বাংলাদেশি ৫ জেলেকে ধরে নিয়ে গেছে আরাকান আর্মি
শহীদ উল্লাহ, টেকনাফ (কক্সবাজার) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৮ অক্টোবর ২০২৪, ০৯:১৬ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
কক্সবাজারের টেকনাফের নাফ নদীর শাহপরীর দ্বীপ মোহনা থেকে পাঁচ বাংলাদেশি জেলেকে ধরে নিয়ে গেছে মিয়ানমারের সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান আর্মির (এএ) সদস্যরা। সোমবার (৭ অক্টোবর) দুপুরে জেলেদের ধরে নিয়ে যাওয়া হলেও বিষয়টি মঙ্গলবার (৮ অক্টোবর) জানাজানি হয়েছে বলে জানিয়েছেন টেকনাফ উপজেলার সাবরাং ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য আবদুস সালাম।
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় টেকনাফ ২ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মহিউদ্দীন আহমেদ এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, জেলেদের ফেরত নিয়ে আসতে বিজিবির পক্ষ থেকে মিয়ানমারের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে।
বিজিবি জানিয়েছে, বিষয়টি স্থানীয় জন প্রতিনিধিসহ জেলে পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছে। মিয়ানমারের ওই অংশটি আরাকান আর্মির দখলে রয়েছে। ফলে আরাকান আর্মির সদস্যরাই তাদের ধরে নিয়ে গেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। জেলেদের ফেরত আনতে আলোচনা চলছে।
জেলেরা হলেন- শাহপরীর দ্বীপ জালিয়াপাড়ার আবদুর রহিমের ছেলে মো. আলম (২২), আবদুল মজিদের ছেলে মো. রাসেল মিয়া (২৩) ও মো. সাইফুল মিয়া (১৭), রফিকুল ইসলামের ছেলে বোরহান উদ্দিন (১৯) এবং চকরিয়ার খোরশেদ আলমের ছেলে মো. রাশেদ (২৪)।
আরো পড়ুন: সোনামসজিদ স্থলবন্দরে আমদানি-রপ্তানি বন্ধ
সোমবার বিকেল তিনটার দিকে নাফ নদীর টেকনাফ পৌরসভার সংলগ্ন এলাকা থেকে তাদেরকে নৌকাসহ ধরে নিয়ে যায়। স্থানীয় ইউপি সদস্য আবদুস সালাম পরিবারের বরাত দিয়ে এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, সোমবার দুপুরের পাঁচজন জেলে বড়শি নিয়ে নাফ নদীতে মাছ শিকার করতে নামেন।
সন্ধ্যার দিকে তাদেরকে টেকনাফ পৌরসভা সংলগ্ন নাফ নদী থেকে মিয়ানমারের আরকান আর্মির সদস্যরা ধরে নিয়ে যান। রাতে ধরে নিয়ে যাওয়া জেলেরা মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করে পরিবারকে অবহিত করেন। তারা বর্তমানে টেকনাফের বিপরীতে মিয়ানমারের প্রাংপুরু আরাকান আর্মির হেফাজতে রয়েছেন।
বোরহানের বড় ভাই মো. ইয়াহিয়া বলেন, মিয়ানমার কর্তৃপক্ষের সঙ্গে টেকনাফ বিজিবির পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হচ্ছে।
শাহপরীর দ্বীপ জালিয়াপাড়া ক্ষুদ্র মৎস্য সমবায় সমিতির সভাপতি আব্দুল গনি বলেন, নাফ নদীতে মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞা থাকলেও পরিবারের চাহিদা মেটাতে কিছু লোক স্থানীয় প্রশাসনের চোখকে ফাঁকি দিয়ে জীবিকা নির্বাহ করে আসছিল। সোমবার পাঁচজন বড়শি জেলেকে মিয়ানমারের সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান আর্মির (এএ) সদস্যরা ধরে নিয়ে গেছে।
