রাঙ্গামাটিতে অবৈধ অটোরিকশা বন্ধে প্রশাসনকে ৬ দিনের আলটিমেটাম
রাঙ্গামাটি প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৬ জুলাই ২০২৬, ০৫:০৩ পিএম
ছবি: ভোরের কাগজ
রাঙ্গামাটি শহরে রেজিস্ট্রেশন ও রুট পারমিটবিহীন অবৈধ অটোরিকশা চলাচল বন্ধের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন রাঙ্গামাটি অটোরিকশা চালক ও মালিকরা। এ সময় দাবি বাস্তবায়নে জেলা প্রশাসনকে ছয় দিনের আলটিমেটাম দেওয়া হয়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ব্যবস্থা নেওয়া না হলে আগামী রোববার থেকে শহরে সব অটোরিকশা চলাচল বন্ধ করে দেওয়ার ঘোষণা দেন তারা।
সোমবার ৬ জুলাই রাঙ্গামাটি জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে প্রায় এক ঘণ্টাব্যাপী এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
মানববন্ধনে বক্তব্য দেন রাঙ্গামাটি অটোরিকশা মালিক সমিতির সভাপতি আলী বাবর, রাঙ্গামাটি জেলা অটোরিকশা চালক সমিতির সভাপতি মো. আবুল কালাম, সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান বাবু, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. শহিদুল মিয়া, অর্থ সম্পাদক অজিত দে এবং চালক মো. রনি প্রমুখ।
বক্তারা বলেন, রাঙ্গামাটি একটি ছোট শহর। বর্তমানে শহরে প্রায় ১ হাজার ৪০০ নিবন্ধিত অটোরিকশা চলাচল করছে। এতেই চালকদের আয় কমে গেছে এবং অনেকের পক্ষে পরিবার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। এরই মধ্যে রেজিস্ট্রেশন ও রুট পারমিটবিহীন আরও প্রায় ৩০০ থেকে ৪০০ অটোরিকশা অবৈধভাবে চলাচল করছে, যা বৈধ চালকদের জীবিকা হুমকির মুখে ফেলেছে।
তাদের অভিযোগ, অবৈধ অটোরিকশার অনেক চালক যাত্রীদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন। বিভিন্ন অনিয়ম ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগও তাদের বিরুদ্ধে রয়েছে। কিন্তু এসব ঘটনার দায় এসে পড়ে বৈধ অটোরিকশা চালকদের ওপর, ফলে তাদের সুনাম ক্ষুন্ন হচ্ছে।
বক্তারা আরও অভিযোগ করেন, অবৈধ অটোরিকশা চলাচলের পেছনে প্রশাসনের কিছু অসাধু ব্যক্তির যোগসাজশ রয়েছে। তারা মাসোহারার বিনিময়ে এসব অটোরিকশা চলাচলের সুযোগ করে দিচ্ছেন। এ বিষয়ে নিজেদের কাছে প্রমাণ রয়েছে বলেও দাবি করেন তারা। তবে প্রশাসনের সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি হোক, তা না চাওয়ায় আপাতত সেসব তথ্য প্রকাশ করা হয়নি বলে জানান বক্তারা।
মানববন্ধন থেকে বক্তারা জেলা প্রশাসনের উদ্দেশে বলেন, আগামী শনিবারের মধ্যে রাঙ্গামাটি শহরে চলাচলকারী সব অবৈধ অটোরিকশা বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। অন্যথায় আগামী রোববার থেকে শহরের সব বৈধ অটোরিকশা অনির্দিষ্টকালের জন্য চলাচল বন্ধ রাখা হবে।
উল্লেখ্য, রাঙ্গামাটি শহরে অটোরিকশাই অন্যতম প্রধান এবং কার্যত একমাত্র গণপরিবহন। ফলে অটোরিকশা চলাচল বন্ধ হয়ে গেলে পৌর এলাকার স্বাভাবিক জনজীবন ও যোগাযোগব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
