আখাউড়া রেলওয়ে জংশন
অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্নের পরও রয়েছে বহু সংযোগ
বাদল আহাম্মদ খান, আখাউড়া (ব্রাহ্মণবাড়িয়া)
প্রকাশ: ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:৪৯ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া রেলওয়ে জংশনের অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন অভিযানের পরও বহু অবৈধ সংযোগ রয়েছে। অভিযানের সময় কর্তন করা কিছু সংযোগ আবারও লাগানো হয়েছে। মঙ্গলবার এক অভিযানে ৩০টি অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয় বলে জানান রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন উপসহকারী প্রকৌশলী (বিদ্যুৎ) মো. মাহাবুবুল আলম।
তবে রেলওয়ে জংশন এলাকায় অবৈধ সংযোগের সংখ্যা আরও অনেক বেশি বলে অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, শুধু কয়েকটি সংযোগ বিচ্ছিন্ন না করে রেলওয়ে জংশন এলাকার সব বাসা, কোয়ার্টার ও দোকানে বিদ্যুৎ সংযোগের বৈধতা যাচাই করা হোক। আর এসব অবৈধ সংযোগের সঙ্গে কারা জড়িত, তা তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
আরও পড়ুন: অসুস্থতায় জন্য মিড সেমিস্টার পরীক্ষা না দিলে শিক্ষার্থীকে গুণতে হবে জরিমানা
জানা গেছে, আখাউড়া রেলওয়ে জংশন এলাকায় তিন শতাধিক বাসা বা কোয়ার্টার রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ বাসায় রেলওয়ের কোনো কর্মচারী বসবাস করেন না। এসব বাসায় বহিরাগতরা বসবাস করছেন বলে জানা গেছে। অভিযোগ রয়েছে, তাদের অনেকেই অবৈধভাবে বিদ্যুৎ সংযোগ নিয়ে বিদ্যুৎ ব্যবহার করছেন। শুধু রেলওয়ের আবাসিক কোয়ার্টার নয়, জংশন এলাকার বেশ কিছু দোকানেও অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ রয়েছে । নিয়মিত অভিযান না থাকায় অবৈধ সংযোগের বিস্তার ঘটেছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।
অভিযোগ রয়েছে, এসব অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগের পেছনে রেলওয়ের বিদ্যুৎ বিভাগের কতিপয় অসাধু কর্মচারীর যোগসাজশ রয়েছে। তাদের সহযোগিতা ছাড়া দীর্ঘদিন ধরে এভাবে অবৈধভাবে বিদ্যুৎ ব্যবহার করা সম্ভব হতেো না।
একটি সূত্র জানায়, আখাউড়া রেলওয়ে জংশনে বিভিন্ন বিভাগে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আবাসনের জন্য স্টেশনসংলগ্ন এলাকায় প্রায় তিনশ আবাসিক কোয়ার্টার রয়েছে। তবে অধিকাংশ বাসাতেই রেলওয়ের কর্মচারীরা বসবাস করেন না। আবার কিছু বাসা বরাদ্দ নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মচারীরা নিজেরা না থেকে ভাড়া দিয়ে রেখেছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, রেলওয়ে কলোনীতে অন্তত দেড় শতাধিক বাসা ও ২০-২৫টি দোকানে অবৈধ সংযোগ রয়েছে। এসব বাসা ও দোকানে লাইট, ফ্যানের পাশাপাশি টিভি, ফ্রিজ, আয়রন ও বৈদ্যুতিক হিটার ব্যবহার করা হচ্ছে। এছাড়া কলোনীতে অটোরিকশা চার্জ দেওয়া হয়। এসব অতিরিক্ত বিদ্যুৎ ব্যবহারের বিল গুনতে হচ্ছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষকে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক রেলওয়ে কর্মচারী বলেন, অবৈধ সংযোগের কারণে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ খরচ হচ্ছে। এতে রেলওয়েকে অনেক বেশি বিল দিতে হচ্ছে। বিদ্যুৎ অফিসের লোকজন এই অবৈধ সংযোগের সাথে জড়িত।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে আখাউড়া রেলওয়ে জংশনের উর্ধতন উপসহকারী প্রকৌশলী (বিদ্যুৎ) মোঃ মাহবুবুল আলম বলেন, ৩০টির মতো অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। সময় স্বল্পতার কারণে কিছু এলাকায় যেতে পারিনি। আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
