার্থী ফলাফল চ্যালেঞ্জ করতে চাইলে তাঁকে নির্দিষ্ট আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হয়।

ডেমোক্রেটিক পার্টির কৌশলবিদ মালি স্মিথের ভাষ্য, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিটি অঙ্গরাজ্য নিজ নিজ নির্বাচন পরিচালনা করে। আদালতও নির্বাচন পরিচালনার ক্ষেত্রে অঙ্গরাজ্যগুলোর এখতিয়ার স্বীকার করে।

মার্কিন সংবিধান অনুযায়ী, প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটের সদস্যদের নির্বাচনসংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তির চূড়ান্ত ক্ষমতা সংশ্লিষ্ট কক্ষের হাতে রয়েছে। বিরোধের ধরন ও আইনি প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভর করে পুনরায় ভোট গণনা কিংবা আদালতে চ্যালেঞ্জের নিষ্পত্তি হতে কয়েক দিন থেকে কয়েক সপ্তাহ বা তারও বেশি সময় লাগতে পারে।

সব মিলিয়ে, এবারের মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলাফল শুধু কংগ্রেসের আসন বণ্টনই নির্ধারণ করবে না; বরং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মেয়াদের বাকি দুই বছরের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক গতিপথও অনেকাংশে নির্ধারণ করবে। তাই ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পর প্রাথমিক ফলাফল এলেও কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ কার হাতে যাচ্ছে, তা নিশ্চিত হতে অপেক্ষা করতে হতে পারে কয়েক দিন।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

দ্বিতীয় পদ্মা-যমুনা সেতু ও পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ

দ্বিতীয় পদ্মা-যমুনা সেতু ও পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ

এএসআই নিয়োগ পরীক্ষার চূড়ান্ত ফল প্রকাশ, দেখবেন যেভাবে

এএসআই নিয়োগ পরীক্ষার চূড়ান্ত ফল প্রকাশ, দেখবেন যেভাবে

গ্রেপ্তার হওয়া ৪০ জনের কেউই শ্রমিক নন: ঢাকা ডিআইজি

গ্রেপ্তার হওয়া ৪০ জনের কেউই শ্রমিক নন: ঢাকা ডিআইজি

ই-রিকশা নিবন্ধন ফরম বিতরণ শুরু

ই-রিকশা নিবন্ধন ফরম বিতরণ শুরু

সব খবর

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App