বেসরকারি চাকরিজীবীদের সার্ভিস রুলস নিয়ে সর্বশেষ যা জানা গেল
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:৫৭ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
বেসরকারি চাকরিজীবীদের সুরক্ষা ও জীবনমান উন্নয়নে নতুন সার্ভিস রুলস তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। প্রস্তাবিত এই সার্ভিস রুলসে ন্যূনতম বেতন, নিয়মিত বেতন বৃদ্ধি, বিভিন্ন ভাতা, কর্মঘণ্টা, ছুটি ও পদোন্নতিসহ চাকরিজীবীদের গুরুত্বপূর্ণ অধিকার ও সুযোগ-সুবিধার বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন এবং বেসরকারি চাকরিজীবীদের জীবনমান উন্নয়নের লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
প্রস্তাবিত সার্ভিস রুলসে চাকরিজীবীদের আচরণবিধি, দুর্নীতির তদন্ত, শৃঙ্খলা, আইনি সুরক্ষা ও বিরোধ নিষ্পত্তির বিষয়ও নির্দিষ্টভাবে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। পাশাপাশি শিশুশ্রম প্রতিরোধ, স্বাস্থ্য সুরক্ষা, কর্মক্ষেত্রের নিরাপত্তা, ক্ষতিপূরণ আদায়, মাতৃত্বকালীন ছুটি, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের চাকরির সুযোগ, চাকরি স্থায়ীকরণ এবং চাকরি থেকে অপসারণের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ও এতে থাকার কথা রয়েছে।
সর্বশেষ অগ্রগতি
নতুন সার্ভিস রুলস নিয়ে সর্বশেষ গত ১০ মে একটি মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর এ বিষয়ে আর কোনো সভা বা দৃশ্যমান অগ্রগতির তথ্য পাওয়া যায়নি। ওই সভায় সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয়, চেম্বার ও বেসরকারি খাতের বিভিন্ন সংগঠনের মতামত নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সার্ভিস রুলস তৈরির কাজ এখনো চলমান। বিভিন্ন পক্ষের মতামত ও প্রয়োজনীয় পর্যালোচনার পর খসড়া প্রস্তাব তৈরি করা হবে। এরপর সেটি সরকারের বিবেচনার জন্য উপস্থাপন করা হবে।
শ্রম আইনে আসতে পারে সংশোধন
নতুন সার্ভিস রুলস বাস্তবায়নে ‘বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬’ ও ‘বাংলাদেশ শ্রম বিধিমালা, ২০১৫’-এ প্রয়োজনীয় সংশোধন বা সংযোজন আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ জন্য জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (বিধি অনুবিভাগ) মোস্তফা জামানকে প্রধান করে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।
বেসরকারি চাকরিজীবীদের ভাষ্য, দেশে শ্রম আইন ও বিধিমালা থাকলেও অনেক ক্ষেত্রে তা যথাযথভাবে বাস্তবায়ন হচ্ছে না। ফলে চাকরির নিরাপত্তা, বেতন-ভাতা, কর্মঘণ্টা, ছুটি ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা নিয়ে কর্মীদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে অসন্তোষ রয়েছে।
বেসরকারি খাতে কর্মী ৬৬ শতাংশের বেশি
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) শ্রমশক্তি জরিপ ২০২৪ অনুযায়ী, দেশে কর্মরত মানুষের সংখ্যা ৬ কোটি ৯০ লাখ ৯০ হাজার। এর মধ্যে ৪৮ দশমিক ২ শতাংশ বেসরকারি, যৌথ উদ্যোগ ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে কর্মরত। আরও ১৮ দশমিক ২ শতাংশ বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে নিয়োজিত।
সব মিলিয়ে দেশের মোট কর্মীর ৬৬ দশমিক ৪ শতাংশই বেসরকারি খাতে কর্মরত। ফলে নতুন সার্ভিস রুলস কার্যকর হলে দেশের বিপুলসংখ্যক চাকরিজীবী এর আওতায় আসবেন বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
বেসরকারি চাকরিজীবীদের প্রত্যাশা, নতুন সার্ভিস রুলসে চাকরির নিরাপত্তা ও ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করার পাশাপাশি কর্মক্ষেত্রে শৃঙ্খলা, নিরাপত্তা ও দায়িত্বশীলতার বিষয়গুলোও স্পষ্ট করা হবে।
