নতুন রাজনৈতিক দল গড়ার ইঙ্গিত সামান্তার
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ১১:২৭ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকে পদত্যাগের পর নতুন রাজনৈতিক শক্তি গড়ে তোলার ইঙ্গিত দিয়েছেন দলটির সাবেক নেত্রী সামান্তা শারমিন। তরুণদের নেতৃত্বে বিভাজনমুক্ত, গণতান্ত্রিক ও জাতীয় স্বার্থভিত্তিক রাজনীতি প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানিয়ে এ উদ্যোগে আগ্রহীদের সঙ্গে কাজ করার অঙ্গীকার করেছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) নিজের ফেসবুক টাইমলাইনে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে সামান্তা শারমিন বলেন, অভ্যুত্থান-পরবর্তী বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় প্রয়োজন ছিল এমন একটি রাজনৈতিক স্বপ্ন ও সম্ভাবনা তৈরি করা, যা মানুষকে বিভক্ত না করে ভিন্নমত ও ভিন্ন পরিচয়ের মানুষকে অভিন্ন জাতীয় আকাঙ্ক্ষার ভিত্তিতে ঐক্যবদ্ধ করবে।
তাঁর মতে, তরুণদের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা এনসিপিকে ঘিরে মানুষের প্রত্যাশা ছিল প্রচলিত রাজনৈতিক বিভাজনের বাইরে গিয়ে নতুন ধারার রাজনীতি প্রতিষ্ঠা করা। কিন্তু সংকীর্ণ রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশ ও বিভিন্ন সিদ্ধান্তের কারণে সেই সম্ভাবনা ক্রমেই হারিয়ে যাচ্ছে।
তবে কোনো একটি দল কিংবা কয়েকজন নেতার সম্ভাবনা হারিয়ে যাওয়ার অর্থ মানুষের রাজনৈতিক আকাঙ্ক্ষার মৃত্যু নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি। সামান্তার মতে, বাংলাদেশে এখনো এমন একটি রাজনৈতিক শক্তির প্রয়োজন রয়েছে, যার মূল লক্ষ্য হবে মানুষকে বিভক্ত করা নয়, বরং ঐক্যবদ্ধ করা।
তিনি বলেন, এই ঐক্যের ভিত্তি হতে হবে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার অভিন্ন অঙ্গীকার। কোনো বিশেষ মতাদর্শ, ধর্মীয় পরিচয় কিংবা একক রাজনৈতিক বিশ্বাসের ভিত্তিতে নয়; বরং ভিন্নমত ও ভিন্ন বিশ্বাসের মানুষকে সঙ্গে নিয়েই এমন রাজনৈতিক শক্তি গড়ে তুলতে হবে।
পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রেও বাংলাদেশের নিজস্ব স্বার্থকে প্রাধান্য দেওয়ার আহ্বান জানান সামান্তা শারমিন। তাঁর বক্তব্য, ভারতবিরোধিতা করতে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ নেওয়া কিংবা যুক্তরাষ্ট্রবিরোধিতা করতে গিয়ে চীনের স্বার্থের সঙ্গে নিজেদের অবস্থান মেলানো স্বাধীন ও আত্মমর্যাদাশীল বাংলাদেশের রাজনীতি হতে পারে না।
তাঁর মতে, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি নির্ধারিত হওয়া উচিত দেশের স্বার্থ, সার্বভৌমত্ব ও জনগণের কল্যাণের ভিত্তিতে। ভারতের সঙ্গে কোনো চুক্তি দেশের স্বার্থ ক্ষুণ্ন করলে যেমন তার বিরোধিতা করতে হবে, তেমনি যুক্তরাষ্ট্র, চীন কিংবা অন্য যেকোনো দেশের সঙ্গে চুক্তির ক্ষেত্রেও একই মানদণ্ড অনুসরণ করা প্রয়োজন।
নারীর রাজনৈতিক ও সামাজিক অংশগ্রহণ, নেতৃত্ব এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি। পাশাপাশি জাতীয় পুঁজির বিকাশ ও সুরক্ষা, দেশীয় উৎপাদন ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, অর্থনৈতিক বৈষম্য হ্রাস এবং রাষ্ট্রীয় সম্পদ ও নীতিনির্ধারণে জনগণের স্বার্থ রক্ষায় সুস্পষ্ট রাজনৈতিক অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানান।
সামান্তা শারমিনের মতে, জাতীয় স্বার্থ রক্ষা মানে শুধু বিদেশি প্রভাবের বিরোধিতা নয়; দেশের অভ্যন্তরে জনগণের অধিকার ও অর্থনৈতিক সম্ভাবনাকে সংকুচিত করে এমন ক্ষমতাকাঠামো এবং স্বার্থের বিরুদ্ধেও অবস্থান নিতে হবে।
নতুন রাজনৈতিক উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে তিনি বলেন, বাংলাদেশের তরুণদের সামনে এখন চ্যালেঞ্জ শুধু নতুন একটি দল গঠন করা নয়; বরং এমন রাজনৈতিক ঐক্য নির্মাণ করা, যেখানে ভিন্নমত থাকবে, কিন্তু বিভাজন রাজনীতির চালিকাশক্তি হবে না। মতাদর্শের পার্থক্য থাকলেও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার অভিন্ন লক্ষ্য যেন হারিয়ে না যায়।
পোস্টের শেষাংশে সামান্তা শারমিন জানান, এ ধরনের রাজনৈতিক প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে কাজ করতে তিনি অঙ্গীকারবদ্ধ। এ বিষয়ে বিস্তারিত মতবিনিময়ের জন্য আগ্রহীদের তাঁর সঙ্গে যোগাযোগের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সবাইকে সঙ্গে নিয়ে গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ার উদ্যোগ এগিয়ে নিতে চান।
উল্লেখ্য, এর আগে জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে জোট রাজনীতি, দলের অভ্যন্তরে গণতন্ত্রের অভাব, নারী অধিকারের অবমূল্যায়ন এবং পুরোনো রাজনৈতিক সংস্কৃতির পুনরাবৃত্তির অভিযোগ তুলে এনসিপি থেকে পদত্যাগ করেন সামান্তা শারমিন।
