তেলের বাজারে নতুন অস্থিরতার শঙ্কা
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৩ আগস্ট ২০২৬, ০৯:০৫ এএম
ছবি : সংগৃহীত
ইরানকে ঘিরে চলমান উত্তেজনা ও হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে অনিশ্চয়তার কারণে বিশ্ববাজারে তেলের দাম বড় ধরনের অস্থিরতায় পড়তে পারে বলে সতর্ক করেছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন। বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি অপরিশোধিত ও পরিশোধিত- উভয় ধরনের জ্বালানির বাজারেই সংকট দেখা দিতে পারে।
রোববার (৩ আগস্ট) প্রকাশিত সিএনএনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও সম্প্রতি সতর্ক করেছেন, যুদ্ধ দ্রুত শেষ না হলে বিশ্ব তেলবাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হতে পারে। যদিও বর্তমানে বাজার তুলনামূলক স্থিতিশীল রয়েছে, তবে কৌশলগত তেলের মজুত কমে আসা, শোধন সক্ষমতার সীমাবদ্ধতা এবং বিকল্প সরবরাহ ব্যবস্থার দুর্বলতা উদ্বেগ বাড়াচ্ছে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, জুনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হলেও তা স্থায়ী হয়নি। যুদ্ধবিরতিও ভেঙে যাওয়ার পর আবারও হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন দেখা দেয়। তবে যুদ্ধবিরতির সময় কয়েক সপ্তাহের জন্য প্রণালি খুলে দেওয়ায় সেখানে আটকে থাকা বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল বিশ্ববাজারে পৌঁছায়, যা তাৎক্ষণিক সংকট অনেকটাই কমিয়ে দেয়।
এ ছাড়া বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ তেল আমদানিকারক দেশ চীন যুদ্ধ শুরুর আগেই বিপুল পরিমাণ তেল মজুত করায় আন্তর্জাতিক বাজারে অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হয়নি। তবে বিশ্লেষকদের মতে, এই স্বস্তি দীর্ঘস্থায়ী নাও হতে পারে। হরমুজ প্রণালির অচলাবস্থা অব্যাহত থাকলে তেলের পাশাপাশি ডিজেল ও জেট ফুয়েলের বাজারেও বড় ধরনের সংকট দেখা দিতে পারে।
আরো পড়ুন : দাম কমাতে কাঁচা মরিচ আমদানির অনুমতি দিল সরকার
প্রতিবেদনে বলা হয়, বর্তমান পরিস্থিতিতে শুধু অপরিশোধিত তেল নয়, পরিশোধিত জ্বালানির সরবরাহও ঝুঁকির মুখে। ইরানের হামলায় মধ্যপ্রাচ্যের প্রায় ৩০টি তেল শোধনাগার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যেগুলো পুরোপুরি সচল হতে কয়েক সপ্তাহ থেকে কয়েক বছর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।
অন্যদিকে ইউক্রেনের ড্রোন হামলার কারণে রাশিয়ার বেশ কয়েকটি শোধনাগার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় দেশটি প্রায় ডিজেল রপ্তানি বন্ধ করে দিয়েছে। যুদ্ধের আগে বৈশ্বিক ডিজেল রপ্তানির প্রায় ১২ শতাংশই রাশিয়া থেকে আসত। একই সঙ্গে পরিবেশগত নীতির কারণে চীনও শোধন কার্যক্রমে কিছু সীমাবদ্ধতা আরোপ করায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে।
যদিও যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে বিশ্বের সর্বোচ্চ তেল উৎপাদনকারী দেশ এবং নিজেদের চাহিদার চেয়েও বেশি অপরিশোধিত তেল উৎপাদন করে, তবু বিশেষজ্ঞদের মতে, এতে পুরো সংকটের সমাধান হবে না। কারণ দেশটিতে উৎপাদিত তেলের বড় অংশ হালকা ধরনের, যা মূলত পেট্রোল উৎপাদনের উপযোগী। বিপরীতে ডিজেল ও জেট ফুয়েলের মতো ভারী জ্বালানি উৎপাদনের জন্য মধ্যপ্রাচ্যের ভারী অপরিশোধিত তেলের ওপর এখনো নির্ভর করতে হয়।
সিএনএনের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, এবার হরমুজ প্রণালিতে আগের মতো বিপুল পরিমাণ তেল আটকে নেই। ফলে প্রণালি খুলে গেলেও আগের মতো দ্রুত সরবরাহ স্বাভাবিক হবে না। একই সময়ে লোহিত সাগরের রুটও ঝুঁকির মুখে পড়ায় বিকল্প পরিবহন ব্যবস্থাও চাপে রয়েছে।
তবে বিশ্লেষকদের আশা, কূটনৈতিক উদ্যোগের মাধ্যমে নৌপথ স্বাভাবিক করা গেলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা এড়ানো সম্ভব হতে পারে।
