চলছে পে-স্কেলের আইনি যাচাই, শিগগিরই গেজেট
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:২৬ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
সরকারি চাকরিজীবীদের বহুল আলোচিত নবম জাতীয় পে স্কেলের গেজেট প্রকাশের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। প্রজ্ঞাপনের খসড়া রেজল্যুশন বাংলাদেশ সরকারি মুদ্রণালয় (বিজি প্রেস) হয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ে পৌঁছানোর পর বর্তমানে আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিং বা আইনি যাচাই চলছে। এই প্রক্রিয়া শেষ হলে এসআরও নম্বর দিয়ে দ্রুত প্রজ্ঞাপন জারি করা হতে পারে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত ২ সেপ্টেম্বর পে স্কেলের রেজল্যুশন বিজি প্রেসে পাঠানো হয়। প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষে সেটি অর্থ মন্ত্রণালয়ে ফিরে আসে। বর্তমানে প্রজ্ঞাপনটি আইন মন্ত্রণালয়ের পর্যালোচনায় রয়েছে। আইনি ও প্রশাসনিক আনুষ্ঠানিকতা শেষ হওয়ার পরই গেজেট প্রকাশের পরবর্তী কার্যক্রম শুরু হবে।
এর আগে গত ৩১ আগস্ট মন্ত্রিসভার বৈঠকে নবম জাতীয় পে স্কেল অনুমোদন দেওয়া হয়। নতুন বেতন কাঠামো ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে।
নতুন পে স্কেলে সরকারি চাকরিজীবীদের বিভিন্ন গ্রেডে মূল বেতন উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। তবে বর্ধিত মূল বেতন একবারে কার্যকর না করে তিন ধাপে বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
নতুন কাঠামো অনুযায়ী, ২০তম গ্রেডের মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা করা হয়েছে। তিন ধাপে এ বেতন হবে যথাক্রমে ১৪ হাজার ১২৫ টাকা, ১৭ হাজার ৬২ টাকা ৫০ পয়সা এবং ২০ হাজার টাকা।
অন্যদিকে, ১ম গ্রেডের মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা করা হয়েছে। তিন ধাপে এ গ্রেডের মূল বেতন দাঁড়াবে যথাক্রমে ১ লাখ ৯ হাজার ২০০ টাকা, ১ লাখ ৩২ হাজার ৬০০ টাকা এবং ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা।
এ ছাড়া ৯ম গ্রেডের মূল বেতন ২২ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ৪৪ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। তিন ধাপে এ গ্রেডের বেসিক হবে যথাক্রমে ৩০ হাজার ৮০০ টাকা, ৩৭ হাজার ৪০০ টাকা এবং ৪৪ হাজার টাকা।
নীতিমালা অনুযায়ী, ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের ক্ষেত্রে বর্ধিত বেতনের ৫০ শতাংশ প্রথম ধাপে, ২৫ শতাংশ দ্বিতীয় ধাপে এবং বাকি ২৫ শতাংশ তৃতীয় ধাপে কার্যকর হবে। আর ১ম থেকে ৯ম গ্রেডের ক্ষেত্রে বর্ধিত অংশের ৪০ শতাংশ, ৩০ শতাংশ ও ৩০ শতাংশ হারে তিন ধাপে নতুন বেতন কার্যকর করার কথা রয়েছে।
তবে নতুন পে স্কেলে মূল বেতন বাড়লেও বাড়িভাড়া, চিকিৎসা, শিক্ষা ও যাতায়াতসহ অন্যান্য ভাতা একই সময়ে কার্যকর হবে না। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২০২৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে নতুন কাঠামোয় এসব ভাতা দেওয়ার কথা রয়েছে।
নবম জাতীয় পে স্কেল বাস্তবায়ন হলে সরকারি চাকরিজীবী ও পেনশনভোগীদের বেতন, ভাতা ও পেনশন খাতে সরকারের অতিরিক্ত প্রায় ১ লাখ ৫ হাজার ৫৮০ কোটি টাকা ব্যয় হবে। এতে সরকারি চাকরিজীবী ও পেনশনভোগী মিলিয়ে প্রায় ৩৩ লাখ মানুষ নতুন বেতন কাঠামোর আওতায় আসবেন।
সরকারের রাজস্ব আদায়, মূল্যস্ফীতি ও বাজেট ব্যবস্থাপনায় অতিরিক্ত চাপ কমাতে ধাপে ধাপে নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
