নিখোঁজ ব্যবসায়ীর গলা কাটা মরদেহ
সন্দেহভাজন নারীকে পিটুনি, ঘরে বিক্ষুব্ধ জনতার আগুন
চরফ্যাশন (ভোলা) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:৩৬ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
চরফ্যাশনে ফোন করে বাড়িতে ডেকে নেওয়ার পর বাশার পন্ডিত (৩৫) নামে এক ব্যবসায়ী নিখোঁজ হন। রোববার বেলা ১২টায় জলাশয় থেকে ওই ব্যবসায়ীর গলায় দাগ ও পেট কাটা অবস্থায় মরদেহ উদ্ধার করেছে দক্ষিণ আইচা থানা-পুলিশ।
এরপর হত্যাকাণ্ডে সন্দেহভাজন নারী সালমা বেগমকে মৃতের আত্মীয়স্বজন ও উত্তেজিত এলাকাবাসী পিটিয়ে গুরুতর আহত করে। একই সঙ্গে ওই নারীর বসতঘরে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটসহ অগ্নিসংযোগ করেছে বিক্ষুব্ধরা।
অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে চরফ্যাশন ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গত শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টার দিকে স্থানীয় সালমা নামে এক নারী ফোন করে বাশার পন্ডিতকে তাঁর বাড়িতে ডেকে নেন। এরপর থেকেই নিখোঁজ ছিলেন বাশার।
রোববার বেলা ১২টায় সালমার বাড়ির সংলগ্ন কচুরিপানায় ভরা একটি জলাশয় থেকে গলায় দাগ ও পেট কাটা অবস্থায় তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। আহত ওই নারীকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে চরফ্যাশন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে পুলিশ।

এ ঘটনায় সন্দেহভাজন সালমার স্বামী সাইদুর রহমান ও রফিক নামের দুইজনকে আটক করেছে দক্ষিণ আইচা থানা-পুলিশ। নিহত বাশার পন্ডিত উপজেলার নজরুল নগর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের আবুল কাশেমের ছেলে। সন্দেহভাজন সালমা একই ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের আবুল মৃধার মেয়ে।
এদিকে খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আহসানুজ্জামান পিপিএম, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ, চরফ্যাশন সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মেহেদী হাসান এবং দক্ষিণ আইচা থানার ওসি আহসান কবিরসহ পুলিশের সদস্যরা।
নিহতের বাবা আবুল কাশেম বলেন, আমার ছেলেকে ফোন করে বাড়িতে ডেকে নেওয়ার পর থেকে সে নিখোঁজ ছিল। পরে গলায় দাগ ও পেট কাটা অবস্থায় তার মরদেহ পাওয়া গেছে। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাই।
জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আহসানুজ্জামান পিপিএম জানান, ঘটনার প্রকৃত কারণ ও হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে কারা জড়িত, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। এ ঘটনায় সন্দেহভাজন সালমা ও তাঁর স্বামীকে আটক করা হয়েছে। তদন্ত শেষে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
