এক অপ্রতিদ্বন্দ্বী নায়ক, তিন দশকেও যার বিকল্প নেই!
অর্ণব নাসির
প্রকাশ: ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:৩৪ পিএম
নব্বইয়ের দশকের শুরু। ঢালিউডে তখন নায়কের অভাব নেই। কিন্তু পর্দায় এলেন এক তরুণ—চোখে আলাদা দৃষ্টি, কথায় আলাদা ভঙ্গি, পোশাকে আধুনিকতা আর অভিনয়ে এক অদ্ভুত স্বাভাবিকতা।
পারিবারিক নাম শাহরিয়ার চৌধুরী মোহাম্মদ শাহরিয়ার ইমন। ১৯৭১ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর সিলেটের জকিগঞ্জ উপজেলায় জন্মগ্রহণ করেন তিনি। বাবা কমর উদ্দিন চৌধুরী ও মা নীলা চৌধুরীর বড় সন্তান ছিলেন সালমান। ছোটবেলা থেকেই গান, মডেলিং ও অভিনয়ের প্রতি ঝোঁক ছিল তার। শিশুদের বিভিন্ন টেলিভিশন অনুষ্ঠানেও নিয়মিত মুখ ছিলেন তিনি।
পরবর্তীতে রূপালী পর্দায় পা রাখেন, আর ইমন থেকে হন চিত্রনায়ক সালমান শাহ। ১৯৯৩ সালে ‘কেয়ামত থেকে কেয়াম’ দিয়ে শুরু হলো এক নতুন অধ্যায়। প্রথম ছবিতেই দর্শকের হৃদয়ে জায়গা করে নিলেন সালমান শাহ। এরপর যেন থামার নাম নেই। রোমান্টিক নায়ক হিসেবে তার জনপ্রিয়তা ছড়িয়ে পড়ল।
শুধু সুদর্শন চেহারা নয়—সালমানের সবচেয়ে বড় শক্তি ছিল পর্দায় তার উপস্থিতি। সংলাপ বলার ধরন, চোখের অভিব্যক্তি, হাঁটার স্টাইল, পোশাক—সবকিছুতেই ছিল সময়ের চেয়ে এগিয়ে থাকার ছাপ। রূপালি পর্দায় তাঁর আবির্ভাব ছিল যেন ধূমকেতুর মতো।
প্রথম ছবিতে মৌসুমীর সঙ্গে অভিনয় করলেও সালমানের সঙ্গে জুটি বেঁধে সবচেয়ে বেশি সিনেমায় অভিনয় করেছেন শাবনূর। সালমান-শাবনূর জুটি আজও ঢাকাই সিনেমার অন্যতম জনপ্রিয় জুটি হিসেবে দর্শকের মনে জায়গা করে আছে।
‘স্বপ্নের ঠিকানা’, ‘তোমাকে চাই’, ‘তুমি আমার’, ‘জীবন সংসার’, ‘চাওয়া থেকে পাওয়া’ কিংবা ‘আনন্দ অশ্রু’ প্রায় প্রতিটি ছবির গানই যেন আলাদা করে দর্শকের স্মৃতিতে জায়গা করে নিয়েছে।
মাত্র সাড়ে তিন থেকে চার বছরের চলচ্চিত্রজীবনে প্রায় ২৭টি সিনেমায় অভিনয় করে সালমান শাহ এমন এক জায়গায় পৌঁছে যান, যেখানে তাঁর প্রতিটি ছবি ঘিরেই তৈরি হতো তুমুল প্রত্যাশা। তাঁর জনপ্রিয়তায় প্রেক্ষাগৃহে দর্শক ফিরেছিল। এতো স্বল্প সময়ের ক্যারিয়ারে একের পর এক ব্যবসাসফল সিনেমা উপহার দিয়ে ইতিহাস গড়েছিলেন তিনি।
তবে মাত্র ২৪ বছর বয়সে হঠাৎ থেমে যায় স্বপ্নের নায়কের জীবন। ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর, যেই দিনটি ওলোটপালোট করে দেয় সবকিছু। যে মানুষটি তখনও জনপ্রিয়তার শীর্ষে, তার আকস্মিক মৃত্যু যেন অসমাপ্ত এক গল্প লিখে দেয়। আর সেই অসমাপ্ত গল্পের প্রতি মানুষের কৌতূহল আজও শেষ হয়নি।
দর্শকের চোখে সালমান শাহের কখনো বয়স বাড়েনি; পর্দায় চিরতরুণ হয়েই রয়ে গেছেন স্বপ্নের নায়ক।
একজন নায়ক এসেছিলেন…মাত্র কয়েক বছরের জন্য। কিন্তু চলে যাওয়ার তিন দশক পরও তাঁর জনপ্রিয়তা যেন কমেনি একটুও! বদলে গেছে বাংলা চলচ্চিত্রের দৃশ্যপট, বদলে গেছে দর্শকের রুচি। কিন্তু নতুন প্রজন্মের হৃদয়ে তিনি এখনো জীবন্ত?
