সাড়ে ১৩ লাখ টাকার স্বর্ণালংকার চুরি, অভিযুক্ত যুবক গ্রেফতার
মেঘনা (কুমিল্লা) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৩ জুলাই ২০২৬, ০৫:৪৮ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
কুমিল্লার মেঘনা উপজেলায় সিঁধ কেটে চুরির ঘটনায় মো. রাব্বি (১৯) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তিনি পার্শ্ববর্তী মুন্সীগঞ্জ জেলার গজারিয়া উপজেলার বড়ইকান্দি গ্রামের শাহজাহান বেপারীর ছেলে।
শুক্রবার (৩ জুলাই) দিবাগত রাত পৌনে ১টার দিকে তার নিজ বাড়ি থেকে মো. রাব্বিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এর আগে গত ১ জুলাই উপজেলার লুটেরচর ইউনিয়নের দড়ি লুটেরচর গ্রামের স্বাস্থ্য সহকারী রিটন মিয়া ও তাঁর স্ত্রী, একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা মোসা. ফাতেমাতুজ জহুরা সকালে নিজ নিজ কর্মস্থলে এবং তাঁদের সন্তানরা স্কুলে চলে গেলে বাড়িটি ফাঁকা হয়ে পড়ে। সেই সুযোগে দুপুর দেড়টার দিকে রাব্বি ও তার সহযোগীরা এ চুরির ঘটনা ঘটায়।
থানা সূত্রে জানা যায়, গ্রেপ্তার হওয়া রাব্বি ও তাঁর অজ্ঞাতনামা সহযোগীরা বাড়ির পূর্ব পাশের দরজার খিল খুলে ঘরে প্রবেশ করে আলমারির তালা ভেঙে আনুমানিক ১৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা মূল্যের ৫ দশমিক ৫০ ভরি স্বর্ণালংকার চুরি করে। চুরির সময় প্রতিবেশী হেলেনা আক্তার বাড়ির সামনে রাব্বিকে দেখতে পেয়ে সেখানে অবস্থানের কারণ জানতে চাইলে তিনি পায়খানার বেগ হওয়ার কথা বলে পরিচয় দিয়ে চলে যান। এ সময় স্থানীয় সোহরাব হোসেন ও শামিম মিয়াও তাঁকে ওই এলাকায় দেখতে পান। পরে দুপুরে রিটন মিয়ার ছেলে ফাতিন ইশতিয়াক স্কুল থেকে বাড়ি ফিরে ঘরের দরজা খোলা এবং মালামাল এলোমেলো অবস্থায় দেখে তাঁর চাচা টিটু মিয়াকে বিষয়টি জানায়।
খবর পেয়ে রিটন মিয়া ও তাঁর স্ত্রী বাড়িতে এসে স্বর্ণালংকার চুরির বিষয়টি নিশ্চিত হন। পরদিন বৃহস্পতিবার রিটন মিয়া মেঘনা থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্তে স্থানীয়দের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এ বিষয়ে মেঘনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শহীদুল ইসলাম বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে রাব্বি চুরির ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। তবে চুরি করা স্বর্ণালংকার কোথায় রাখা হয়েছে বা কার কাছে বিক্রি করা হয়েছে, সে বিষয়ে তিনি অসংলগ্ন তথ্য দেওয়ায় এখনো চোরাই মালামাল উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। এছাড়াও ঘটনায় জড়িত পলাতক সহযোগীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, শুক্রবার সকালে আসামিকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে এবং তদন্তের স্বার্থে আসামির রিমান্ড আবেদন করা হতে পারে।
