কেন রজনীকান্তের সঙ্গে কাজ করতে চাননি অমরীশ পুরী?
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৯ আগস্ট ২০২৬, ১১:১৫ পিএম
রজনীকান্ত ও অমরীশ পুরী। ফাইল ছবি
বলিউডের কিংবদন্তি অভিনেতা অমরীশ পুরীর অভিনয়জীবন জুড়ে রয়েছে অসংখ্য স্মরণীয় গল্প। ‘মিস্টার ইন্ডিয়া’র মোগ্যাম্বো থেকে ‘ইন্ডিয়ানা জোন্স অ্যান্ড দ্য টেম্পল অব ডুম’-এর মোলা রাম— বহু বৈচিত্র্যময় চরিত্রে অভিনয় করে দর্শকের মনে স্থায়ী জায়গা করে নিয়েছেন তিনি।
তবে দক্ষিণী সুপারস্টার রজনীকান্তের সঙ্গে তার সম্পর্কের শুরুর দিকের একটি ঘটনা অনেকেরই অজানা।
একসময় দক্ষিণী তারকা রজনীকান্তের সঙ্গে একটি ছবিতে কাজ করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিলেন বলিউডের কিংবদন্তি অভিনেতা অমরীশ পুরী। কারণ, রজনীকান্ত নাকি তাঁর ওপর ‘বেশি দাপট’ দেখাচ্ছেন— এমনটাই মনে হয়েছিল অমরীশের। সম্প্রতি পুরোনো সেই ঘটনা নিয়ে মুখ খুলেছেন অমরীশ পুরীর ছেলে রাজীব পুরী।
ভিকি লালওয়ানির পডকাস্টে ঘটনার স্মৃতিচারণ করে রাজীব জানান, একবার চেন্নাই থেকে ফিরে ছবির প্রযোজককে অমরীশ বলেছিলেন, রজনীকান্তের সঙ্গে কাজ করতে তিনি স্বচ্ছন্দ বোধ করছেন না। তবে পরে রজনীকান্ত তাঁর কাছে ক্ষমা চেয়ে নেন। এরপর দুজনের সম্পর্ক স্বাভাবিক হয়ে যায় এবং হিন্দি ও তামিল মিলিয়ে মোট নয়টি ছবিতে একসঙ্গে অভিনয় করেন তাঁরা।
আরও পড়ুন: মৃত্যুর ১৭ বছর পরও থামেনি মাইকেল জ্যাকসনের আয়
রাজীব বলেন, “‘তলপতি’ ছবিতে তাঁরা একসঙ্গে কাজ করেছিলেন। বাবা রজনীকান্তকে খুব পছন্দ করতেন।”
একই সাক্ষাৎকারে বাবাকে ঘিরে থাকা আরেকটি পুরোনো বিতর্ক নিয়েও কথা বলেন রাজীব। দীর্ঘদিন ধরে বলিউডে একটি গল্প প্রচলিত যে, অভিনেতা গোবিন্দকে নাকি অমরীশ পুরী চড় মেরেছিলেন।
এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে রাজীব সরাসরি জানান, তিনি ঘটনাটি বিশ্বাস করেন না। তাঁর মতে, এমন আচরণ অমরীশ পুরীর স্বভাবের সঙ্গে কোনোভাবেই মেলে না।
রাজীব বলেন, “আমার মনে হয় না, ঘটনাটি সত্যি। বাবা কখনো এমনভাবে রেগে গিয়ে মেজাজ হারাতেন বলে আমার মনে হয় না। কেউ তাঁকে দু-তিনবার বিরক্ত করলে হয়তো তিনি গলার স্বর চড়াতেন। কিন্তু কাউকে চড় মারার মতো মানুষ তিনি ছিলেন না।”
তিনি আরও বলেন, “আমিও ঘটনাটি শুনেছি, পড়েছি। কিন্তু বিষয়টি নিয়ে ভাবার মতো এতটা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে হয়নি। কারণ আমি জানি, বাবা কখনো এমন কিছু করতেন না।”
গোবিন্দ পরবর্তী সময়ে তাঁর বাবার সঙ্গে আর কাজ করেননি বলেও মনে করেন রাজীব। তাঁর ধারণা, সময়মতো শুটিং সেটে না পৌঁছানোসহ কোনো বিষয় থেকেই হয়তো দুজনের মধ্যে দূরত্ব তৈরি হয়েছিল।
রাজীবের ভাষায়, “এই কারণেই হয়তো গোবিন্দ ভবিষ্যতে বাবার সঙ্গে আর কাজ করেননি। হয়তো তিনি বুঝেছিলেন যে, তিনি দেরি করে এসেছিলেন এবং সেটা ঠিক হয়নি। তবে এই ধরনের বিষয় নিয়ে বাবা কারও ওপর ব্যক্তিগতভাবে রাগ পুষে রাখতেন বলে আমার মনে হয় না।”
অমরীশ পুরী ও রজনীকান্ত হিন্দি ও দক্ষিণী মিলিয়ে মোট নয়টি ছবিতে একসঙ্গে অভিনয় করেছেন। তাঁদের উল্লেখযোগ্য ছবিগুলোর মধ্যে রয়েছে ‘অন্ধা কানুন’ (১৯৮৩), ‘গঙ্গওয়া’ (১৯৮৪), ‘গিরফতার’ ও ‘মহাগুরু’ (১৯৮৫), ‘অসলী নকলী’ ও ‘দোস্তি দুশমন’ (১৯৮৬), ‘ইনসাফ কৌন করেগা’ (১৯৮৭), ‘তলপতি’ (১৯৯১) এবং ‘বাবা’ (২০০২)।
শুরুতে মনোমালিন্য থাকলেও পরবর্তী সময়ে রজনীকান্ত ও অমরীশ পুরীর পেশাগত সম্পর্ক বেশ ভালোই ছিল। তাঁদের একসঙ্গে করা ছবিগুলোও দুই তারকার ভক্তদের কাছে আজও স্মরণীয়।
