ফের কমল স্বর্ণের দাম
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২০ জুলাই ২০২৬, ১১:১২ এএম
ছবি : সংগৃহীত
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির আরো অবনতি এবং যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের (ফেড) সম্ভাব্য সুদহার বৃদ্ধির ইঙ্গিতের প্রভাবে বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম কিছুটা কমেছে। একই সময়ে ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৯০ ডলার অতিক্রম করায় মূল্যস্ফীতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
সোমবার (২০ জুলাই) বাংলাদেশ সময় সকাল ৮টা ৪২ মিনিটে স্পট মার্কেটে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম শূন্য দশমিক ১ শতাংশ কমে ৪ হাজার ১৪ দশমিক ৫৩ ডলারে নেমে আসে। তবে আগস্টে সরবরাহের জন্য নির্ধারিত যুক্তরাষ্ট্রের স্বর্ণের ফিউচার চুক্তির দাম প্রায় অপরিবর্তিত থেকে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ১৯ দশমিক ৮০ ডলারে লেনদেন হয়েছে। খবর রয়টার্সের।
বিশ্ববাজারে এই মূল্য পরিবর্তনের পেছনে মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান সংঘাত বড় ভূমিকা রাখছে। জর্ডানে অন্তত দুই মার্কিন সেনা নিহত হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, তারা টানা নবম রাতের মতো ইরানে হামলা চালিয়েছে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের আঞ্চলিক মিত্রদের দাবি, রোববারও নতুন করে ইরানের হামলার ঘটনা ঘটেছে। ফলে পুরো অঞ্চলে যুদ্ধ আরো বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা বেড়েছে।
আরো পড়ুন : ১৮ দিনে রেমিট্যান্স এলো ১৮০ কোটি ডলার
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, ভূরাজনৈতিক অস্থিরতার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রে সুদের হার আরো বাড়তে পারে- এমন প্রত্যাশাও স্বর্ণের বাজারে চাপ তৈরি করছে। কারণ সুদের হার বাড়লে সুদবিহীন সম্পদ হিসেবে স্বর্ণে বিনিয়োগের আকর্ষণ কিছুটা কমে যায়।
বাজার গবেষণা প্রতিষ্ঠান ওনড্যার জ্যেষ্ঠ বিশ্লেষক কেলভিন ওং বলেন, সপ্তাহান্তে সংঘাতের তীব্রতা বৃদ্ধি সম্ভাব্য পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধের ঝুঁকি বাড়িয়েছে। একই সঙ্গে স্ট্যাগফ্লেশন বা উচ্চ মূল্যস্ফীতির মধ্যে অর্থনৈতিক স্থবিরতার আশঙ্কাও জোরালো হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে স্বর্ণের বাজারে চাপ আরো বাড়তে পারে।
তিনি বলেন, দীর্ঘমেয়াদে স্বর্ণের বাজার নিয়ে তিনি সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন। তার মতে, প্রতি আউন্স ৩ হাজার ৮৮৬ ডলার গুরুত্বপূর্ণ একটি সহায়ক স্তর। এই সীমার নিচে দাম নেমে গেলে তা আরো কমে ৩ হাজার ৫০০ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছাতে পারে।
এদিকে মূল্যবান অন্যান্য ধাতুর বাজারে মিশ্র প্রবণতা দেখা গেছে। স্পট মার্কেটে রুপার দাম ১ দশমিক ৯ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৫৬ দশমিক ৯৫ ডলারে পৌঁছেছে। প্ল্যাটিনামের দাম শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৫৯৯ দশমিক ৯৭ ডলারে। তবে প্যালাডিয়ামের দাম শূন্য দশমিক ২ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ১ হাজার ২৪৪ দশমিক ৫০ ডলারে নেমে এসেছে।
