বাউফলে বিদ্যুতের ভয়াবহ লোডশেডিংয়ে নাকাল দেড় লাখ গ্রাহক
অতুল পাল, বাউফল (পটুয়াখালী)
প্রকাশ: ০৩ আগস্ট ২০২৬, ০৫:২২ পিএম
প্রতীকী ছবি
বাউফলে বিদ্যুতের ভয়াবহ লোডশেডিংয়ে জনজীবনে চরম বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। বিদ্যুৎ কখন আসবে, তার জন্য তীর্থের কাকের মতো তাকিয়ে থাকতে হচ্ছে অফিস, কল-কারখানা, শিক্ষার্থী, শ্রমিকসহ সর্বস্তরের মানুষকে।
ঝিমিয়ে পড়ছে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শ্রেণির কল-কারখানাগুলো। কাজ করতে না পেরে সংসারে টান পড়েছে শ্রমিকদের। আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন মালিকরা। বিঘ্ন ঘটছে শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ায়। রাতে অসহ্য গরমে ঘুমাতে না পেরে শ্রমিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের শারীরিক কর্মক্ষমতা হ্রাস পাচ্ছে। সুস্থ-স্বাভাবিক মানুষও অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। খুব শিগগিরই যে এর কোনো উন্নতি ঘটবে, এমন সংবাদও দিতে পারছেন না বিদ্যুৎ বিভাগের কর্তাব্যক্তিরা। অপরদিকে বর্ধিত মূল্যে বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করতে গিয়ে যেন ‘মরার ওপর খাঁড়ার ঘা’ নেমে এসেছে সাধারণ মানুষের ওপর।
বর্তমানে বাউফলে এক থেকে আড়াই ঘণ্টা লোডশেডিং দিয়ে ৩০ থেকে ৫০ মিনিট বিদ্যুৎ দিয়ে আবার লোডশেডিং দেওয়া হচ্ছে। এভাবেই রাত-দিন চলছে। এর ফলে শিক্ষার্থীরা নিয়মিত লেখাপড়া করতে পারছে না। স্কুল-কলেজে ঠিকভাবে পাঠদান হচ্ছে না এবং ল্যাবের কার্যক্রম প্রায়ই বন্ধ থাকছে। সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে ডিজিটালভিত্তিক কাজকর্মে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। এলাকার বরফকল, করাতকলগুলো চালু না থাকায় শ্রমিকরা বেকার হয়ে পড়ছেন। ফলে তাদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় মারাত্মক প্রভাব পড়ছে। ছোট-বড় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোতেও বিরূপ প্রভাব পড়ছে। প্রায়ই বাসাবাড়ির টেলিভিশন, ফ্রিজ, মোটরসহ অন্যান্য বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম নষ্ট হচ্ছে। বিদ্যুতের ভয়াবহ লোডশেডিং নিয়ে সাধারণ মানুষ বিগত সরকারগুলোর সঙ্গে তুলনা করে বিরূপ মন্তব্য করছেন।
বাউফল পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) মো. মজিবুর রহমান চৌধুরী জানান, বাউফলে প্রায় ১ লাখ ৩০ হাজার গ্রাহক রয়েছে। দিনের চাহিদা ১১ মেগাওয়াট। পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ৪ থেকে ৬ মেগাওয়াট। রাতের চাহিদা ১৮ মেগাওয়াট, কিন্তু পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ৬ থেকে ১০ মেগাওয়াট। যার কারণে সাম্প্রতিক সময়ে লোডশেডিং বৃদ্ধি পেয়েছে। অকপটে তিনি জানান, গ্যাস সংকটের কারণে বিদ্যুতের উৎপাদন কমে গেছে। শিগগিরই এর থেকে উত্তরণ কতটা সম্ভব, সেটা বলা মুশকিল। আমরা সরকার থেকে বিদ্যুৎ ক্রয় করে আপনাদের কাছে বিক্রি করছি। আমরা তো আর উৎপাদনের সঙ্গে সংযুক্ত নই।
পায়রা এবং ভোলায় উৎপাদিত বিদ্যুৎ বরিশাল বিভাগে বণ্টন করা হচ্ছে কি না, এমন প্রশ্ন করা হলে বাউফল পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, এটা জাতীয় পর্যায়ের সিদ্ধান্তের বিষয়। তবে পায়রা ও ভোলায় উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যোগ হয়ে আফতাবনগর বিতরণ কেন্দ্র থেকে লোড ভাগ করে দেওয়া হয়।
এদিকে বিদ্যুতের লোডশেডিংয়ের কারণে মুরগির ফার্মেরও ক্ষতি হচ্ছে বলে একাধিক ফার্মার জানিয়েছেন। যথাযথভাবে বরফ উৎপাদন করতে না পারায় বাউফলের কালাইয়া থেকে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে মৎস্য বিপণন বিঘ্নিত হচ্ছে। আওয়ামী লীগ আমলে বাউফল উপজেলা শতভাগ বিদ্যুতায়িত হওয়ার পর পারিবারিকভাবে বিদ্যুৎনির্ভর কুটিরশিল্প, ক্ষুদ্র ব্যবসা এবং কম্পিউটারনির্ভর বহু প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। সেগুলো এখন সংকটে রয়েছে। এক কথায়, বিদ্যুতের ভয়াবহ লোডশেডিং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় ব্যাপক প্রভাব ফেলেছে।
