নিখোঁজের ৩ দিন পর জঙ্গল থেকে হাত-পা বাঁধা তাঁতীদল নেতাকে উদ্ধার
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৪৫ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
ফেনীতে নিখোঁজ হওয়ার তিনদিন পর সোনাগাজী উপজেলা তাঁতী দলের সদস্য সচিব মো. আবদুল্লা আল আমিনকে (৩০) আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। শনিবার ভোররাতে ফেনী সদর উপজেলার কালিদহ ইউনিয়নের হাফেজিয়া ভাঙার তাকিয়া এলাকার একটি জঙ্গল থেকে তাকে আহত অবস্থায় পাওয়া যায়।
স্থানীয়রা ঝোপের মধ্যে তার গোঙ্গানির শব্দ শুনে জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর- ৯৯৯ এ ফোন করলে ফেনী মডেল থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে। এ সময় তার শরীর ও হাত-পা রশি দিয়ে বাঁধা ছিল।
এর আগে আবদুল আল আমিন নিখোঁজের ঘটনায় শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) দুপুরে সোনাগাজী মডেল থানায় তার চাঁচি কামরুন নাহার একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) দায়ের করেন। আবদুল্লা আল আমিন ফেনীর সোনাগাজী উপজেলার উত্তর মঙ্গলকান্দি এলাকার লোকুর দোকান এলাকার আলী আজ্জম মৃদ্দা বাড়ীর মৃত আবদুর রশিদের ছেলে।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত বুধবার (২১ অক্টোবর) বিকেলে আল আমিন সিএনজিচালিত অটোরিকশায় সোনাগাজীর উদ্দেশে রওনা হওয়ার পর আর বাড়ি ফিরে আসেনি। ওই দিন রাত ১০টার দিকে তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে ব্যবহৃত দুটি মোবাইল নম্বরই বন্ধ পাওয়া যায়। তার বিরুদ্ধে বিগত আওয়ামী লীগ সরকার ২১টি মামলা দিয়েছিল। একটি মামলায় তার ৮ বছর সাজা হলে তার স্ত্রী এক সন্তান নিয়ে তাকে ছেড়ে চলে যায়।
উপজেলা তাঁতী দলের আহবায়ক মোহাম্মদ ইসমাইল বলেন, চাঁদাবাজ, মাদক ও বালুদস্যুতার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করায় বিএনপি'র কয়েকজন মিলে অস্ত্রের মুখে তাকে অপহরণ করে। পুলিশের তৎপরতা ও গণমাধ্যমের সংবাদ প্রকাশের পর মারধর করে হাফিজিয়া এলাকায় ফেলে যায়।
আবদুল্লা আল আমিনের চাচা আব্দুল হক নোমান বলেন, আবদুল আল আমিনকে পাওয়া গেছে বলে পুলিশ আমাদের খবর দেয়। পরে তাকে জরুরিভাবে ফেনী সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তার গায়ে টর্চারের চিহ্ন রয়েছে। সে কথা বলতে পারছে না। সুস্থ হওয়ার পর কে বা কারা এসব করেছে তা জানা যাবে।
ফেনী মডেল থানার ওসি আমিনুল ইসলাম বলেন, জরুরী সেবা ৯৯৯এ ফোন পেয়ে পুলিশ হাত-পা বাঁধা অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে। ফেনী জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক আসিফুল ইসলাম বলেন, আব্দুল আল আমিনের শরীরের বিভিন্ন স্থানে নীলা ফলা জখম রয়েছে।
