বেরোবিতে ঐতিহ্য উৎসব: একই মঞ্চে প্রাচীন মিসর ও বাংলার লোকসংস্কৃতি
বেরোবি প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:১৩ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
রংপুরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) আয়োজিত দিনব্যাপী ঐতিহ্য উৎসবে জীবন্ত হয়ে উঠেছে মধ্য ও প্রাচীন যুগের বাংলা ও মিশরীয় সভ্যতার বিভিন্ন প্রত্নস্থানের চিত্র।
বুধবার(৯ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাফেটেরিয়ার তৃতীয় তলায় সকাল সাড়ে ১১টায় ইতিহাস ও প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে একদিনব্যাপী এই উৎসবের উদ্বোধন করেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. শওকাত আলী ।
উৎসবে শিক্ষার্থীদের তৈরি বিভিন্ন প্রত্নতাত্ত্বিক প্রদর্শিত নিদর্শনের মধ্যে ছিল লালবাগ কেল্লা, ষাট গম্বুজ মসজিদ, কান্দজির মন্দির, দিনাজপুরের নয়াবাদ মসজিদ , সোমপুর মহাবিহার, বন দুর্গ ও শালবন, বিহার, গৌড়নগর। মিশরীয় ফারাও তিতেনখামেনের মমিসহ মিশরীয় সভ্যতার রহস্যময় পিরামিড়।
এছাড়াও অনেক শিক্ষার্থী ঐতিহাসিক বিভিন্ন চরিত্রে সেজে অংশ নেন। কেউ সেজে মিশরীয় রানী নেফাতিতি, কেউ প্রাচীন বাংলার পুরোহিত , আবার কেউ গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী বধূর সাজে উপস্থিত হন।
ইতিহাস ও প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের সহকারী অধ্যাপক সোহাগ আলী বলেন, আমাদের আজকের এই আয়োজনে মূল উদ্দেশ্য ইতিহাস ও প্রত্নতত্ত্ব সম্পর্কে পাঠ্যবইয়ে শিক্ষার্থীরা যা জানছে সেটা সম্পর্কে বাস্তবভিত্তিক জ্ঞান অর্জন করা। ইতিহাস ও প্রত্নতত্ত্বের বিষয়গুলো শুধু ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে অন্যান্য বিভাগের শিক্ষার্থীদের জানার সুযোগ করে দিয়ে ইতিহাস সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করা আমাদের আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য।
ঐতিহ্য উৎসব দেখতে আসা সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান বলেন, ইতিহাস বিভাগের এই আয়োজনটি অবশ্যই প্রশংসনীয়। আমরা সাধারণত ইতিহাস সম্পর্কে পড়ি কিন্তু আমাদের দেশের ইতিহাস ঐতিহ্যগুলোকে এখানে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে । যেটি আমরা সচারাচর দেখতে পাই না সেগুলো খুব সুন্দর ভাবে এখানে উপস্থাপন করা হয়েছে৷
ইতিহাস ও প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের শিক্ষার্থী শারজিদা বলেন, এই উৎসবের মাধ্যমে আমরা অতীতকে সবার সামনে তুলে ধরার চেষ্টা করেছি। প্রত্নতত্ত্বের প্রকৃত তাৎপর্য তুলে ধরতে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে এর গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টি করাই ছিল আমাদের উদ্দেশ্য।
বেরোবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. শওকাত আলী বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় এমন একটি জায়গা যেখানে গবেষণা মাধ্যম সবকিছু নতুনভাবে তুলে ধরা৷ ইতিহাস বিভাগের আজকের এই আয়োজন আমাদের মধ্য ও প্রচীন বাংলাসহ সভ্যতার বিভিন্ন ইতিহাস ও প্রত্নস্থান তুলে ধরেছে৷
