পাঁচ সপ্তাহে ৬৫০ বিলিয়ন ডলার হারালেন মাস্ক, ছুটে গেলো ট্রিলিয়নিয়রের মুকুট
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৬ জুলাই ২০২৬, ১০:০৫ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
বিশ্বের শীর্ষ ধনী ব্যক্তি ইলন মাস্ক মাত্র পাঁচ সপ্তাহের ব্যবধানে প্রায় ৬৫০ বিলিয়ন ডলারের কাগুজে সম্পদ হারিয়েছেন। স্পেসএক্স ও টেসলার শেয়ারের বড় ধরনের দরপতনের ফলে তার সম্পদের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। তবে এ ক্ষতির পরও বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তির অবস্থান ধরে রেখেছেন তিনি।
ব্লুমবার্গ বিলিয়নিয়ার্স ইনডেক্সের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৩ জুলাই বাজার বন্ধের সময় মাস্কের মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল প্রায় ৭৩৮ বিলিয়ন ডলার। অথচ ১২ জুন স্পেসএক্সের প্রাথমিক শেয়ার বিক্রি (আইপিও) সম্পন্ন হওয়ার পর তার কাগুজে সম্পদের মূল্য প্রায় ১ দশমিক ৪৫ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছিল।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, স্পেসএক্সের আইপিওর পর কোম্পানিটির বাজারমূল্য ২ দশমিক ৬৪ ট্রিলিয়ন ডলারে উন্নীত হয়, যা ছিল সর্বোচ্চ। কিন্তু এরপর থেকে শেয়ারদরে বড় ধরনের পতন শুরু হয়। ১৬ জুনের সর্বোচ্চ অবস্থান থেকে ২৩ জুলাই পর্যন্ত স্পেসএক্সের শেয়ারের দাম প্রায় ৪১ দশমিক ৪১ শতাংশ কমে যায়। ফলে কোম্পানিটির বাজারমূল্য কমে দাঁড়ায় প্রায় ৮৯৫ বিলিয়ন ডলারে। অর্থাৎ সর্বোচ্চ অবস্থান থেকে এক ট্রিলিয়ন ডলারেরও বেশি বাজারমূল্য হারিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
বিশ্লেষকদের মতে, স্টারশিপ রকেট উৎক্ষেপণে বিলম্ব, আইপিও-পরবর্তী বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ কমে যাওয়া এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের মূল্যায়ন নিয়ে বাজারে নতুন করে সংশয় তৈরি হওয়ায় স্পেসএক্সের শেয়ারদর নিম্নমুখী হয়েছে।
অন্যদিকে টেসলার সাম্প্রতিক আর্থিক ফলাফলও মাস্কের সম্পদে বড় ধাক্কা দিয়েছে। দ্বিতীয় প্রান্তিকে টেসলার আয় বিশ্লেষকদের প্রত্যাশার চেয়ে বেশি হলেও প্রতি শেয়ারে মুনাফা প্রত্যাশার তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম ছিল। পাশাপাশি পরিচালন আয় কমে যাওয়া, ব্যয় বেড়ে যাওয়া এবং নগদ প্রবাহ ঋণাত্মক হওয়ায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়।
এআই প্রযুক্তি, রোবোট্যাক্সি, অপটিমাস রোবট, ডোজো সুপারকম্পিউটার প্রকল্প এবং নির্বাহী ক্ষতিপূরণ খাতে ব্যয় বৃদ্ধিও টেসলার আর্থিক চাপে ভূমিকা রেখেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
২৩ জুলাই টেসলার শেয়ারদর একদিনেই প্রায় ১৪ দশমিক ৫২ শতাংশ কমে যায়। গত এক মাসে শেয়ারটির দর কমেছে ১৬ শতাংশের বেশি এবং বছরের শুরু থেকে মোট পতন প্রায় ২৯ শতাংশ। বর্তমানে কোম্পানিটির বাজারমূল্য প্রায় ১ দশমিক ২০ ট্রিলিয়ন ডলার।
ইয়াহু ফাইন্যান্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিপুল সম্পদ হারানোর পরও ইলন মাস্ক এখনও বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তি। তার সম্পদের পরিমাণ দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা ধনকুবেরের তুলনায় প্রায় ৬৫০ বিলিয়ন ডলার বেশি।
