হুথি মোকাবিলায় সৌদিকে সহায়তা করবে ইসরাইল
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:২৪ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
হুথিদের সামরিক হুমকি মোকাবিলায় সৌদি আরবকে সহায়তার বিষয়ে গোপনে আলোচনা করেছে ইসরাইল ও সৌদি আরব। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এ আলোচনায় মধ্যস্থতা করেছে বলে জানিয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের কূটনৈতিক সূত্র। মঙ্গলবার সূত্রের বরাত দিয়ে এ তথ্য প্রকাশ করেছে ওয়ালা ও জেরুজালেম পোস্ট।
কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, গত এক সপ্তাহে সৌদি আরবের বিরুদ্ধে হুথিদের হামলা বেড়েছে। তেলের পাইপলাইন ও পাম্পিং স্থাপনায় ড্রোন হামলার কারণে একটি প্রধান পাইপলাইনের কার্যক্রম আংশিকভাবে ব্যাহত হয়েছে। ইয়েমেন-সৌদি সীমান্তের কাছাকাছি একটি মসজিদ ও আশপাশের ভবনে থাকা বেসামরিক নাগরিকদের ওপরও হামলার অভিযোগ রয়েছে।
এ ছাড়া লোহিত সাগরের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি দ্বীপের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার দাবি করেছে হুথিরা। বাব আল-মান্দাব প্রণালি দিয়ে সৌদি জাহাজ চলাচলও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে বলে সূত্রগুলো জানিয়েছে। তাদের ভাষায়, এসব কর্মকাণ্ড সৌদি আরবের ওপর এক ধরনের ‘অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক অবরোধ’ তৈরি করেছে।
পরিস্থিতি নিয়ে সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশেও উদ্বেগ বাড়ছে। নিরাপত্তা সূত্রগুলোর আশঙ্কা, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরান ও হুথিদের সঙ্গে কোনো সমঝোতায় পৌঁছায়, তাহলে সৌদি আরবসহ অন্যান্য দেশকে এককভাবে এই হুমকি মোকাবিলা করতে হতে পারে।
কূটনৈতিক সূত্রের দাবি, সৌদি আরবের নিরাপত্তা জোরদারে সহায়তার লক্ষ্যেই সেন্টকমের মধ্যস্থতায় ইসরাইলের সঙ্গে এ আলোচনা হয়েছে। ইসরাইলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) আগে থেকেই হরমুজ প্রণালির আশপাশে সামরিক ও গোয়েন্দা সক্ষমতা প্রদর্শন করেছে। ইরানি বাহিনীর অবস্থান সম্পর্কে যুক্তরাষ্ট্রকে তথ্য সংগ্রহেও ইসরাইল সহায়তা করেছে বলে সূত্রগুলো জানিয়েছে।
সৌদি আরবের পক্ষ থেকে ইসরাইলের কাছে সহায়তার অনুরোধ মূলত গোয়েন্দা তথ্যকেন্দ্রিক বলে জানা গেছে। হুথিদের সামরিক অবস্থান সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া এবং সম্ভাব্য ভবিষ্যৎ অভিযানের পরিকল্পনা শনাক্ত করতে এসব তথ্য কাজে লাগতে পারে।
এদিকে ব্লুমবার্গের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সৌদি আরব যুক্তরাজ্যের কাছেও সহযোগিতা চেয়েছে। বাব আল-মান্দাব প্রণালি থেকে হুথিদের সরিয়ে দেওয়া এবং তেল অবকাঠামো সুরক্ষায় সহায়তা চেয়েছে রিয়াদ। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বার্নহাম সামরিক উপদেষ্টা পাঠাতে সম্মতি জানিয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে অতিরিক্ত কোনো সহায়তার প্রতিশ্রুতি এখনো দেওয়া হয়নি।
এর মধ্যেই সৌদি আরবের বেসামরিক পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে ইসরাইলের নিরাপত্তা মহলে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সৌদিকে বেসামরিক পারমাণবিক কর্মসূচি গড়ে তোলার সুযোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর এ উদ্বেগ আরও বেড়েছে।
সৌদি আরবের সঙ্গে ইসরাইলের সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণের বিষয়টিও আলোচনায় রয়েছে। সৌদি আরবের অবস্থান হলো, ইসরাইল-ফিলিস্তিন সংঘাতের সমাধানের পরই ইসরাইলের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়া হবে।
তবে আনুষ্ঠানিক সম্পর্ক না থাকলেও মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে সৌদি আরব ও ইসরাইলের কিছু অভিন্ন স্বার্থ রয়েছে। অঞ্চলজুড়ে ক্রমবর্ধমান নিরাপত্তা হুমকির প্রেক্ষাপটে দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতা নিয়ে একটি কূটনৈতিক রোডম্যাপ তৈরির উদ্যোগ সামনে আসতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো ধারণা করছে।
