বৃষ্টিতে এক মাস পিছিয়ে আমন চাষ, ফলন নিয়ে চিন্তায় কৃষকেরা
কামরুল হাসান রুবেল, রাঙ্গাবালী (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:৩৮ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
আমন চাষের মৌসুম শেষের দিকে হলেও পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলায় এখনো অনেক কৃষক জমি প্রস্তুত ও ধানের চারা রোপণের কাজ শেষ করতে পারেননি। স্থানীয়ভাবে এ কাজ ‘হালুটি’ নামে পরিচিত। মৌসুমের শুরুতে টানা বৃষ্টিতে বীজতলার চারা নষ্ট হওয়া এবং পরে বীজ সংকট দেখা দেওয়ায় এবার আমন চাষ প্রায় এক মাস পিছিয়ে গেছে। দেরিতে তৈরি হওয়া দ্বিতীয় দফার চারা রোপণে এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকেরা।
কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সাধারণত শ্রাবণের শুরু থেকে ভাদ্রের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত আমন চাষের উপযুক্ত মৌসুম। এ সময়ের মধ্যেই হালুটি শেষ করেন কৃষকেরা। কিন্তু চলতি মৌসুমের শুরুতে টানা বর্ষণে প্রথম দফায় তৈরি করা অনেক বীজতলার চারা পচে নষ্ট হয়ে যায়। বাধ্য হয়ে নতুন করে বীজধান বুনতে হয় কৃষকদের। এতে অনেক কৃষককে প্রায় ১৫ দিন চারা সংকটে থাকতে হয়েছে।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের কৃষি বিভাগ থেকে বীজধান দিয়ে সহায়তা করা হলেও প্রয়োজনের তুলনায় তা পর্যাপ্ত ছিল না বলে জানান কয়েকজন কৃষক। বর্তমানে দ্বিতীয় দফায় তৈরি করা চারা রোপণের উপযোগী হওয়ায় দ্রুত জমি প্রস্তুত করে চারা রোপণে নেমেছেন তারা।
আরো পড়ুন: শাপলা চত্বর গণহত্যা শেখ হাসিনাসহ পলাতকদের ফেরাতে ইন্টারপোলের রেড নোটিশের উদ্যোগ
উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, ভাড়ায় নেওয়া ট্রাক্টর দিয়ে দ্রুত জমি চাষ ও প্রস্তুতের কাজ চলছে। পাশাপাশি জমিতে চারা রোপণ করছেন কৃষকেরা। পিছিয়ে পড়া হালুটি দ্রুত শেষ করতে এক জমি থেকে অন্য জমিতে ছুটছেন তারা। সময়মতো চাষ শেষ করার জন্য অনেকটা প্রতিযোগিতার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
কৃষকেরা জানান, ট্রাক্টরের ব্যবহার বাড়ায় অল্প সময়েই জমি প্রস্তুত করা সম্ভব হচ্ছে। তবে এবার অতিরিক্ত বৃষ্টির পানি জমে থাকায় চাষাবাদে বেশ ভোগান্তি হয়েছে। এতে নির্ধারিত সময়ের তুলনায় প্রায় এক মাস পিছিয়ে গেছে আমন চাষ। বাকি কাজ শেষ করতে আরও ১০ থেকে ১৫ দিন সময় লাগতে পারে। ফলে ভাদ্র মাস পেরিয়ে আমন চাষ শেষ হওয়ার আশঙ্কা করছেন তারা।
বড়বাইশদিয়া ইউনিয়নের কৃষক ও ভাড়ায় চালিত ট্রাক্টর মালিক আলী আকবর, মো. লিটন সিকদার ও আসগর হাওলাদার বলেন, আগে গরু-মহিষ দিয়ে জমি চাষ করতে গিয়ে জ্যৈষ্ঠ থেকে আশ্বিন মাস পর্যন্ত সময় লেগে যেত। বর্তমানে ট্রাক্টরের ব্যবহার বাড়ায় দেড় মাসের মধ্যেই হালুটি শেষ করা সম্ভব। তবে এ বছর টানা বৃষ্টিতে বীজতলার চারা নষ্ট হওয়া ও জমিতে পানি জমে থাকায় আমন চাষ প্রায় এক মাস পিছিয়ে গেছে। তারপরও ভাদ্র মাসের মধ্যেই বাকি কাজ শেষ করার আশা করছেন তারা।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান জানান, চলতি মৌসুমে রাঙ্গাবালী উপজেলায় ২৯ হাজার ১৪০ হেক্টর জমিতে আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ১ হাজার ২০ হেক্টর জমি আগাম তরমুজ চাষের জন্য রাখা হয়েছে।
তিনি বলেন, টানা বর্ষণে কিছু বীজ নষ্ট হলেও পরে কৃষকেরা নতুন করে বীজ বপন করায় ঘাটতি অনেকটাই পূরণ হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহায়তাও দেওয়া হয়েছে। চারা রোপণের কাজ পুরোপুরি শেষ হতে আরও ১০ থেকে ১২ দিন সময় লাগতে পারে। তবে দেরিতে চাষ শুরু হওয়ায় আমনের ফলনে সামান্য তারতম্য হতে পারে।
