যে কারণে ইসরায়েলের আতঙ্ক হয়ে দাঁড়িয়েছে সশস্ত্র সংগঠন হিজবুল্লাহ
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৪, ০৩:০৫ পিএম
আরবি হিজবুল্লাহ শব্দের অর্থ সৃষ্টিকর্তার দল। লেবাননের ক্ষমতার উল্লেখযোগ্য অংশের নিয়ন্ত্রণ এই শিয়া ইসলামপন্থী সশস্ত্র সংগঠনটির হাতে। একাধারে রাজনৈতিক, সামরিক ও সামাজিক সংগঠন হিসেবে কার্যক্রম পরিচালনা করে হেজবুল্লাহ। সংগঠনটির আত্মপ্রকাশ গত শতাব্দীর আশির দশকের শুরুতে। সে সময় লেবানন ইসরায়েলের দখলদারত্বের সম্মুখীন হয়েছিল।তবে, এর আদর্শিক বীজবপন হয় আরো আগে, ষাট ও সত্তরের দশকে লেবাননে শিয়া ইসলামিক পুনর্জাগরণের দিনগুলোতে।
২০০০ সালে ইসরায়েল সেনা প্রত্যাহার করে নিলে হেজবুল্লাহর ওপরও নিরস্ত্রীকরণের জন্য চাপ বাড়তে থাকে। তারা সেই চাপ প্রতিহত করে সামরিক শাখা ‘ইসলামিক রেজিস্ট্যান্স’ এর সক্ষমতা বৃদ্ধির কাজ চালিয়ে যায়। কোনো কোনো দিক থেকে লেবানিজ সেনাবাহিনীকেও ছাড়িয়ে যায় তারা। যার প্রমাণ মেলে ২০০৬ সালে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে যুদ্ধের সময়। পর্যায়ক্রমে লেবাননের রাজনৈতিক ব্যবস্থারও গুরুত্বপূর্ণ কুশীলব হয়ে ওঠে হেজবুল্লাহ। এমনকি মন্ত্রিপরিষদে ভেটো দেয়ার ক্ষমতাও তারা বাগিয়ে নিতেও সক্ষম হয়।
ইহুদি এবং ইসরায়েলি লক্ষ্যবস্তুতে বোমা হামলা ও নাশকতার অভিযোগ আছে হেজবুল্লাহ বিরুদ্ধে। পশ্চিমা বিভিন্ন রাষ্ট্র, ইসরায়েল, আরব লীগ এবং আরব দেশগুলো তাদের ‘সন্ত্রাসী সংগঠন’ হিসেবে দেখে। কোনো কোনো লেবানিজও হেজবুল্লাহকে দেশের স্থিতিশীলতার জন্য একটা হুমকি মনে করে।কিন্তু, শিয়া সম্প্রদায়ের মধ্যে সংগঠনটির ব্যাপক জনপ্রিয়তা রয়েছে।
হেজবুল্লাহ প্রতিষ্ঠার দিনক্ষণ সুনির্দিষ্টভাবে বলা কঠিন। ১৯৮২ সালে ফিলিস্তিনের সশস্ত্র গোষ্ঠীর আক্রমণের প্রতিক্রিয়ায় দক্ষিণ লেবাননে পাল্টা আক্রমণ চালায় ইসরায়েল। সে সময় লেবাননের প্রভাবশালী রাজনৈতিক সংগঠন ’আমল’ মুভমেন্ট থেকে সশস্ত্র লড়াইয়ে বেশি আগ্রহী, এমন একটি অংশ বেরিয়ে যায়।‘ইসলামিক আমল’ নামে নতুন একটি সংগঠন গড়ে তোলে তারা। নতুন সংগঠনটি ইরানের রেভ্যুলশনারি গার্ডের কাছ থেকে উল্লেখযোগ্য সামরিক ও সাংগঠনিক সহায়তা পায়। ফলশ্রুতিতে তারা সবচেয়ে কার্যকরী শিয়া সশস্ত্র গোষ্ঠী হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। যাদের হাতে পরবর্তীতে হেজবুল্লাহ গঠিত হয়।
১৯৮৫ সালে একটি “খোলা চিঠি” প্রকাশ করে আনুষ্ঠানিকভাবে নিজেদের উপস্থিতি জানান দেয় হেজবুল্লাহ। চিঠিতে যুক্তরাষ্ট্র এবং তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়নকে ইসলামের মূল শত্রু বলে চিহ্নিত করে তারা।একই সাথে ইসরায়েল মূসলিমদের ভূমি দখল করে আছে বলে মন্তব্য করে দেশটিকে ধ্বংস করার ডাকও দেয়া হয় চিঠিতে। “জোর করে চাপিয়ে না দিয়ে, মানুষের অবাধ ও প্রত্যক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে ইসলামিক ব্যবস্থা গ্রহণের” আহ্বানও জানিয়েছিল সংগঠনটি।
লেবাননে গৃহযুদ্ধের অবসান এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার উদ্দেশ্যে ১৯৮৯ সালে তায়েফ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। চুক্তি অনুযায়ী সশস্ত্র সংগঠনগুলোর নিরস্ত্রীকরণের প্রশ্নে হেজবুল্লাহ তাদের সামরিক শাখাকে “ইসলামিক রেজিস্ট্যান্স” অর্থাৎ, ইসলামিক প্রতিরোধ নামে রিব্র্যান্ড (নতুনভাবে রূপায়ন) করে। ইসরায়েলের দখলদারত্বের অবসান ঘটানোর জন্য “ইসলামিক রেজিস্ট্যান্স” নিবেদিত বলে জানানো হয়। ফলে, নিজেদের অস্ত্রশস্ত্র সমর্পণ না করে রেখে দেয়ার সুযোগ পায় তারা।
