জামায়াতের রাজনৈতিক ইতিহাস স্বৈরাচারের কাছে নতজানু হওয়ার: রিজভী
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০১ নভেম্বর ২০২৬, ০৯:৫৮ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
জামায়াতে ইসলামীর আমিরের ‘আরেকটি বিপ্লব দরজায় টোকা দিচ্ছে’—এমন বক্তব্যের সমালোচনা করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেছেন, জামায়াতের রাজনৈতিক ইতিহাস আত্মসমর্পণের, স্বৈরাচারী শক্তির কাছে নতজানু হওয়ার ইতিহাস।
রোববার (১ নভেম্বর) ঢাকা আইনজীবী সমিতিতে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের ৩৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
রিজভী বলেন, ‘বিপ্লবের কথা বলেন? আপনাদের রাজনীতির ইতিহাস তো আত্মসমর্পণের ইতিহাস, স্বৈরশক্তির কাছে নতজানু হওয়ার ইতিহাস।’
গার্মেন্টস শ্রমিকদের আন্দোলন প্রসঙ্গে বিএনপির এই নেতা অভিযোগ করেন, শ্রমিকদের হঠাৎ রাস্তায় নামিয়ে অস্থিরতা তৈরি করা হচ্ছে। অন্যদিকে তারেক রহমান একের পর এক দেশে গিয়ে বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি নিয়ে আসছেন। দেশকে স্বাবলম্বী করার লক্ষ্যে তারেক রহমানের নেওয়া উদ্যোগ বাধাগ্রস্ত করার চক্রান্ত চলছে।
তিনি বলেন, এসব উদ্যোগকে অগ্রাহ্য করে দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করা হচ্ছে। বিভিন্ন স্থানে গাড়ি ও বাসে আগুন, পুলিশ বক্সে অগ্নিসংযোগ এবং পুলিশের ওপর হামলার ঘটনা ঘটছে। এসব ঘটনায় বিভিন্ন স্থান থেকে আটক ব্যক্তিদের সঙ্গে যুবলীগ ও ছাত্রলীগের সম্পৃক্ততা রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
রিজভী আরও বলেন, রোববারও ১১ জনকে আটক করা হয়েছে। তাদের মধ্যে একজন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক। ওই ব্যক্তি নিজেই ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে আন্দোলনের মধ্যে থেকে এসব কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা জানিয়েছেন বলে দাবি করেন বিএনপির এই নেতা।
তিনি বলেন, একদিকে পরাজিত আওয়ামী ফ্যাসিবাদী শক্তি, অন্যদিকে নতুন একটি শক্তি রয়েছে। নতুন শক্তিটি পরাজিত শক্তির সঙ্গে গোপন সম্পর্ক রেখে কাজ করার চেষ্টা করছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
তারেক রহমানের সামাজিক সুরক্ষা পরিকল্পনার প্রসঙ্গ তুলে রিজভী বলেন, ইমাম-মুয়াজ্জিন, হিন্দু সম্প্রদায়ের পুরোহিত এবং বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান ধর্মীয় নেতাদের ভাতা দেওয়ার পরিকল্পনা একটি বড় উদ্যোগ।
তিনি বলেন, ‘আমরা যারা জাতীয়তাবাদী শক্তির পক্ষের লোক, আমরা এই দেশের মাটির পক্ষে, সার্বভৌমত্বের পক্ষে, স্বাধীনতার পক্ষে। আমাদের বিদেশে কোনো প্রভু নেই, যে আমাদের আশ্রয় দেবে। আমরা এই দেশেই থাকব, এই দেশের মাটিতেই থাকব।’
রিজভী আরও বলেন, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশকে একটি সুন্দর, সমৃদ্ধ, গণতান্ত্রিক, স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা করাই তাদের লক্ষ্য।
অনুষ্ঠানে সাত দফা দাবির প্রসঙ্গ তুলে বিএনপির এই নেতা বলেন, দাবিগুলোর মধ্যে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন ও সংবিধান সংস্কারের বিষয় রয়েছে। তবে সংস্কার বলতে কী বোঝানো হচ্ছে, তা স্পষ্ট করে ব্যাখ্যা করার আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে ঢাকা বারের সভাপতি আনোয়ার জাহিদ ভূঁইয়া, সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম খান, সাবেক সভাপতি খোরশেদ আলম মিয়া, ঢাকা মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী, সাবেক সভাপতি আলহাজ্ব বোরহান উদ্দিন, সাবেক সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ নজরুল ইসলাম, জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের ঢাকা বার ইউনিটির সদস্য সচিব নিহার হোসেন ফারুক, ঢাকা আইনজীবী সমিতির সিনিয়র এজিএস ইলতুৎমিশ সওদাগর এনি এবং অফিস সেক্রেটারি মো. আবজাল হোসাইন মৃধাসহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন।
