জানালেন বিমানমন্ত্রী
শাহজালাল বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনালের উদ্বোধন কবে?
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:২৯ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল আগামী ১৬ ডিসেম্বর আংশিকভাবে চালু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী রশিদুজ্জামান মিল্লাত।
মঙ্গলবার (৮ ডিসেম্বর) তৃতীয় টার্মিনাল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ তথ্য জানান।
বিমানমন্ত্রী বলেন, তৃতীয় টার্মিনাল উদ্বোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে টার্মিনালের শুধু ভবন উদ্বোধন করা হয়েছিল। কিন্তু সেটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালুর জন্য প্রয়োজনীয় ইন্টারনেট, মেশিনপত্রসহ বিভিন্ন ব্যবস্থাপনা সম্পন্ন করা হয়নি। এমনকি টার্মিনালটি কীভাবে চালু করা হবে, সে বিষয়েও কার্যকর কোনো পরিকল্পনা ছিল না।
আরও পড়ুন: পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশ ঘিরে যা জানা যাচ্ছে
রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, রাজস্ব ভাগাভাগির ক্ষেত্রে আগে ১৫ শতাংশ বাংলাদেশকে এবং ৮৫ শতাংশ জাপানি কোম্পানিকে দেওয়ার কথা ছিল। একাধিক বৈঠক ও সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে বাংলাদেশের অংশ ২৭ শতাংশে উন্নীত করা সম্ভব হয়েছে। এই রাজস্বের মাধ্যমে টার্মিনাল নির্মাণের ঋণ পরিশোধ করা সম্ভব হবে বলে জানান তিনি।
তিনি আরও জানান, টার্মিনালের ঋণের কিস্তি বর্তমানে সিভিল এভিয়েশনের অন্যান্য খাতের আয় থেকে পরিশোধ করতে হচ্ছে। ইতোমধ্যে ১ হাজার ১০০ কোটি টাকা পরিশোধ করা হয়েছে। আগামী ডিসেম্বরে আরও ৯০০ কোটি টাকা দিতে হবে। তৃতীয় টার্মিনাল চালু করা না গেলে অন্যান্য খাতের আয় থেকেই এভাবে ঋণের কিস্তি পরিশোধ করতে হবে।
মন্ত্রী বলেন, এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে ১৬ ডিসেম্বর তৃতীয় টার্মিনাল অন্তত আংশিকভাবে চালু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন: আওয়ামী লীগের পরবর্তী সভাপতি কে? জানালেন শেখ হাসিনা
এর আগে গত ৩০ আগস্ট সংসদে রশিদুজ্জামান মিল্লাট জানিয়েছিলেন, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল চালুর নামে বিগত ফ্যাসিস্ট সরকার মূলত একটি ভবন উদ্বোধন করেছিল। টার্মিনালের ভেতরের বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ কাজ তখনও সম্পন্ন হয়নি। এটি চালু করতে আরও ৯০২ কোটি টাকা প্রয়োজন হবে বলেও তিনি জানিয়েছিলেন।
উল্লেখ্য, ২০১৭ সালে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল নির্মাণ প্রকল্প গ্রহণ করে। ২১ হাজার ৩৯৮ কোটি টাকা প্রাক্কলিত ব্যয়ে ২০১৯ সালের ২৮ ডিসেম্বর প্রকল্পটির নির্মাণকাজ শুরু হয়। মোট ব্যয়ের মধ্যে সরকার ৫ হাজার কোটি টাকা অর্থায়ন করেছে এবং অবশিষ্ট অর্থ জাপানি সংস্থা জাইকার ঋণ থেকে নেওয়া হয়েছে।
