কৃষক পরিবারের ওপর হামলার বিচার দাবি
ঢামেকে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন আহত মেহেদী
ঝালকাঠি প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:৫১ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
ঝালকাঠির রাজাপুরে জমিজমা বিরোধের জেরে কৃষক আইউব আলী শরীফ ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের ওপর হামলার ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার গালুয়া ইউনিয়নের সর্বস্তরের জনগণের উদ্যোগে রাজাপুর-ভান্ডারিয়া আঞ্চলিক মহাসড়কের গালুয়া ইউনিয়ন পরিষদের সামনে ঘণ্টাব্যাপী এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। পরে গালুয়া বাজার এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল করেন স্থানীয়রা। মানববন্ধনে বক্তব্য দেন সালমা বেগম, রুহুল শরীফ, তাসলিমা বেগম ও আরিফ হোসেনসহ স্থানীয়রা।
মানববন্ধনে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। এ সময় বক্তারা অভিযোগ করেন, জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে সাইফুল, শহীদ, তৈয়ব আলী, সালমা, ওলিদ ও হাসিবসহ কয়েকজন পরিকল্পিতভাবে কৃষক আইউব আলী শরীফ, তাঁর ছেলে মেহেদী হাসানসহ পরিবারের সদস্যদের ওপর হামলা চালান। তাঁদের কুপিয়ে ও পিটিয়ে আহত করার পাশাপাশি বসতঘরেও হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ করেন তাঁরা।
আরও পড়ুন: রাজশাহীতে সারের সংকট নেই, গুদামে মজুত চাহিদার কয়েক গুণ
হামলায় গুরুতর আহত মেহেদী হাসানকে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে তাঁর অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে তিনি মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন বলে পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন।
পরিবারের অভিযোগ, গত শুক্রবার রাতে হামলার সময় তাঁদের পরিবারের চার-পাঁচজন সদস্য আহত হন। এছাড়া ১৪ বছর বয়সী এক কিশোরকে তুলে নিয়ে আটকে রেখে নির্যাতন করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাঁদের উদ্ধার করে এবং আহতদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করে।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, একটি কৃষক পরিবারের ওপর এ ধরনের হামলা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। এ ঘটনায় মামলা হওয়ার পরও চার দিন পার হলেও কোনো আসামি গ্রেপ্তার না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন তাঁরা। দ্রুত আসামিদের গ্রেপ্তার, সুষ্ঠু তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক বিচারের দাবি জানান তাঁরা। অন্যথায় আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন স্থানীয়রা।
রাজাপুর থানার ওসি (তদন্ত) মো. ফিরোজ কামাল বলেন, মামলার আসামিরা গা-ঢাকা দিয়েছে। তাঁদের গ্রেপ্তারে সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তবে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করে অভিযুক্ত তৈয়ব আলীর শ্যালক আল আমিন বলেন, ঘটনার সময় তাঁদের পক্ষেরও চার-পাঁচজন আহত হয়েছেন। তিনিও ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেন।
