নদীভাঙনে বিপর্যস্ত দৌলতপুর, আশ্রয়হীন শত শত পরিবার
মো. শাহ আলম, দৌলতপুর (মানিকগঞ্জ)
প্রকাশ: ০৩ জুলাই ২০২৬, ০৬:১১ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
মানিকগঞ্জের দৌলতপুর উপজেলায় যমুনা ও কালিগঙ্গা নদীর পানি বৃদ্ধির সঙ্গে তীব্র আকার ধারণ করেছে নদীভাঙন। কয়েক দিনের টানা ভাঙনে উপজেলার আটটি ইউনিয়নের মধ্যে ছয়টি ইউনিয়নের শত শত বসতবাড়ি, বিস্তীর্ণ ফসলি জমি, গ্রামীণ কাঁচা সড়ক এবং বিভিন্ন স্থাপনা নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। ভাঙনের মুখে রয়েছে একটি মাদ্রাসা ও একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ও। শেষ সম্বল হারিয়ে খোলা আকাশের নিচে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছেন নদীপাড়ের শত শত পরিবার।
সরেজমিনে দেখা গেছে, বাঘুটিয়া ইউনিয়নের কালকাপুর শুকুরিয়া আলিয়া মাদ্রাসা যমুনা নদীর তীব্র ভাঙনের মুখে রয়েছে। এছাড়া সদর, চকমিরপুর, জিয়নপুর, খলসী, বাঘুটিয়া, চরকাটারী ও বাচামারা ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা নদীভাঙনের কারণে চরম ঝুঁকিতে পড়েছে। ভাঙনের তীব্রতা এতটাই বেশি যে অনেক পরিবার ঘরবাড়ি ও প্রয়োজনীয় মালামাল নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার সুযোগও পাচ্ছে না।
অন্যদিকে, জিয়নপুর ও খলসী ইউনিয়নে প্রমত্তা কালিগঙ্গা নদী গ্রাস করছে আবাদি জমি ও বসতভিটা। একই সঙ্গে তীব্র ঝুঁকিতে পড়েছে জিয়নপুর ইউনিয়নের বৈট্টা ৮৩ নম্বর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে যেকোনো সময় বিদ্যালয়টি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যেতে পারে।
স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. আলিম বলেন, বিদ্যালয়টি এ এলাকার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। বর্তমানে নদীভাঙন ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে স্কুলটি রক্ষা করা কঠিন হবে।
নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত বাসিন্দা মমিন বলেন, আমাদের ঘরবাড়ি সব নদীতে চলে গেছে। অথচ সময়মতো একটা জিও ব্যাগও ফেলা হয়নি। আমাদের দুর্ভোগ দেখার কেউ নেই।
ভাঙনকবলিত এলাকার বাসিন্দাদের অভিযোগ, প্রতি বছর ভাঙন শুরু হলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কিছু জিও ব্যাগ ফেলে সাময়িকভাবে পরিস্থিতি মোকাবিলার চেষ্টা করা হয়। কিন্তু নদীশাসন বা স্থায়ী প্রতিরক্ষা বাঁধ নির্মাণে দীর্ঘমেয়াদি কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয় না। ফলে প্রতিবছরই দৌলতপুরের নতুন নতুন এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে এবং অসংখ্য পরিবার সর্বস্বান্ত হয়ে পড়ছে।
তাদের দাবি, সাময়িক ত্রাণ নয়; নদীভাঙন রোধে দ্রুত স্থায়ী ও টেকসই বাঁধ নির্মাণের উদ্যোগ নিতে হবে।
দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাহিয়ান নূরেন বলেন, ভাঙনকবলিত এলাকার তালিকা ইতোমধ্যে পানি উন্নয়ন বোর্ডে (পাউবো) পাঠানো হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার চেষ্টা চলছে। পাশাপাশি ঝুঁকিতে থাকা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ নদীতীরবর্তী এলাকাগুলো রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তবে স্থানীয়দের ভাষ্য, আশ্বাস নয়- দ্রুত মাঠপর্যায়ে স্থায়ী নদীশাসন ও বাঁধ নির্মাণকাজ শুরু হলেই কেবল দৌলতপুরের নদীপাড়ের মানুষের দুর্ভোগ কমবে।
