জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় বিশ্বকে সম্মিলিত উদ্যোগের আহ্বান নেপালের
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ২৯ আগস্ট ২০২৬, ১১:৪৭ পিএম
ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় ত্রিশূলী নদীর তীরবর্তী ভবন ও অবকাঠামোর ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার দৃশ্য। ছবি: সংগৃহীত
নেপাল-তিব্বত সীমান্তবর্তী এলাকায় হিমবাহ ধসে সৃষ্ট ভয়াবহ হড়পা বান ও প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের পর জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় বিশ্বজুড়ে সম্মিলিত উদ্যোগের আহ্বান জানিয়েছেন নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিশির খানাল।
এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, নেপাল বিশ্বের সবচেয়ে কম গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণকারী দেশগুলোর একটি হলেও বৈশ্বিক উষ্ণায়নের সবচেয়ে বড় ভুক্তভোগীদের মধ্যে রয়েছে দেশটি। তাই জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আরও জোরালো পদক্ষেপ নিতে হবে।
হিমালয়ের বাস্তুতন্ত্র রক্ষায় বিশ্ব সম্প্রদায়ের প্রতি সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে খানাল বলেন, “বিশ্বের প্রতি আমার অনুরোধ, জলবায়ু পরিবর্তনকে অন্যতম প্রধান বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ হিসেবে বিবেচনা করুন। নেপাল ও এর জনগণ যে সংকটের মুখোমুখি, তা মোকাবিলায় বৈশ্বিক প্রচেষ্টা প্রয়োজন।”
তিনি আরও বলেন, “আমরা বিশ্ব সম্প্রদায়কে একযোগে এগিয়ে এসে হিমালয়ের বাস্তুতন্ত্র রক্ষার আহ্বান জানাচ্ছি।”
হিমালয় অঞ্চলের পরিবেশ রক্ষায় ভারত, চীন, নেপাল ও ভুটানের মতো প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতা বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেন নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

আরও পড়ুন: ভেনেজুয়েলার তেলে মার্কিন আধিপত্য, নজিরবিহীন চুক্তির ঘোষণা ট্রাম্পের
খানালের মতে, দেশগুলোর মধ্যে রাজনৈতিক মতপার্থক্য বা প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকতেই পারে। তবে তারা সবাই একই হিমালয় অঞ্চলের বাস্তুতন্ত্রের ওপর নির্ভরশীল। ফলে এই পরিবেশ রক্ষার বিষয়টি সবার অস্তিত্বের সঙ্গেই জড়িত।
নেপাল-তিব্বত সীমান্তে সাম্প্রতিক প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণ অনুসন্ধানে তুষারধস নিয়ে সরকার নতুন করে তদন্ত বা গবেষণা করবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে খানাল জানান, এ বিষয়ে আরও গবেষণার পরিকল্পনা রয়েছে।
তিনি বলেন, হিমালয়ের পরিবর্তনগুলো আরও ভালোভাবে বুঝতে চীনা গবেষকদের সঙ্গে ইতোমধ্যে একটি ‘যৌথ ব্যবস্থা’ চালু রয়েছে।
হিমালয়ের হিমবাহ শত শত কোটি মানুষের পানির অন্যতম প্রধান উৎস। বৈশ্বিক উষ্ণায়নের কারণে তাপমাত্রা বাড়ায় এসব হিমবাহ দ্রুত গলে যাচ্ছে। এতে ভবিষ্যতে পানির সংকটের পাশাপাশি আকস্মিক বন্যা, ভূমিধস এবং হিমবাহ হ্রদ ভেঙে সৃষ্ট বন্যার ঝুঁকিও বাড়ছে।
নেপালের হিমালয় অঞ্চলে তাপমাত্রা বৈশ্বিক গড়ের তুলনায় দ্রুত বাড়ছে। এর ফলে হিমবাহ গলে বিপজ্জনক হিমবাহ হ্রদ তৈরি হচ্ছে এবং এসব হ্রদ ভেঙে আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসের আশঙ্কা বাড়ছে।
এ পরিস্থিতিতে জলবায়ু সংকটের দায় নেপালের নয়—এমন অবস্থানও স্পষ্ট করেছেন খানাল। তাঁর মতে, যেসব শিল্পোন্নত ও ধনী দেশ সবচেয়ে বেশি কার্বন নিঃসরণ করে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সৃষ্ট ক্ষয়ক্ষতির দায়ভার তাদেরই বহন করতে হবে।
