স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
‘গার্মেন্টসে অস্থিরতায় ইন্ধন জোগানো হচ্ছে সীমান্তের ওপার থেকে’
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০১ নভেম্বর ২০২৬, ০৯:২৪ পিএম
ফাইল ছবি
তৈরি পোশাকশিল্পে চলমান শ্রমিক অসন্তোষের পেছনে সীমান্তের ওপার থেকে ইন্ধন জোগানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, নিরীহ শ্রমিকদের ব্যবহার করে দেশের রপ্তানি বাণিজ্য ও উৎপাদন ব্যাহত করার ষড়যন্ত্র চলছে। এ ধরনের অপতৎপরতা কঠোর হাতে দমন করবে সরকার।
রোববার (১ নভেম্বর) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক শেষে ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, শ্রমিক আন্দোলনের বিভিন্ন পর্যায়ে মুখোশধারীরা প্রবেশ করে নিজেদের স্বার্থ হাসিলের চেষ্টা করছে। এ বিষয়ে সরকারের কাছে থাকা তথ্য বিশ্লেষণ করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, নিরীহ পোশাকশ্রমিকদের ব্যবহার করে সীমান্তের ওপার থেকে ইন্ধন দেওয়া হচ্ছে, যাতে দেশে অস্থিরতা সৃষ্টি করা যায় এবং রপ্তানি বাণিজ্য ও পোশাক কারখানার উৎপাদন ব্যাহত হয়।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সহিংস কর্মকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের ইতোমধ্যে আইনের আওতায় আনা হয়েছে। ভবিষ্যতেও যেকোনো ধরনের অপতৎপরতা মোকাবিলায় পুলিশসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কঠোর অবস্থানে থাকবে।
তিনি বলেন, সরকার দেশে শান্তি, শৃঙ্খলা, উন্নয়ন ও অগ্রগতি বজায় রাখতে চায়। বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের বিকাশে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের অবদানের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সরকার এ শিল্পের আরও উন্নয়ন এবং রপ্তানি খাতকে সমৃদ্ধ করতে চায়।
চলমান সহিংস আন্দোলনে প্রকৃত শ্রমিক বা শ্রমিক সংগঠনগুলোর সংশ্লিষ্টতা নেই বলে দাবি করেছেন সালাহউদ্দিন আহমদ। তাঁর ভাষ্য, শ্রমিকদের দাবিদাওয়া আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন: শ্রমিক অসন্তোষে ছুটি ঘোষণা ৫২৯ পোশাক কারখানায়
তিনি বলেন, শ্রমিকদের প্রতিনিধিদের নাম দেওয়া হয়েছে এবং মজুরি বোর্ড গঠন করা হয়েছে। এই বোর্ডের মাধ্যমেই তাঁদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণ করা হবে।
শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার কথা তুলে ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, শ্রমিকদের স্বার্থ সুরক্ষা ও জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রী মজুরি বোর্ড এবং সংশ্লিষ্ট শ্রম মন্ত্রণালয়কে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছেন।
কারখানা চালু রাখার আহ্বান
চলমান অস্থিরতার মধ্যে পোশাক কারখানার মালিকদের সব কারখানা চালু রেখে উৎপাদন অব্যাহত রাখার আহ্বান জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। একই সঙ্গে রপ্তানি খাতে সংকট তৈরি হতে পারে—এমন কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, শ্রমিকদের সঙ্গে আলোচনা ও সমঝোতার ভিত্তিতে মালিকদের কার্যক্রম পরিচালনা করা উচিত। কোনো কারণে মালিকেরা কারখানা বন্ধ করে থাকলে সেটিকে সাময়িক পরিস্থিতি হিসেবে উল্লেখ করে তিনি আশা প্রকাশ করেন, দ্রুতই উৎপাদন স্বাভাবিক হবে।
তিনি বলেন, শ্রমিকদের স্বার্থ রক্ষা, তাঁদের জীবনমান উন্নয়ন এবং দেশের উৎপাদন ও রপ্তানি বৃদ্ধি—সব বিষয় বিবেচনায় নিয়েই সরকার পদক্ষেপ গ্রহণ করছে।
সহিংসতায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, যারা সহিংসতা, উচ্ছৃঙ্খল আচরণ কিংবা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির সঙ্গে জড়িত থাকবে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, দেশের উন্নয়ন, অগ্রগতি ও রপ্তানি খাতের সমৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত করার কোনো প্রচেষ্টা সফল হতে দেওয়া হবে না। সরকার একই সঙ্গে শ্রমিকদের ন্যায্য স্বার্থ রক্ষা এবং পোশাকশিল্পের উৎপাদন অব্যাহত রাখার বিষয়ে গুরুত্ব দিচ্ছে।
