×

বরিশাল

হুমকিতে প্রকৃতি ও পরিবেশ

গঙ্গামতি সংরক্ষিত বন ঘেঁষে নির্মাণ করা হচ্ছে স্থাপনা

Icon

আনোয়ার হোসেন আনু, কুয়াকাটা (পটুয়াখালী)

প্রকাশ: ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:০৭ পিএম

গঙ্গামতি সংরক্ষিত বন ঘেঁষে নির্মাণ করা হচ্ছে স্থাপনা

ছবি: সংগৃহীত

কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতের পর্যটনপল্লী গঙ্গামতি লেকের পাশেই সংরক্ষিত ম্যানগ্রোভ বন ঘেঁষে স্থাপনা তোলার কাজ চলছে। বন বিভাগকে বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়ে ধুলাসার ইউনিয়নের ধোলাই মার্কেটের পশ্চিম দিকে এই স্থাপনা তোলা হচ্ছে।

জলাশয়ের মাঝখানে৷ গত চারদিন ধরে নির্বিঘ্নে স্থাপনাটি তোলার কাজ চললেও বনবিভাগ ও ভূমি অফিসের কেউ বিষয়টি নজরে নেয়নি। ফলে সংরক্ষিত ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চলসহ প্রাকৃতিক জলাশয় এবং লেক হুমকিতে এমন আশঙ্কা পরিবেশ কর্মীদের। স্থানীয় সাধারণ মানুষ এনিয়ে মুখ খুলতে রাজি নন। তাদের এনিয়ে কোন ভাবনাও নেই।

পরিবেশ প্রকৃতি, পর্যটন এলাকার সবুজ বনভূমি বা সবুজ বেস্টনী রক্ষায় কুয়াকাটা সৈকতের লেম্বুরবন (খাজুরা) বন, গঙ্গামতি হয়ে কাউয়ার চর পর্যন্ত বেড়িবাঁধের বাইরে কোন ধরনের স্থাপনা তুলতে উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকলে তা উপেক্ষা করে এই স্থাপনা তোলার কাজ চলছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, জলাশয় ও লেকের পাশে কাঠের এই স্থাপনা নির্মাণ কাজ চলছে। ইতোমধ্যে খুটি বসানো হয়েছে। কাঠের পাটাতনের কাজ চলছে। অভিযোগ রয়েছে বনের গাছ দিয়েই বনের পাশে ঘর তোলা হচ্ছে।

সবুজ ম্যানগ্রোভ বনঘেঁষা এমন স্থাপনা তোলার কাজ চললেও ওই এলাকার কোন সাধারণ মানুষ এনিয়ে কথা বলতে চায় না। কে তুলছে, কারা তুলছে, কেন তুলছে, কী হচ্ছে এমন প্রশ্নেরও উত্তর দিয়ে কেউ বিপদে পড়তে চায় না। তবে জনশ্রুতি রয়েছে তিন প্রভাবশালী ব্যক্তি মিলে এই স্থাপনা তোলার কাজ চলমান রেখেছেন। এটি যাতে বন্ধ না হয় এজন্য আবার তাঁদের ভিন্ন কৌশলও রয়েছে!

পরিবেশ কর্মী নজরুল ইসলাম বলেন, গঙ্গামতির সংরক্ষিত বনাঞ্চল পরিবেশ সংবেদনশীল এলাকা। এখানে সংরক্ষিত কিংবা ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চলের মধ্যে প্রাকৃতিক জলাশয়, লেকের আশাপাশে কোন ধরনের স্থাপনা তোলা হলে তা পরিবেশের জন্য ঝুঁকি বয়ে আনবে। বনাঞ্চল ধ্বংসের শঙ্কা তৈরি হবে। এছাড়া কুয়াকাটা সৈকত এলাকার পরিবেশ প্রকৃতি রক্ষায় উচ্চ আদালতের নির্দেশনা রয়েছে। যা অনুসরণ করে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন বলে এই পরিবেশ কর্মী মনে করছেন।

বনবিভাগ গঙ্গামতির বিট কর্মকর্তা আলমগীর হোসেন জানান, প্রথমদিন তিনি ওই স্থাপনা তুলতে বাধা দিয়েছেন। কিন্তু তারা নিজের জমি দাবি করে কাজ করছেন। তারপরও তিনি উপজেলা ভূমি প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছেন বলে জানান। তবে পরিবেশ সংবেদনশীল এলাকায় স্থাপনা তুলতে বনবিভাগ ও পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র আছে কি না তা তিনি জানাতে পারেননি। স্থানীয়দের মাঝে এমন প্রশ্নও উঠছে ঘর নির্মাণ কাজ  ৩০ ভাগ হয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত বনবিভাগকে কোন ভূমিকা নিতে দেখা যায়নি।

এ বিষয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও কুয়াকাটা পৌর প্রশাসক মোঃ ইয়াসীন সাদেক বলেন, বিষয়টি খোঁজখবর নিয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তবে পরিবেশ কর্মী এবং পর্যটন নিয়ে কাজ করে এমন অনেকেই অবাক হয়েছেন। তাদের প্রশ্ন পরিবেশ সংবেদনশীল এলাকায় কোন স্থাপনা তুলতে হলে পরিবেশ অধিদপ্তর, বনবিভাগের ছাড়পত্র প্রয়োজন রয়েছে। এসব ছাড়াই মূলত পরিবেশবিনাশি এ কর্মকান্ড প্রান প্রকৃতি ও পর্যটনে বড় পড়বে বলে তাদের আশঙ্কা।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

‘আগামী অধিবেশনেই পাস হবে সৌরবিদ্যুৎ আইন’

‘আগামী অধিবেশনেই পাস হবে সৌরবিদ্যুৎ আইন’

সরকার পতন আন্দোলনের হুমকি জামায়াত আমিরের

সরকার পতন আন্দোলনের হুমকি জামায়াত আমিরের

ধেয়ে আসছে ঘূর্ণিঝড় ‘মুরাসু’, আঘাত হানবে কোথায়?

ধেয়ে আসছে ঘূর্ণিঝড় ‘মুরাসু’, আঘাত হানবে কোথায়?

‘এবারের এইচএসসির ফলাফলই প্রকৃত চিত্র, বিএনপি সরকারকে সাধুবাদ’

‘এবারের এইচএসসির ফলাফলই প্রকৃত চিত্র, বিএনপি সরকারকে সাধুবাদ’

সব খবর

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App