×

নারীস্বাস্থ্য

এগ ফ্রিজিং

কেন ডিম্বাণু সংরক্ষণ করছেন নারীরা, খরচ-ঝুঁকি কতটা

Icon

কাগজ ডেস্ক

প্রকাশ: ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:৪৫ পিএম

কেন ডিম্বাণু সংরক্ষণ করছেন নারীরা, খরচ-ঝুঁকি কতটা

ছবি: সংগৃহীত

এগ ফ্রিজিং বা ওসাইট ক্রায়োপ্রিজারভেশন এমন একটি চিকিৎসাপদ্ধতি, যেখানে নারীর ডিম্বাশয় থেকে নিষিক্ত না হওয়া ডিম্বাণু সংগ্রহ করে অত্যন্ত কম তাপমাত্রায় হিমায়িত অবস্থায় দীর্ঘ সময় সংরক্ষণ করা হয়। পরবর্তী সময়ে সন্তান নিতে চাইলে এসব সংরক্ষিত ডিম্বাণু ব্যবহার করে গর্ভধারণের চেষ্টা করা যায়। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এ পদ্ধতির জনপ্রিয়তা বাড়ছে। কয়েক বছর ধরে বাংলাদেশেও পাওয়া যাচ্ছে এগ ফ্রিজিংয়ের সেবা।

কিন্তু কেন নারীরা ডিম্বাণু সংরক্ষণ করেন? এ পদ্ধতিতে ভবিষ্যতে সন্তান ধারণের সম্ভাবনা কতটা? বাংলাদেশে এগ ফ্রিজিং করতে খরচই বা কত? আর এ প্রক্রিয়ায় কী ধরনের ঝুঁকি রয়েছে?

কেন নারীরা এগ ফ্রিজিং করেন?

ভবিষ্যতে সন্তান নেওয়ার সুযোগ ধরে রাখতেই মূলত অনেক নারী ডিম্বাণু সংরক্ষণ করেন। কারণ বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নারীর ডিম্বাণুর সংখ্যা ও গুণগত মান কমতে থাকে। এর ফলে পরবর্তী সময়ে স্বাভাবিকভাবে গর্ভধারণের সম্ভাবনাও কমে যেতে পারে।

নিষিক্ত না হওয়া ডিম্বাণু সংগ্রহ করে এই পদ্ধতিতে সংরক্ষণ করা হয়

এ কারণে কেউ কেউ তুলনামূলক কম বয়সে, যখন ডিম্বাণুর গুণগত মান ভালো থাকে, তখন তা সংরক্ষণ করে রাখেন। চিকিৎসাজনিত কারণেও অনেকে ডিম্বাণু সংরক্ষণ করেন।

বিশেষ করে ক্যান্সারের চিকিৎসায় কেমোথেরাপি বা রেডিওথেরাপি নেওয়ার আগে কেউ কেউ ডিম্বাণু সংরক্ষণ করেন। কারণ এসব চিকিৎসা অনেক সময় ডিম্বাশয়ের কার্যক্ষমতার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে, যা পরবর্তী সময়ে সন্তান ধারণের সক্ষমতা কমিয়ে দিতে পারে।

বাংলাদেশের শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের রিপ্রোডাক্টিভ এন্ডোক্রাইনোলজি অ্যান্ড ইনফার্টিলিটি (আরইআই) বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. মেহনাজ মুশতারী সুমি বলেন, “কেমোতে যাওয়া মানেই নারীর ওভারি অনেকখানি ড্যামেজ হয়ে যাবে। তাই, যারা বোঝে তাদের অনেকেই এগ ফ্রিজ করে রাখে।”

একইভাবে ডিম্বাশয়ে অস্ত্রোপচার বা প্রজননক্ষমতায় প্রভাব ফেলতে পারে—এমন কোনো চিকিৎসার আগেও চিকিৎসকের পরামর্শে ডিম্বাণু সংরক্ষণ করা হতে পারে।

তবে চিকিৎসাজনিত কোনো সমস্যা না থাকলেও ব্যক্তিগত কারণেও অনেকে এগ ফ্রিজিং বেছে নেন। যেমন, কেউ হয়তো পড়াশোনা বা ক্যারিয়ারের কারণে এখনই সন্তান নিতে চান না। আবার কেউ উপযুক্ত সঙ্গী না পাওয়ায় সন্তান নেওয়ার সিদ্ধান্ত পিছিয়ে দিতে চান।

এ ধরনের ক্ষেত্রে বয়স বাড়ার সঙ্গে প্রজননক্ষমতা কমে যাওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে আগে থেকেই ডিম্বাণু সংরক্ষণ করে রাখা যায়। এ পদ্ধতিকে বলা হয় ‘সোশ্যাল এগ ফ্রিজিং’।

আমেরিকান কলেজ অব অবস্টেট্রিশিয়ানস অ্যান্ড গাইনোকোলজিস্টসের তথ্য অনুযায়ী, একটি মেয়ে সাধারণত ডিম্বাশয়ে প্রায় ১০ থেকে ২০ লাখ ডিম্বাণু নিয়ে জন্মগ্রহণ করে। জন্মের পর থেকেই ডিম্বাণুর সংখ্যা কমতে শুরু করে। বয়ঃসন্ধিতে এ সংখ্যা প্রায় তিন থেকে পাঁচ লাখে নেমে আসে। ৩৭ বছর বয়সে তা প্রায় ২৫ হাজার এবং ৫১ বছর বয়সে প্রায় এক হাজারে নেমে আসতে পারে।

হাসপাতালের অপারেশন কক্ষে ডিম্বাশয় থেকে ডিম্বাণু সংগ্রহের প্রক্রিয়া

কীভাবে এগ ফ্রিজিং করা হয়?

যুক্তরাজ্যের ফার্টিলিটি চিকিৎসার নিয়ন্ত্রক সংস্থা হিউম্যান ফার্টিলাইজেশন অ্যান্ড এমব্রায়োলজি অথরিটি (এইচএফইএ) অনুযায়ী, এগ ফ্রিজিংয়ের শুরুতে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে নারীর ডিম্বাশয়ের অবস্থা ও ডিম্বাণুর সংখ্যা সম্পর্কে ধারণা নেওয়া হয়।

এরপর ওষুধ দেওয়া হয়, যাতে ডিম্বাশয়ে একসঙ্গে একাধিক ডিম্বাণু পরিপক্ব হয়ে ওঠে।

ডিম্বাণু পরিপক্ব হলে অ্যানেসথেশিয়া বা সেডেশনের মাধ্যমে নারীকে অচেতন বা ঘুমঘুম অবস্থায় রেখে সাধারণত আল্ট্রাসাউন্ডের সাহায্যে যোনিপথ দিয়ে একটি সরু সূচ প্রবেশ করিয়ে ডিম্বাশয় থেকে ডিম্বাণু সংগ্রহ করা হয়। বিশেষ পরিস্থিতিতে পেটের মধ্য দিয়েও ডিম্বাণু সংগ্রহ করা যেতে পারে।

সংগ্রহ করা ডিম্বাণুগুলো সাধারণত ‘ভিট্রিফিকেশন’ পদ্ধতিতে দ্রুত হিমায়িত করা হয়। এরপর তরল নাইট্রোজেনের সাহায্যে প্রায় মাইনাস ১৯৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় দীর্ঘমেয়াদে সংরক্ষণ করা হয়।

পরবর্তী সময়ে কোনো নারী সন্তান নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিলে সংরক্ষিত ডিম্বাণুগুলো হিমায়িত অবস্থা থেকে বের করে আনা হয়। যেসব ডিম্বাণু অক্ষত থাকে, সেগুলোতে শুক্রাণু প্রবেশ করিয়ে নিষিক্ত করা হয়।

গাই’স অ্যান্ড সেন্ট থমাস’ এনএইচএস ফাউন্ডেশন ট্রাস্টের তথ্য অনুযায়ী, হিমায়িত অবস্থা থেকে বের করার পর প্রতি ১০টি ডিম্বাণুর মধ্যে আট থেকে নয়টি টিকে থাকতে পারে।

নিষিক্ত ডিম্বাণু ধীরে ধীরে ভ্রূণে পরিণত হলে একটি সরু নলের মাধ্যমে সেটি জরায়ুতে স্থাপন করা হয়। ভ্রূণটি সফলভাবে জরায়ুতে স্থাপিত হলে গর্ভধারণের সম্ভাবনা তৈরি হয়।

এগ ফ্রিজিং আর এমব্রিও ফ্রিজিং কি একই?

ডিম্বাণু সংরক্ষণের পাশাপাশি চাইলে সঙ্গীর শুক্রাণু ব্যবহার করে ডিম্বাণু নিষিক্ত করে তৈরি হওয়া ভ্রূণও হিমায়িত করে রাখা যায়। একে বলা হয় এমব্রিও ফ্রিজিং।

শুধু ডিম্বাণু সংরক্ষণের বদলে সঙ্গীর শুক্রাণু দিয়ে সেটি নিষিক্ত করে তৈরি হওয়া ভ্রূণও হিমায়িত করে রাখা হয়

এ ক্ষেত্রে ভবিষ্যতে সন্তান নেওয়ার সময় নতুন করে ডিম্বাণু নিষিক্ত করার প্রয়োজন হয় না। সংরক্ষিত ভ্রূণটি হিমায়িত অবস্থা থেকে বের করে সরাসরি জরায়ুতে স্থাপন করা যায়।

অন্যদিকে, আইভিএফ হলো শরীরের বাইরে ডিম্বাণু ও শুক্রাণু নিষিক্ত করে ভ্রূণ তৈরির একটি চিকিৎসাপদ্ধতি। এটি নিজে কোনো সংরক্ষণপদ্ধতি নয়। আইভিএফের মাধ্যমে তৈরি ভ্রূণ সঙ্গে সঙ্গে জরায়ুতে স্থাপন করা যেতে পারে, আবার ভবিষ্যতে ব্যবহারের জন্য হিমায়িত করে রাখা যায়। এভাবে সংরক্ষণ করা হলে সেটিকে এমব্রিও ফ্রিজিং বলা হয়।

বাংলাদেশে এগ ফ্রিজিংয়ের সেবা আছে?

বাংলাদেশেও কয়েক বছর ধরে এগ ফ্রিজিংয়ের সেবা পাওয়া যাচ্ছে। তবে ইনফার্টিলিটি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. রাশিদা বেগমের মতে, চিকিৎসাজনিত কারণ ছাড়া ভবিষ্যতের জন্য ডিম্বাণু সংরক্ষণ বা ‘সোশ্যাল এগ ফ্রিজিং’ এখনো দেশে খুব বেশি জনপ্রিয় হয়নি।

মূলত ক্যান্সারের চিকিৎসায় কেমোথেরাপি নিতে হবে—এমন কিছু নারী ভবিষ্যতে সন্তান নেওয়ার সুযোগ ধরে রাখতে ডিম্বাণু সংরক্ষণ করছেন।

ডা. রাশিদা বেগম বর্তমানে ইনফার্টিলিটি কেয়ার অ্যান্ড রিসার্চ সেন্টারের চেয়ারম্যান। তিনি জানান, তার প্রতিষ্ঠানে গত এক দশকে প্রায় আট থেকে ১০ জন নারী ডিম্বাণু সংরক্ষণ করেছেন। তবে তাদের কেউ এখনো সেই ডিম্বাণু ব্যবহার করতে ফিরে আসেননি।

ফলে বাংলাদেশে এগ ফ্রিজিংয়ের পর সন্তান জন্মদানের সাফল্যের হার সম্পর্কে এখনো পর্যাপ্ত তথ্য পাওয়া যায়নি।

বাংলাদেশে এগ ফ্রিজিং করতে খরচ কত?

ডা. রাশিদা বেগম জানান, তার প্রতিষ্ঠানে ডিম্বাণু সংগ্রহ করা পর্যন্ত প্রায় তিন লাখ ৫০ হাজার থেকে তিন লাখ ৭০ হাজার টাকা খরচ হয়। বয়স ও প্রয়োজনীয় ওষুধের পরিমাণ অনুযায়ী এ খরচ কম-বেশি হতে পারে।

এরপর ডিম্বাণু হিমায়িত করে সংরক্ষণের জন্য এককালীন প্রায় ৫৫ হাজার টাকা দিতে হয়। সংরক্ষণ চালিয়ে যেতে প্রতি বছর দিতে হয় প্রায় ২০ হাজার টাকা।

ডিম্বাণু

তবে তার প্রতিষ্ঠান মূলত ক্যান্সার রোগীদের ডিম্বাণু সংরক্ষণ করায় তাদের কাছ থেকে বার্ষিক সংরক্ষণ ফি নেওয়া হয় না। এ কারণে সংরক্ষিত ডিম্বাণুগুলোর বিষয়ে নিয়মিত যোগাযোগও রাখা হয় না বলে জানান তিনি।

ডা. মেহনাজ মুশতারী সুমি জানান, হাসপাতাল বা সেন্টারভেদে বার্ষিক সংরক্ষণ ফি ভিন্ন হতে পারে। কোথাও কোথাও এ খরচ ৩০ হাজার টাকা বা তারও বেশি।

ডা. রাশিদা বেগম আরও জানান, তার প্রতিষ্ঠানে এমব্রিও ফ্রিজিংয়ের সুবিধাও রয়েছে এবং বাংলাদেশে অনেক নারী এ পদ্ধতির মাধ্যমে পরবর্তী সময়ে সন্তান নিচ্ছেন। এগ ফ্রিজিং ও এমব্রিও ফ্রিজিংয়ের খরচও প্রায় কাছাকাছি।

ডিম্বাণু ফ্রিজ করলেই কি ভবিষ্যতে সন্তান হবে?

ডিম্বাণু সংরক্ষণ করলেই ভবিষ্যতে সন্তান হবে—এমন কোনো নিশ্চয়তা নেই। সন্তান ধারণের সম্ভাবনা অনেকটাই নির্ভর করে কোন বয়সে ডিম্বাণু সংগ্রহ করা হয়েছিল, কতগুলো ডিম্বাণু সংরক্ষণ করা হয়েছে এবং সেগুলোর গুণগত মান কেমন ছিল—এসব বিষয়ের ওপর।

গাই’স অ্যান্ড সেন্ট থমাসের তথ্য অনুযায়ী, ৩৫ বছরের কম বয়সে ১২টি ডিম্বাণু সংরক্ষণ করলে পরবর্তী সময়ে তা ব্যবহার করে গর্ভধারণের সম্ভাবনা প্রায় ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ হতে পারে। আর ২০টি ডিম্বাণু সংরক্ষণ করা থাকলে এ সম্ভাবনা ৭৫ থেকে ৮০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে।

তবে যুক্তরাজ্যের ফার্টিলিটি চিকিৎসার নিয়ন্ত্রক সংস্থা এইচএফইএ বলছে, এগ ফ্রিজিংয়ের প্রযুক্তি দ্রুত উন্নত হলেও সাধারণ আইভিএফের তুলনায় এ পদ্ধতিতে ভ্রূণ স্থানান্তরের সংখ্যা কম। ফলে এগ ফ্রিজিংয়ের সাফল্যের হার নিয়ে এখনো তুলনামূলকভাবে সীমিত নির্ভরযোগ্য তথ্য রয়েছে।

ডিম্বাণু কতদিন সংরক্ষণ করা যায়?

যুক্তরাজ্যে বর্তমানে ডিম্বাণু, শুক্রাণু বা ভ্রূণ সর্বোচ্চ ৫৫ বছর পর্যন্ত সংরক্ষণ করা যায়। তবে সংরক্ষণ চালিয়ে যেতে প্রতি ১০ বছর পরপর নতুন করে সম্মতি দিতে হয়।

দীর্ঘদিন হিমায়িত অবস্থায় রাখলে ডিম্বাণুর কার্যকারিতা কমে যায় কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত হওয়ার মতো পর্যাপ্ত বৈজ্ঞানিক প্রমাণ এখনো নেই বলে জানিয়েছে এইচএফইএ।

ডিম্বাণু সংরক্ষণ করা হলে ভবিষ্যতে সেটি ব্যবহারের সিদ্ধান্ত ওই নারী নিজেই নিতে পারেন। তবে স্বামী, সঙ্গী বা কোনো দাতার শুক্রাণু দিয়ে ডিম্বাণু নিষিক্ত করে ভ্রূণ সংরক্ষণ করা হলে ভবিষ্যতে সেই ভ্রূণ ব্যবহারের জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সম্মতির প্রয়োজন হতে পারে।

এগ ফ্রিজিংয়ে কী ধরনের ঝুঁকি রয়েছে?

এগ ফ্রিজিংয়ের পুরো প্রক্রিয়ায় কিছু ঝুঁকি রয়েছে। গাই’স অ্যান্ড সেন্ট থমাস’ এনএইচএস ফাউন্ডেশন ট্রাস্টের তথ্য অনুযায়ী, ডিম্বাণু পরিপক্ব করতে সাধারণত প্রায় দুই সপ্তাহ হরমোনের ইনজেকশন দেওয়া হয়।

হরমোন ইনজেকশন গ্রহণ

এর একটি সম্ভাব্য জটিলতা হলো ওভারিয়ান হাইপারস্টিমুলেশন সিনড্রোম বা ওএইচএসএস। এ ক্ষেত্রে শরীরে রক্ত জমাট বাঁধার ঝুঁকি বাড়তে পারে এবং পেট বা বুকে তরল জমতে পারে। গুরুতর হলে হাসপাতালে চিকিৎসার প্রয়োজন হতে পারে। তবে ভিট্রিফিকেশন বা ফাস্ট-ফ্রিজিং পদ্ধতি ব্যবহারের ক্ষেত্রে এ ধরনের গুরুতর জটিলতার ঝুঁকি এক শতাংশেরও কম বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

ডিম্বাণু সংগ্রহের প্রক্রিয়াতেও সামান্য ঝুঁকি রয়েছে। সংক্রমণ, রক্তপাত কিংবা আশপাশের অঙ্গ—যেমন মূত্রথলি বা অন্ত্র—ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকতে পারে। অ্যানেসথেশিয়া বা সেডেশনের কারণেও কারও কারও অ্যালার্জি কিংবা শ্বাসকষ্টের মতো জটিলতা দেখা দিতে পারে।

এ ছাড়া হরমোনের ওষুধে ডিম্বাশয় যথেষ্ট সাড়া না দিলে বা সংগ্রহ করা ডিম্বাণু সংরক্ষণের উপযোগী না হলে পুরো প্রক্রিয়াটি মাঝপথে বন্ধ করতে হতে পারে।

ক্যান্সার রোগীদের ক্ষেত্রে সময়ের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। এগ ফ্রিজিংয়ের পুরো প্রক্রিয়ায় অন্তত আড়াই সপ্তাহ সময় লাগতে পারে। ফলে কেমোথেরাপি শুরু করতে কিছুটা দেরি হতে পারে। আবার জরুরি ভিত্তিতে কেমোথেরাপি শুরু করতে হলে ডিম্বাণু সংরক্ষণের সুযোগ নাও থাকতে পারে।

এইচএফইএ বলছে, এগ ফ্রিজিং সাধারণভাবে নিরাপদ হলেও হরমোনের ওষুধ ব্যবহারের কারণে বিভিন্ন পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে ওএইচএসএসের মতো জটিলতাও হতে পারে।

তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—ডিম্বাণু সংরক্ষণ ভবিষ্যতে সন্তান ধারণের একটি সুযোগ তৈরি করে, কিন্তু এটি ভবিষ্যতে গর্ভধারণ বা সন্তান জন্মের নিশ্চয়তা দেয় না। তাই এগ ফ্রিজিংয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে বয়স, প্রজননস্বাস্থ্য, সম্ভাব্য ঝুঁকি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা বিবেচনা করে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

সূত্র: বিবিসি।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

ইমাম-পুরোহিতের সম্মানি ভাতা বাতিল হতে পারে যে কারণে

ইমাম-পুরোহিতের সম্মানি ভাতা বাতিল হতে পারে যে কারণে

ফের বাড়ল সিগারেটের দাম, কোন প্যাকেটে কত

ফের বাড়ল সিগারেটের দাম, কোন প্যাকেটে কত

বাঁধনের ওপর হামলার বিষয়ে যা বললেন তথ্য উপদেষ্টা

বাঁধনের ওপর হামলার বিষয়ে যা বললেন তথ্য উপদেষ্টা

টানা ২০ ঘণ্টা গ্যাস বন্ধ থাকবে যেসব এলাকায়

টানা ২০ ঘণ্টা গ্যাস বন্ধ থাকবে যেসব এলাকায়

সব খবর

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App