স্বর্ণের দামে বড় পতন, নেপথ্যে যে কারণ
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৪ জুন ২০২৬, ১১:৪৫ এএম
ছবি : সংগৃহীত
সাধারণত বৈশ্বিক সংকটের সময় বিনিয়োগকারীরা মূল্যস্ফীতির বিরুদ্ধে নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে স্বর্ণের দিকে ঝুঁকে পড়ার কারণে স্বর্ণের দাম দ্রুত বেড়ে যায়। কিন্তু এবারের চিত্র ভিন্ন। মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে সংঘাত চললেও এবার স্বর্ণের দাম কমছে।
জানুয়ারিতে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম ছিল ৫ হাজার ৩০৩ ডলার। গত শুক্রবার (১২ জুন) এটি নেমে আসে ৪ হাজার ২৩৫ ডলারে।
আলজাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিনিয়োগকারীদের মধ্যে শঙ্কা তৈরি হয়েছে যে, মুদ্রাস্ফীতির চাপের কারণে বিশ্বের কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো সুদের হার কমানোর পথে না গিয়ে উল্টো তা বাড়িয়ে দিতে পারে। এতে স্বর্ণে বিনিয়োগের আগ্রহ কমে গেছে।
বর্তমান মুদ্রাস্ফীতির একটি বড় কারণ হিসেবে হরমুজ প্রণালির অস্থিরতাকে উল্লেখ করা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সংঘাতের প্রেক্ষাপটে এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথে সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় গ্যাস ও তেলের বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে যার প্রভাব পড়ছে বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতিতে।
যুক্তরাষ্ট্রে গত তিন বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ মুদ্রাস্ফীতি দেখা যাচ্ছে। পাশাপাশি দেশটির শ্রমবাজারেও স্থবিরতা বিরাজ করছে। ফলে ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার কমাবে—এমন সম্ভাবনা খুবই কম বলে মনে করা হচ্ছে।
আরো পড়ুন : টানা চার দফা কমার পর দেশে স্বর্ণের দামে বড় লাফ
বিনিয়োগকারীদের কাছে স্বর্ণ সাধারণত মূল্যস্ফীতির বিরুদ্ধে একটি নিরাপদ আশ্রয় বা হেজ হিসেবে বিবেচিত হলেও, উচ্চ সুদের হার এই ধাতুর জন্য নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। কারণ স্বর্ণ কোনো লভ্যাংশ বা সুদ দেয় না, ফলে সুদহার বেশি থাকলে বিনিয়োগকারীরা তুলনামূলকভাবে ডলার ও অন্যান্য সুদভিত্তিক সম্পদের দিকে ঝুঁকে পড়েন।
আলজাজিরাকে ‘অপশনস্প্রেডার্স ডটকম’-এর প্রধান অপশন অ্যানালিস্ট জাস্টিন কার্ডওয়েল বলেন, ‘স্বর্ণ যেকোনো সম্পদের তুলনায় টাকার সবচেয়ে কাছাকাছি একটি রূপ। এটি কোনো লভ্যাংশ দেয় না, এবং দাম না বাড়লে কোনো আয়ও তৈরি করে না। মানুষ মূলত এর মূল্যবৃদ্ধির ওপর ভরসা করেই স্বর্ণ কেনে।’
তিনি বলেন, সুদের হার বৃদ্ধি স্বর্ণের সঙ্গে সরাসরি প্রতিযোগিতা তৈরি করে। যখন সুদহার বেশি থাকে, তখন বিনিয়োগকারীরা তুলনামূলক নিরাপদ আয় পাওয়া ডলারের দিকে ঝুঁকে যান।
নোবেল গোল্ড ইনভেস্টমেন্টের প্রধান নির্বাহী কলিন প্লাম আলজাজিরাকে বলেন, ডলার শক্তিশালী হলে স্বর্ণের ওপর চাপ তৈরি হয়, আর ডলার দুর্বল হলে স্বর্ণের দাম বাড়ে। বর্তমানে ডলার শক্ত অবস্থানে থাকায় স্বর্ণের বাজারে চাপ বিরাজ করছে। তবে ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি এখনই নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।
