রিজভী
পরীক্ষা পিছিয়ে দিলে এমন কী ক্ষতি হতো?
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৪ জুলাই ২০২৬, ০৮:২৪ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
বৈরী আবহাওয়া ও বন্যা পরিস্থিতিতে চলমান এইচএসসি পরীক্ষা কয়েক দিনের জন্য স্থগিত রাখার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, বন্যার পানিতে দুর্ভোগের মধ্যে পরীক্ষা দিতে গিয়ে শিক্ষার্থীরা চরম ঝুঁকির মুখে পড়ছে। এমন পরিস্থিতিতে পরীক্ষা পিছিয়ে দিলে কী সমস্যা হতো এ প্রশ্নও তোলেন তিনি।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) দুপুরে চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলায় বন্যাকবলিত মানুষের মধ্যে ত্রাণ বিতরণ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে তিনি এসব মন্তব্য করেন।
রুহুল কবির রিজভী বলেন, “আমি শিক্ষামন্ত্রীর প্রতি অনুরোধ জানাই, দেশের বিভিন্ন এলাকায় ভয়াবহ বন্যা চলছে। শিক্ষার্থীদের কোমরসমান পানি পেরিয়ে পরীক্ষাকেন্দ্রে যেতে হচ্ছে। এমন অবস্থায় কয়েক দিনের জন্য পরীক্ষা স্থগিত করলে কোনো সমস্যা হওয়ার কথা নয়।”
তিনি আরও বলেন, “কোনো শিক্ষার্থী যদি বন্যার পানিতে দুর্ঘটনার শিকার হয় বা পরীক্ষাকেন্দ্রে যেতে গিয়ে প্রাণ হারায়, সেটি হবে অত্যন্ত দুঃখজনক। তাই জনগণের প্রত্যাশার সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে বলছি, পানি কমা পর্যন্ত পরীক্ষা পিছিয়ে দেওয়া হোক।”
এর আগে আনোয়ারা উপজেলার বারখাইন ইউনিয়নের তৈলারদ্বীপ এলাকায় বন্যাকবলিত এলাকা পরিদর্শন এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মধ্যে ত্রাণ বিতরণ করেন রুহুল কবির রিজভী।
এ সময় তিনি আওয়ামী লীগের সমালোচনা করে বলেন, অপরিকল্পিত উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের কারণে দেশের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। তার দাবি, উন্নয়নের নামে হাজার হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার করা হয়েছে এবং পরিবেশবিদদের আপত্তি উপেক্ষা করে সুন্দরবনের পাশে রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের ফলে ওই অঞ্চলের পরিবেশ ঝুঁকির মুখে পড়েছে।
কিশোরগঞ্জের হাওর এলাকায় সড়ক নির্মাণের সমালোচনা করে রিজভী বলেন, এ ধরনের প্রকল্পের কারণে প্রাকৃতিক জলপ্রবাহ ব্যাহত হয়েছে এবং মাছের প্রাকৃতিক আবাসস্থল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ত্রাণ বিতরণ কর্মসূচিতে ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির নেতারা, চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম এবং আনোয়ারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মহিন উদ্দিনসহ স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠান শেষে ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন বলেন, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় খাল দখল, অবৈধ স্থাপনা এবং অপরিকল্পিতভাবে কালভার্ট নির্মাণের কারণে জলাবদ্ধতা বেড়েছে। এসব সমস্যা সমাধানে জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় দখলমুক্ত করার অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।
