তিন মাসের বেশি সময় ধরে ইন্টারনেট বন্ধ
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:১৪ পিএম
পাকিস্তানশাসিত কাশ্মীরে মোবাইল ডেটা ও ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট পরিষেবা টানা ১০০ দিনেরও বেশি সময় ধরে বন্ধ রয়েছে। ছবি: সংগৃহীত
পাকিস্তানশাসিত কাশ্মীরে মোবাইল ডেটা ও ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট পরিষেবা টানা ১০০ দিনেরও বেশি সময় ধরে বন্ধ রয়েছে। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, গত জুনে নির্বাচনী সংস্কারের দাবিতে বিক্ষোভ শুরুর পর থেকেই এ বিধিনিষেধ কার্যকর রয়েছে।
চলমান অস্থিরতার মধ্যেই তিন ধাপে অঞ্চলটিতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। সর্বশেষ ধাপের ভোটগ্রহণ শেষ হয় গত ১০ আগস্ট। এরই মধ্যে নতুন সরকার গঠিত হলেও সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউটের প্রভাব এখনও অব্যাহত রয়েছে।
ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ থাকায় অনলাইন ব্যাংকিং অ্যাপ ও ওয়েবসাইট ব্যবহার করতে পারছেন না স্থানীয়রা। এতে ব্যবসা-বাণিজ্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। একই সঙ্গে শিক্ষা কার্যক্রমেও দেখা দিয়েছে বড় ধরনের অচলাবস্থা। ইন্টারনেট-নির্ভর বিভিন্ন কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ায় প্রশাসনকে কয়েকটি প্রবেশিকা পরীক্ষা স্থগিত করতে হয়েছে।
আরও পড়ুন: স্ত্রীর মাথা কেটে রেখে দেন ফ্রিজে, অতঃপর
ইন্টারনেট নজরদারি সংস্থা নেটব্লকস জানিয়েছে, গত ৫ জুন থেকে অঞ্চলটিতে আংশিক ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত কার্যকর রয়েছে।
ভারত ও পাকিস্তান উভয় দেশই পুরো কাশ্মীরের ওপর সার্বভৌমত্বের দাবি করে। তবে পাকিস্তান-নিয়ন্ত্রিত অংশে একটি আধা-স্বায়ত্তশাসিত শাসনব্যবস্থা চালু রয়েছে। এর আওতায় ৪৫ আসনের আইনসভায় ভারতে বসবাসরত কাশ্মীরি শরণার্থীদের জন্য ১২টি আসন সংরক্ষিত রয়েছে।
এই সংরক্ষিত আসনগুলো বাতিলের দাবিতে ‘জম্মু কাশ্মীর জয়েন্ট আওয়ামি অ্যাকশন কমিটি’ (জেকেজেএএসি) আন্দোলন শুরু করে। পরে ৫ জুন সংগঠনটিকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়। এরপর শুরু হওয়া সহিংস সংঘাতে সাতজন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যসহ অর্ধশতাধিক মানুষ নিহত হয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্রের বরাতে জানা গেছে।
নিরাপত্তাঝুঁকির কারণে বিক্ষোভে উত্তাল কয়েকটি এলাকায় ভোটগ্রহণ স্থগিত রাখা হয়। পরে বাকি আসনগুলোর ফলাফলের ভিত্তিতে নতুন আঞ্চলিক সরকার গঠন করা হয়। তবে সরকার পরিবর্তন হলেও দীর্ঘদিনের ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউটের কারণে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড এখনও ব্যাহত হচ্ছে।
