বিএনপির সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারণী ফোরামের বৈঠকে যে সিদ্ধান্ত এলো
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৫৫ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
বিএনপির সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে দলের সাংগঠনিক কার্যক্রম জোরদার, স্থানীয় সরকার নির্বাচন, ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচন, ডেঙ্গু ও জ্বালানি পরিস্থিতিসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। বৈঠকে কেন্দ্র থেকে তৃণমূল পর্যন্ত শূন্য পদগুলো পূরণে নিচের পদধারীদের পদোন্নতি দেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
শনিবার রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। নতুন চার স্থায়ী কমিটি সদস্য প্রথমবারের মতো বৈঠকে অংশ নেন।
বৈঠক সূত্র জানায়, আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে দলের সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে দলের বিভিন্ন কমিটিতে শূন্য হওয়া পদগুলো দ্রুত পূরণের বিষয়েও আলোচনা হয়। যারা মারা গেছেন, দল থেকে বহিষ্কৃত হয়েছেন বা অন্য কোনো কারণে দায়িত্বে নেই, তাদের শূন্য পদে গঠনতন্ত্র অনুযায়ী পরবর্তী পদধারীদের পদোন্নতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
বৈঠকে বিএনপির চেয়ারম্যানের ছেড়ে দেওয়া ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচন নিয়েও আলোচনা হয়েছে। দলীয় প্রার্থী চূড়ান্ত করার আগে মনোনয়ন ফরম বিতরণের সিদ্ধান্ত হয়েছে। আগ্রহী প্রার্থীদের তথ্য যাচাই-বাছাইয়ের পর দলের মনোনয়ন বোর্ড প্রার্থী চূড়ান্ত করবে।
বৈঠকে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের বিভিন্ন এলাকায় মিছিল ও ঝটিকা কর্মসূচির বিষয়টিও আলোচনায় আসে। বিএনপি নেতারা মনে করেন, কার্যক্রম নিষিদ্ধ কোনো সংগঠন প্রকাশ্যে কর্মসূচি পালন করতে পারে না। কেউ অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা করলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে বলেও বৈঠকে মত দেওয়া হয়।
বৈঠকে ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবিলা এবং জ্বালানি সংকট নিয়েও আলোচনা হয়েছে। ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা বাড়াতে দলীয়ভাবে বিভিন্ন কর্মসূচি নেওয়ার বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির এক সদস্য জানান, ডেঙ্গু ও জ্বালানি পরিস্থিতি বৈঠকের আলোচনায় বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। কীভাবে এসব সমস্যা মোকাবিলা করে জনগণকে স্বস্তিতে রাখা যায়, সে বিষয়ে মতামত নেওয়া হয়েছে।
সরকার গঠনের পর শনিবার তৃতীয়বারের মতো বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকের শুরুতে নতুন চার সদস্য—ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, আমান উল্লাহ আমান, অধ্যাপক ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার ও ইসমাঈল জবিউল্লাহকে স্বাগত জানানো হয়।
এ ছাড়া দীর্ঘদিন বিদেশে চিকিৎসা শেষে স্থায়ী কমিটির বৈঠকে যোগ দেওয়ায় মির্জা আব্বাসের সুস্থতা কামনা করা হয়।
বৈঠক শেষে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, সাংগঠনিক বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। দলের বিভিন্ন কমিটিতে কেউ মারা গেছেন, কেউ দল থেকে বহিষ্কৃত হয়েছেন কিংবা নানা কারণে দায়িত্বে নেই। এসব শূন্য পদে ঠিক নিচের পদধারীদের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী পদোন্নতি দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।
বৈঠকে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ড. আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমদ, সেলিমা রহমান এবং অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন উপস্থিত ছিলেন।
