রাজধানীতে চাঁদাবাজি ও হামলার ঘটনায় দুই মামলা, আটক ৪
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ১০:৫৭ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
রাজধানীর ফকিরাপুলে সিএম এক্সপোর্ট অ্যান্ড ইমপোর্ট এজেন্সিতে চাঁদা দাবি ও হামলার ঘটনায় পৃথক দুটি মামলা হয়েছে। এ ঘটনায় চারজনকে আটক করেছে পুলিশ। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় প্রতিষ্ঠানটিতে হামলা এবং পরে কয়েকজন কর্মীকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করার অভিযোগ উঠেছে একটি চক্রের বিরুদ্ধে।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) রাত ৯টার দিকে স্থানীয় সন্ত্রাসী শুভর নেতৃত্বে প্রায় ১৫ সদস্যের একটি দল প্রতিষ্ঠানটিতে চাঁদা দাবি করতে যায় বলে অভিযোগ সংশ্লিষ্টদের। এ সময় তাদের কাছে দেশীয় অস্ত্র ও আগ্নেয়াস্ত্র ছিল। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে দলটির সদস্যদের আটকের চেষ্টা করে। চারজনকে আটক করা সম্ভব হলেও বাকিরা পালিয়ে যায়।
সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, অভিযানের পর আটক ব্যক্তিদের মধ্যে কয়েকজনকে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়। তবে ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে চারজনকে আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
অভিযোগ রয়েছে, ঘটনার প্রায় আধা ঘণ্টা পর প্রতিষ্ঠানটির কয়েকজন কর্মী বাসায় যাওয়ার জন্য ভবনের নিচে নামলে তাঁদের ওপর হামলা চালায় ওই চক্রের সদস্যরা। এ সময় চাপাতি ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাঁদের হাত-পায়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করা হয়।
সংশ্লিষ্টদের দাবি, শুভর সহযোগী হিসেবে ওই ঘটনায় সাইদুর রহমান, ইলিয়াস হোসেন, শিমুল, ফারুক আহমেদ, আরাফ হোসেন, মাইনুদ্দিন, তপন, শাওন, মোশাররফ হোসেন, সামিউল হক, নেছার ও হাসান জড়িত ছিলেন।
তাঁদের আরও দাবি, শুভ ও তাঁর সহযোগীদের জিজ্ঞাসাবাদে জাহিদ ওরফে গের গের জাহিদের নাম উঠে এসেছে। তাঁদের পাঠানোর পেছনে জাহিদের ভূমিকা ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, জাহিদের বিরুদ্ধে অস্ত্র ও চাঁদাবাজির একাধিক মামলা রয়েছে।
এ ঘটনায় প্রতিষ্ঠানটির কর্তৃপক্ষের পক্ষে সাহেব আলী বাদী হয়ে ডিএমপির পল্টন থানায় চাঁদাবাজির মামলা করেছেন। মামলায় ১৭ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ১৫ থেকে ২০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
অন্যদিকে, কর্মীদের ওপর হামলা ও গুরুতর জখমের ঘটনায় প্রতিষ্ঠানটির কর্মী ইমতিয়াজ বাদী হয়ে ডিএমপির মতিঝিল থানায় পৃথক মামলা করেছেন। এ মামলায় ১৪ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা ১০ থেকে ১৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, কর্মীদের ওপর পরবর্তী হামলায় গের গের জাহিদ নেতৃত্ব দেন। এ সময় তাঁর সহযোগীরা দেশীয় অস্ত্র ও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে হামলা চালান। কর্মীদের হাত-পায়ে চাপাতি ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে গুরুতর জখম করা হয়।
এ বিষয়ে মতিঝিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাংবাদিকদের বলেন, ‘এজাহার পাওয়ার পরে মামলা তদন্ত চলছে এবং আসামিদের গ্রেফতারের সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি। ঘটনার পর থেকে আসামিরা পলাতক, কিন্তু আমাদের অভিযান অব্যাহত আছে, চেষ্টা করছি, ইনশাআল্লাহ হয়ে যাবে।’
এদিকে স্থানীয়দের অভিযোগ, অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে এলাকায় মাদক কারবার ও চাঁদাবাজির একাধিক অভিযোগ রয়েছে। তাঁদের কর্মকাণ্ডে ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন পেশার মানুষ অতিষ্ঠ। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
