‘আর্টিকেল ৫১’ কি সাহাবুদ্দিনের রক্ষাকবচ?
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৪ জুলাই ২০২৬, ১১:৪৭ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
‘কিসের বিচার করবে, আর্টিকেল ফিফটি ওয়ানটা পড়ুক’ -এক গণমাধ্যমকে দেওয়া সদ্য পদত্যাগী রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের এই বক্তব্য ঘিরে আবারও আলোচনায় এসেছে বাংলাদেশের সংবিধানের ৫১ অনুচ্ছেদ (আর্টিকেল ৫১)। রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালনকালীন এই অনুচ্ছেদ তাঁকে যে সাংবিধানিক সুরক্ষা দেয়, সেটিই এখন আলোচনার বিষয়।
বাংলাদেশের সংবিধানের ৫১ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি তাঁর সাংবিধানিক ক্ষমতা ও দায়িত্ব পালনের জন্য কোনো আদালতের কাছে জবাবদিহি করতে বাধ্য নন। একই সঙ্গে দায়িত্বে থাকাকালে তাঁর বিরুদ্ধে কোনো ফৌজদারি (ক্রিমিনাল) মামলা দায়ের বা পরিচালনা করা যায় না। এমনকি দায়িত্ব পালনকালীন তাঁকে গ্রেপ্তার বা আটক করার জন্য আদালত থেকেও কোনো পরোয়ানা জারি করা যায় না।
সংবিধানের ৫১ অনুচ্ছেদের মূল বিষয়গুলো হলো-
১. রাষ্ট্রপতি তাঁর সাংবিধানিক ক্ষমতা ও দায়িত্ব পালনের জন্য কোনো আদালতের কাছে জবাবদিহি করতে বাধ্য নন।
২. দায়িত্বে থাকাকালে রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে কোনো ফৌজদারি (ক্রিমিনাল) মামলা দায়ের বা পরিচালনা করা যাবে না।
৩. দায়িত্বে থাকাকালে রাষ্ট্রপতিকে গ্রেপ্তার বা আটক করার জন্য কোনো আদালত থেকে পরোয়ানা জারি করা যাবে না।
৪. রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে কোনো ব্যক্তিগত (সিভিল) মামলা করতে হলে আইন অনুযায়ী নির্ধারিত সময় আগে লিখিত নোটিশ প্রদান করতে হবে।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, রাষ্ট্রপতির পদ যেন নির্বিঘ্নে সাংবিধানিক দায়িত্ব পালন করতে পারে, সে উদ্দেশ্যেই সংবিধানে এই দায়মুক্তির বিধান রাখা হয়েছে। তবে এই সুরক্ষা মূলত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালনকালীন সময়ের জন্য প্রযোজ্য।
দায়িত্ব শেষ হওয়ার পর রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ বা আইনি প্রশ্ন উত্থাপিত হলে, তার নিষ্পত্তি হবে সংশ্লিষ্ট আইন, সংবিধানের অন্যান্য বিধান এবং আদালতের ব্যাখ্যার ভিত্তিতে।
তবে সংবিধানের ৫১ অনুচ্ছেদে দায়িত্ব-পরবর্তী সময়ে রাষ্ট্রপতির জন্য স্থায়ী বা সর্বাত্মক দায়মুক্তির কোনো স্পষ্ট বিধান নেই। ফলে বিদায়ী রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের বিরুদ্ধে ভবিষ্যতে কোনো আইনি পদক্ষেপ নেওয়া যাবে কি না, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নির্ভর করবে অভিযোগের প্রকৃতি, প্রযোজ্য আইন এবং আদালতের ব্যাখ্যার ওপর।
