মাল্টার কেজি ৫২০ টাকা কেন, প্রশ্ন মন্ত্রীর
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:০৭ পিএম
ফাইল ছবি
আমদানিনির্ভর ফলের সরবরাহ বাড়িয়ে বাজারমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখতে কঠোর পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে সরকার। দ্রুত ঋণপত্র (এলসি) খুলে আমদানি বাড়ানোর জন্য ব্যবসায়ীদের প্রতি কড়া আহ্বান জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। একই সঙ্গে, আসন্ন চাহিদার কথা মাথায় রেখে খেজুর আমদানির শুল্ক-কর বিষয়ে চলতি সপ্তাহেই সরকারের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।
শনিবার (৩ অক্টোবর) সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে বাজারে মাল্টা ও খেজুরসহ বিভিন্ন ফলের সরবরাহ নিশ্চিত এবং মূল্য স্থিতিশীল রাখার লক্ষ্যে আয়োজিত এক জরুরি মতবিনিময় সভায় এ কথা বলেন তিনি।
মাল্টার অস্বাভাবিক দামে মন্ত্রীর অসন্তোষ
সভায় খুচরা বাজারে প্রতি কেজি মাল্টার দাম ৫২০ টাকায় পৌঁছানো নিয়ে চরম অসন্তোষ প্রকাশ করেন বাণিজ্যমন্ত্রী। আমদানি মূল্য, শুল্ক-কর এবং অন্যান্য আনুষঙ্গিক ব্যয় হিসাব করার পরও দাম কীভাবে এত ওপরে উঠল, সে বিষয়ে ব্যবসায়ীদের কাছে জবাবদিহিতা চান তিনি।
অযৌক্তিক ও অতিরিক্ত দামে মাল্টা বিক্রির প্রমাণ পেলেই জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরকে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়ে মন্ত্রী স্পষ্ট ভাষায় জানান, বাজারে কোনো ধরনের সিন্ডিকেট বা অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধির সুযোগ দেওয়া হবে না।
আরও পড়ুন: ট্রাম্পের নৈশভোজে তারেক-জুবাইদার ছবি প্রকাশ করল প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়
অন্যদিকে, ব্যবসায়ীরা জানান—সরবরাহ ঘাটতির কারণেই মূলত দাম বেড়েছে। দেশে দৈনিক প্রায় ১৫ কনটেইনার মাল্টার চাহিদা থাকলেও অনেক সময় সপ্তাহে মাত্র ১২ থেকে ২৯ কনটেইনার মাল্টা আমদানি হয়েছে। এছাড়া উচ্চ শুল্ক, পরিবহন জটিলতা, বন্দর সংকট এবং পচনশীল পণ্য হওয়ায় আর্থিক ঝুঁকির কারণে অনেকেই আমদানি কমিয়ে দিয়েছেন। ব্যবসায়ীদের এসব সমস্যা শোনার পর মাল্টার শুল্কসংক্রান্ত বিষয়গুলো পর্যালোচনার আশ্বাস দেন বাণিজ্যমন্ত্রী।
খেজুর আমদানিতে শুল্ক জটিলতা নিরসনের উদ্যোগ
আসন্ন রমজান ও চাহিদাকে সামনে রেখে ব্যবসায়ীদের এখন থেকেই খেজুর আমদানির জোরালো প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানান বাণিজ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, খেজুরের শুল্কসংক্রান্ত সিদ্ধান্ত চলতি সপ্তাহেই আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে।
খেজুরের দীর্ঘদিনের ‘অ্যাসেসমেন্ট ভ্যালু’ বা শুল্কায়ন মূল্যের জটিলতা দূর করতে বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশন খুব দ্রুত আমদানিকারকদের সঙ্গে বৈঠক করবে। আন্তর্জাতিক বাজারদর ও বিভিন্ন মানের খেজুরের উৎসমূল্য যাচাই করে একটি যৌক্তিক নির্দেশক মূল্য নির্ধারণ করা হবে, যা পরে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে (এনবিআর) পাঠানো হবে।
মন্ত্রী আরও বলেন, শুল্কায়ন ব্যবস্থা এমন হওয়া দরকার যেন ব্যবসায়ীরা হয়রানির শিকার না হন, আবার কেউ পণ্যের দাম কম দেখিয়ে সরকারের রাজস্ব ফাঁকি দিতে না পারেন। সরকার ও ব্যবসায়ী উভয় পক্ষকে স্বচ্ছতা ও সততার সঙ্গে কাজ করার তাগিদ দেন তিনি।
মতবিনিময় সভায় বাণিজ্য সচিব মো. আতাউর রহমান খান, ট্যারিফ কমিশনের চেয়ারম্যান নাসির উদ দৌলা, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. জহিরুল ইসলাম, এনবিআর প্রতিনিধি এবং বাংলাদেশ ফ্রেশ ফ্রুটস ইমপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। সভা শেষে ব্যবসায়ীরা বিকল্প উৎস থেকে ফলের আমদানি বাড়ানোর আশ্বাস দেন।
