ভিডিও করে ৪ বছর ধরে ধর্ষণে অন্তঃসত্ত্বা ছাত্রী, পলাতক বিএনপি নেতা
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৭ আগস্ট ২০২৬, ০৫:৪৫ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
বাড়িতে ডেকে নিয়ে স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের ভিডিও ধারণ, পরে ব্ল্যাকমেইলের মাধ্যমে ৪ বছর ধরে ভুক্তভোগীকে দলবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে। নেত্রকোনার কেন্দুয়ায় ঘটেছে এমনই এক লোমহর্ষক ঘটনা।
ভুক্তভোগীর পরিবারের দাবি, ধারাবাহিকভাবে এমন নির্যাতনের শিকার হয়ে ওই কিশোরী বর্তমানে ৬ মাসের অন্তঃসত্ত্বা।
বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) রাতে ভুক্তভোগী ছাত্রীর বাবা বাদী হয়ে বিএনপি নেতা বকুল মিয়াকে প্রধান আসামি করে মামলা দায়ের করেন। মামলায় পাঁচজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে। ওই রাতেই অভিযান চালিয়ে মামলার দ্বিতীয় আসামি আবু মিয়াকে (৩৬) গ্রেপ্তার করে কেন্দুয়া থানা পুলিশ। তবে ঘটনার পর থেকে প্রধান আসামি কেন্দুয়া পৌর বিএনপির সহ-সাধারণ সম্পাদক বকুল মিয়া পলাতক রয়েছেন। তাকে গ্রেপ্তারে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
আরো পড়ুন: ভাঙ্গায় এক্সপ্রেসওয়েতে বাসের ধাক্কায় দুই কিশোর নিহত
বুধবার (২৬ আগস্ট) রাতে বিষয়টি নিশ্চিত করেন কেন্দুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তরিকুল ইসলাম ।
মামলার এজাহার ও ভুক্তভোগীর পরিবারের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ওই ছাত্রী স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী। সে ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ার সময় ২০২২ সালের ২০ নভেম্বর বিএনপি নেতা বকুল মিয়া তাকে একটি বাড়িতে নিয়ে ধর্ষণ করেন। এসময় ঘটনার ভিডিও মোবাইল ফোনে ধারণ করা হয়। পরে ওই ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে বিভিন্ন সময় তাকে ধর্ষণ করা হয় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
এজাহারে আরো বলা হয়, ২০২৫ সালের মার্চ থেকে এপ্রিলের মধ্যে বকুল মিয়ার সহযোগী এক নারী ওই ছাত্রীকে একটি ভাড়া বাসায় নিয়ে যান। সেখানে বকুলের নেতৃত্বে একাধিক ব্যক্তি তাকে ধর্ষণ করেন। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ও তাকে ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
পরিবারের দাবি, গত ১ আগস্ট ওই ছাত্রীর একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি পরিবারের সদস্যদের নজরে আসে। পরে ১৮ আগস্ট একটি বেসরকারি ক্লিনিকে পরীক্ষা করানো হলে চিকিৎসকরা তাকে ছয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা বলে জানান।
ভুক্তভোগী ওই স্কুলছাত্রীর ভাষ্য, ‘ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে বকুল মিয়া ও আবু মিয়া আমাকে বিভিন্ন বাসায় নিয়ে যেত। তখন আমি কিছু বুঝতাম না। তারা অন্য লোকজন দিয়েও আমাকে ধর্ষণ করিয়েছে। আমি বিষয়টি প্রকাশ করায় তারা আমাকে মেরে ফেলতে পারে। আমি এর কঠিন বিচার চাই।’
অভিযোগের বিষয়ে কেন্দুয়া পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, ‘ঘটনাটি সম্পর্কে আমরা অবগত হয়েছি। বকুল মিয়ার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
-6a9022fec2be2.jpg)
এদিকে, ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর রফিকুল ইসলাম ভূঁইয়া বকুলকে দলের প্রাথমিক সদস্যপদসহ সব পর্যায়ের পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। নেত্রকোনার কেন্দুয়া পৌর বিএনপির সভাপতি খোকন আহমেদ ডিলারের স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই তথ্য জানানো হয়।
কেন্দুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তরিকুল ইসলাম বলেন, মামলার দ্বিতীয় আসামি আবু মিয়াকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। মামলার অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযান চলছে।
