‘সময় মেরামত’ করেই কেটে গেল মোহন বিশ্বাসের ৫০ বছর
বাদল আহাম্মদ খান, আখাউড়া (ব্রাহ্মণবাড়িয়া)
প্রকাশ: ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:১৫ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
লাঠিতে ভর দিয়ে ধীরে ধীরে দোকানে আসেন সত্তোর্ধ মন মোহন বিশ্বাস। শরীর আগের মতো সায় দেয় না, কিন্তু ঘড়ি মেরামতের সেই পুরোনো টান ছাড়তে পারেন না। জীবনের ৫০ বছরেরও বেশি সময় ধরে ঘড়ি মেরামত করছেন তিনি। মন মোহন বিশ্বাস আখাউড়া সড়ক বাজারের পুরাতন ঘড়ি মেকানিক।
কথা হয় তার সাথে। তিনি জানান, তার পৈতৃক নিবাস হবিগঞ্জের মনতলা এলাকায়। মুক্তিযুদ্ধের পর পর তখন বয়স কম। সংসারে ছিল আর্থিক অনটন। জীবিকার তাগিদে আখাউয়ায় চলে আসেন। প্রথমে রিকশা মেরামতের কাজ করেন। এরই মধ্যে পরিচয় হয় বাজারের ঘড়ি মেকার মাহন সূত্রধারের সঙ্গে। সেই পরিচয়ই বদলে দেয় তার জীবনের গতিপথ।
এক বেলা ঘড়ি মেরামতের কাজ, আরেক বেলা রিকশা মেরামত এভাবেই চলতে থাকে দিন। ধীরে ধীরে ঘড়ির কাজেই আগ্রহ বাড়ে। কয়েক বছর পর নিজেই দোকান দিয়ে ঘড়ি মেরামতের কাজ শুরু করেন। এরপর কেটে গেছে পাঁচ দশকেরও বেশি সময়। আখাউড়া রাধানগরে বাড়ি করে রয়ে গেছেন আখাউড়াতেই। সময় বদলেছে। প্রযুক্তি বদলেছে। মন মোহনের জীবন যেন ঘড়ির কাঁটার মতোই নীরবে এগিয়ে চলছে।
মোহন বিশ্বাস বলেন, একসময় আখাউড়া বাজারে ঘড়ির দোকানে বেশ ব্যস্ততা থাকত। মানুষের হাতে হাতে ছিল বিভিন্ন ধরনের ঘড়ি। বাসা বাড়িতে থাকতো দেয়াল ঘড়ি। ঘড়ি বন্ধ হয়ে গেলে, কাঁটা থেমে গেলে কিংবা ব্যাটারি শেষ হলে মেরামত করতে আসতেন। তখন ভালো আয় রোজগার ছিল।
কিন্তু সময় বদলেছে। মানুষের হাতে এখন ঘড়ির পাশাপাশি এসেছে মোবাইল ফোন। মোবাইলেই সময় দেখা যায়। ফলে আগের মতো ঘড়ি মেরামতের কাজ নেই। কমেছে ক্রেতা, কমেছে আয়ও।
এরই মধ্যে দুই বার স্ট্রোক করেন মন মোহন বিশ্বাস। কয়েক বছর আগে দোকান ঘরটি ছেড়ে দেন। এখন মূলত সময় কাটাতে ঘড়ি মেরামতের কাজ করেন। হাতখরচের টাকাও আসে। সড়ক বাজারে রাস্তার পাশে এক পরিচিত লোকের দোকানের সামনে টোল নিয়ে বসেন। সকাল-বিকাল ৪/৫ ঘন্টা বসেন। সারাদিন বসতে পারেন না।
পুরোনো দিনের স্মৃতি আর পরিচিত মানুষগুলোর সঙ্গে দেখা হয়। তবে ঝড় বৃষ্টির দিনে দোকানে বসতে পারেন না। মোহন বিশ্বাসের সংসারে রয়েছে এক ছেলে ও দুই মেয়ে। সন্তানরা বড় হয়েছে। ছেলে মেয়ের বিয়ে দিয়েছেন।
সড়ক বাজারের স্টুডিও ব্যবসায়ী দুলাল ঘোষ জয় ভোরের কাগজকে বলেন , মোহন দা আমাদের বাজারের ঘড়ির জগতে সবচেয়ে পুরাতন ব্যবসায়ী। খুব ভালো মানুষ।
আখাউড়া প্রেসক্লাবের সভাপতি শাহাদত হোসেন লিটন ভোরের কাগজকে বলেন, মোহনদা অনেক ভালো ঘড়ি মেকানিক। আমার ঘড়ির সমস্যা হলে উনার কাছ থেকে ঠিক করাতাম। উনার ব্যবহার খুব ভালো।
