সিগন্যালহীন তিন দশক
যানজটে বন্দি বরিশাল নগরী
এম.কে. রানা, বরিশাল
প্রকাশ: ২৩ জুলাই ২০২৬, ০৪:০১ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
একসময় বরিশাল নগরীর আধুনিকতার প্রতীক ছিল ট্রাফিক সিগন্যাল। লাল, হলুদ ও সবুজ বাতির নির্দেশনা মেনে চলত যানবাহন ও পথচারীরা। কিন্তু প্রায় তিন দশক ধরে সেই সিগন্যাল বাতিগুলো অচল হয়ে পড়ে আছে। রক্ষণাবেক্ষণের অভাব, অব্যবস্থাপনা ও দীর্ঘদিনের অবহেলায় নগরীর সাতটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় থেকে হারিয়ে গেছে সিগন্যাল ব্যবস্থার সব চিহ্ন। ফলে প্রতিনিয়ত বাড়ছে যানজট, দুর্ভোগ ও দুর্ঘটনার ঝুঁকি।
সড়ক বিভাগ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, ১৯৯৪ সালে বরিশাল শহরের যান চলাচল আধুনিক করতে ২৮টি ট্রাফিক সিগন্যাল স্থাপনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়। এর অংশ হিসেবে ১৯৯৫ সালে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি আবদুর রহমান বিশ্বাসের সহযোগিতায় নগরীর নথুল্লাবাদ, রূপাতলী, জেলখানা মোড়, কাকলী মোড়, জিলা স্কুল মোড়, সিঅ্যান্ডবি রোডের চৌমাথা ও লঞ্চঘাট এলাকায় ট্রাফিক সিগন্যাল স্থাপন করা হয়। তবে পরবর্তী সময়ে প্রকল্পটি আর সম্প্রসারিত হয়নি।
রক্ষণাবেক্ষণের অভাব ও বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ায় একে একে সব সিগন্যাল অকেজো হয়ে পড়ে। পরে সেগুলোর খুঁটিও অপসারণ করা হয়। ফলে বর্তমানে নগরীর কোথাও কার্যকর ট্রাফিক সিগন্যাল নেই।
আরও পড়ুন: গাজী নজরুলের এমপি পদ থাকবে কি? যা জানালেন ইসি
বরিশাল সাংস্কৃতিক সংগঠন সমন্বয় পরিষদের সাবেক সভাপতি শুভংকর চক্রবর্তী বলেন, পৌরসভা থেকে সিটি করপোরেশনে উন্নীত হওয়ার পাশাপাশি নগরীর আয়তন ও জনসংখ্যা বহুগুণ বেড়েছে। একই সঙ্গে বেড়েছে যানবাহনের সংখ্যাও। কিন্তু ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার না হওয়ায় যানজট এখন নগরবাসীর নিত্যদিনের দুর্ভোগে পরিণত হয়েছে।
জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক আনিচুর রহমান খান স্বপন বলেন, গত তিন দশকে পৌরসভা সিটি করপোরেশনে এবং পরে মহানগর পুলিশ গঠন হলেও আধুনিক ট্রাফিক সিগন্যাল চালুর মতো গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ আর বাস্তবায়ন হয়নি। এটি নগর ব্যবস্থাপনার বড় ব্যর্থতা।
নগরীর কাউনিয়া এলাকার বাসিন্দা সুব্রত পাল বাপ্পী জানান, শিক্ষাজীবনে তিনি জেলখানা মোড়ে সিগন্যালের আলো দেখে যানবাহন চলতে দেখেছেন। তখন চালক ও পথচারীরা নিজেরাই নিয়ম মেনে চলতেন। এখন সেই শৃঙ্খলার জায়গা নিয়েছে বিশৃঙ্খলা ও যানজট।
এ বিষয়ে বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রশাসক বিলকিস আক্তার জাহান শিরিন বলেন, নগরীর গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে পদচারী সেতু নির্মাণের প্রস্তাব স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি আধুনিক স্বয়ংক্রিয় ট্রাফিক সিগন্যাল পুনরায় চালুর বিষয়টিও প্রশাসনের পরিকল্পনায় রয়েছে। তবে অর্থায়নের সীমাবদ্ধতার কারণে প্রকল্প বাস্তবায়নে সময় লাগছে। প্রয়োজনীয় সরকারি বরাদ্দ বা দেশি-বিদেশি অর্থায়ন নিশ্চিত হলে দ্রুত আধুনিক ট্রাফিক সিগন্যাল ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে।
