ইমাম-পুরোহিতের সম্মানি ভাতা বাতিল হতে পারে যে কারণে
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:৫৮ পিএম
ফাইল ছবি
দেশের মসজিদ, মন্দির, বৌদ্ধ বিহার ও গির্জাসহ বিভিন্ন ধর্মীয় উপাসনালয়ে কর্মরত ব্যক্তিদের আর্থিক ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নতুন নীতিমালা জারি করেছে সরকার। এ নীতিমালায় সম্মানি পাওয়ার যোগ্যতা ও মানদণ্ড নির্ধারণের পাশাপাশি ৯টি কারণে সম্মানি বাতিলের বিধান রাখা হয়েছে।
রোববার ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয় ‘মসজিদ ও অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয়ে কর্মরত ব্যক্তিবর্গের জন্য সম্মানি ও কল্যাণ সহায়তা প্রদান নীতিমালা-২০২৬’ শীর্ষক প্রজ্ঞাপন জারি করে।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন, ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষার প্রসার, সামাজিক মূল্যবোধের বিকাশ এবং ধর্মীয় সম্প্রীতি রক্ষায় মসজিদ, মন্দির, বৌদ্ধ বিহার ও গির্জাসহ অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয়ে কর্মরত ব্যক্তিরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। তাদের কল্যাণে নেওয়া এ উদ্যোগ শুধু আর্থিক সহায়তার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না।
আরও পড়ুন: হাজিদের উদ্বৃত্ত টাকা ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ফেরত যাবে: ধর্মমন্ত্রী
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দক্ষতা উন্নয়নে প্রশিক্ষণেরও ব্যবস্থা করা হবে। প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তাদের বিভিন্ন দক্ষতা বাড়ানোর পাশাপাশি বিকল্পভাবে আয় করার সুযোগ তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হবে।
সম্মানি পেতে যেসব যোগ্যতা লাগবে
নীতিমালা অনুযায়ী, সম্মানি ও কল্যাণ সহায়তা পেতে হলে—
বাংলাদেশের স্থায়ী নাগরিক হতে হবে;
উপজেলা কমিটি কর্তৃক নির্বাচিত ধর্মীয় উপাসনালয়ে—মসজিদ, মন্দির, বৌদ্ধ বিহার বা গির্জায়—কর্মরত হতে হবে;
সংশ্লিষ্ট ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে কর্মরত থাকার বৈধ নিয়োগপত্র থাকতে হবে।
৯ কারণে বন্ধ হবে সম্মানি
নীতিমালায় নির্ধারিত নয়টি কারণে কোনো ব্যক্তির সম্মানি বাতিল হতে পারে। কারণগুলো হলো—
১. নৈতিক স্খলনজনিত বা ফৌজদারি অপরাধে দণ্ডিত হলে।
২. সংশ্লিষ্ট ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হলে বা স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করলে।
৩. প্রদত্ত তথ্যে কোনো ধরনের জালিয়াতি প্রমাণিত হলে।
৪. রাষ্ট্রবিরোধী কোনো কর্মকাণ্ডে লিপ্ত থাকলে।
৫. সম্মানিভোগী ব্যক্তির মৃত্যু হলে।
আরও পড়ুন: যেসব কারণে হজ নিবন্ধনে সাড়া নেই হাজিদের
৬. মসজিদ বা অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয়ে কর্মরত না থাকা সত্ত্বেও সম্মানিভোগী ব্যক্তি হিসেবে নির্বাচিত হলে।
৭. অন্য কোনো সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান, ট্রাস্ট, বিদেশি সংস্থা বা উন্নয়ন প্রকল্প থেকে কোনো ধরনের বেতন-ভাতা পেলে।
৮. সমাজবিরোধী বা অন্য কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেলে।
৯. কোনো রাজনৈতিক দলের সদস্য হলে বা সদস্যপদ বহাল থাকলে।
কে কত টাকা সম্মানি পাবেন?
নীতিমালায় ধর্মীয় উপাসনালয়ের ধরন অনুযায়ী মাসিক সম্মানির পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়েছে।
মসজিদে
মসজিদের ইমাম মাসে ৫ হাজার টাকা, মুয়াজ্জিন ৩ হাজার টাকা এবং খাদেম ২ হাজার টাকা সম্মানি পাবেন। ফলে একটি মসজিদের জন্য মাসিক মোট বরাদ্দ হবে ১০ হাজার টাকা।
মন্দিরে
মন্দিরের প্রধান পুরোহিত মাসে ৫ হাজার টাকা এবং সেবাইত ৩ হাজার টাকা সম্মানি পাবেন। এ খাতে একটি মন্দিরের জন্য মাসিক মোট বরাদ্দ ৮ হাজার টাকা।
বৌদ্ধ বিহারে
বৌদ্ধ বিহারের প্রধান ধর্মগুরু বা বিহার অধ্যক্ষ মাসে ৫ হাজার টাকা এবং উপাধ্যক্ষ ৩ হাজার টাকা সম্মানি পাবেন। এ খাতেও মাসিক মোট বরাদ্দ ৮ হাজার টাকা।
গির্জায়
গির্জার প্রধান যাজক মাসে ৫ হাজার টাকা এবং সহকারী যাজক ৩ হাজার টাকা সম্মানি পাবেন। গির্জার জন্য মাসিক মোট বরাদ্দ ৮ হাজার টাকা।
ধর্মীয় উৎসবে মিলবে আলাদা ভাতা
মাসিক সম্মানির পাশাপাশি ধর্মীয় উৎসব উপলক্ষে এককালীন ভাতারও ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
মসজিদে কর্মরত ও সম্মানিভোগী ব্যক্তিরা ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহায় প্রতিবার ১ হাজার টাকা করে উৎসব ভাতা বা বোনাস পাবেন।
অন্যদিকে মন্দির, বৌদ্ধ বিহার ও গির্জায় কর্মরত সম্মানিভোগীরা যথাক্রমে দুর্গাপূজা, বুদ্ধ পূর্ণিমা ও বড়দিন উপলক্ষে ২ হাজার টাকা করে এককালীন উৎসব ভাতা পাবেন।
সরকারের নতুন এ নীতিমালার মাধ্যমে ধর্মীয় উপাসনালয়ে কর্মরত ব্যক্তিদের আর্থিক সহায়তার পাশাপাশি তাদের দক্ষতা উন্নয়ন ও সামাজিক নিরাপত্তা জোরদারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
