৩৯ বছর পর আসছে ২০০ কিমি গতির শক্তিশালী টাইফুন
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৯ জুলাই ২০২৬, ০৪:৫৫ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
চীন, তাইওয়ান ও জাপানের দিকে ধেয়ে আসছে শক্তিশালী টাইফুন ‘বাভি’। ঘণ্টায় প্রায় ২০০ কিলোমিটার বেগে অগ্রসর হওয়া এই ঘূর্ণিঝড়টি ১৯৮৭ সালের পর অঞ্চলটিতে আঘাত হানতে যাওয়া সবচেয়ে বড় আকারের টাইফুন হতে পারে বলে জানিয়েছেন আবহাওয়াবিদরা।
চীনের জাতীয় আবহাওয়া কেন্দ্র জানিয়েছে, প্রায় এক হাজার কিলোমিটার বিস্তৃত ‘বাভি’ উত্তর তাইওয়ানের পাশ দিয়ে অতিক্রম করে শনিবার সন্ধ্যায় চীনের পূর্বাঞ্চলের ফুজিয়ান প্রদেশে আঘাত হানতে পারে। ঝড়টির প্রভাবে উপকূলীয় এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এরই মধ্যে সম্ভাব্য দুর্যোগ মোকাবিলায় তাইওয়ান সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করেছে। দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রায় ২৯ হাজার সেনাকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এছাড়া রাজধানী তাইপের আশপাশের উত্তরাঞ্চলীয় পার্বত্য এলাকায় সর্বোচ্চ এক মিটার পর্যন্ত বৃষ্টিপাত হতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে কেন্দ্রীয় আবহাওয়া প্রশাসন।
তাইওয়ানের কেন্দ্রীয় আবহাওয়া প্রশাসনের পূর্বাভাসকারী জেসন চ্যাং বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এত বড় আকারের টাইফুন খুবই বিরল। তার মতে, ১৯৮৭ সালের পর ‘বাভি’ই দ্বীপটিতে আঘাত হানতে যাওয়া সবচেয়ে বড় ঘূর্ণিঝড় হতে পারে।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের কং-রে টাইফুনের পর এটিই তাইওয়ানে আঘাত হানতে যাওয়া সবচেয়ে শক্তিশালী ঝড় হতে পারে। ওই টাইফুনে তিনজনের মৃত্যু হয়েছিল।
অন্যদিকে, চীনের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় গুয়াংজি অঞ্চলে সম্প্রতি আঘাত হানা টাইফুন ‘মায়সাক’-এর ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার আগেই নতুন এই ঝড়ের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মায়সাকের আঘাতে অন্তত ৩৯ জন নিহত এবং নয়জন নিখোঁজ রয়েছেন। উদ্ধার অভিযান এখনও অব্যাহত রয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে পূর্ব এশিয়ায় ঘূর্ণিঝড়ের তীব্রতা ও ঘনত্ব বাড়ছে। চলতি বছরে এল নিনোর সম্ভাব্য প্রভাব পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। এর ফলে সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেয়ে আরও শক্তিশালী টাইফুন সৃষ্টি হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।
বাণিজ্যিক আবহাওয়া পূর্বাভাস সংস্থা অ্যাকুওয়েদারের বিশেষজ্ঞ জেসন নিকোলস জানান, ঝড়টির বাতাস সাময়িকভাবে কিছুটা দুর্বল হলেও শুক্রবার থেকে সোমবারের মধ্যে তাইওয়ান ও পূর্ব চীনে আঘাত হানার সময় এটি অত্যন্ত বিপজ্জনক অবস্থায় থাকবে।
এদিকে, টাইফুনের প্রভাবে জাপানের ওকিনাওয়া প্রিফেকচারে প্রবল বাতাস, ভারী বৃষ্টি, ভূমিধস, বন্যা ও জলোচ্ছ্বাসের আশঙ্কায় সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। পরিস্থিতির কারণে জাপান এয়ারলাইন্স শুক্রবার ৫০টি ফ্লাইট বাতিল করেছে, যার মধ্যে ৪৮টি অভ্যন্তরীণ এবং দুটি আন্তর্জাতিক। এতে ৭ হাজার ৬১০ জন যাত্রী ভোগান্তিতে পড়বেন। এছাড়া অল নিপ্পন এয়ারওয়েজ শুক্রবার ৩৪টি এবং শনিবার আরও ৩৩টি অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট বাতিল করেছে, যার প্রভাবে প্রায় ৭ হাজার ৭০০ যাত্রী ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।
ইম্পেরিয়াল কলেজ লন্ডনের ক্রান্তীয় ঘূর্ণিঝড় গবেষক শিয়াংবো ফেং বলেন, দীর্ঘ সময় উষ্ণ প্রশান্ত মহাসাগরের ওপর দিয়ে অতিক্রম করায় ‘বাভি’ বিপুল পরিমাণ শক্তি ও আর্দ্রতা সঞ্চয় করেছে। ফলে স্থলভাগে আঘাত হানার সময় এটি ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির কারণ হতে পারে। তিনি আরও বলেন, ঝড়টির গতিপথে সামান্য পরিবর্তনও ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে দিতে পারে।
