ফটিকছড়িতে হরতাল
দ্বিতীয় দিনেও অচল মহাসড়ক, ভোগান্তি
ফটিকছড়ি (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৭ জুলাই ২০২৬, ০৫:৩৩ পিএম
ছবি: ভোরের কাগজ
নবগঠিত ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলা সদর দপ্তর যৌক্তিক স্থানে স্থাপনের দাবিতে ডাকা ৪৮ ঘণ্টার হরতালের দ্বিতীয় দিনেও অচল হয়ে আছে ফটিকছড়ির উত্তরাঞ্চল। সোমবার সকাল থেকে ঢাকা-খাগড়াছড়ি মহাসড়কসহ উপজেলার অভ্যন্তরীণ গুরুত্বপূর্ণ সড়কে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে।
হরতালের কারণে ওই এলাকার ব্যবসা বানিজ্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি অফিস কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। এতে করে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ।
জানা গেছে, ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলা বাস্তবায়ন পরিষদের ডাকে রোববার ভোর ৬টা থেকে এই ৪৮ ঘণ্টার হরতাল কর্মসূচি শুরু হয়। সোমবার হরতালের দ্বিতীয় দিনে সকাল থেকেই আন্দোলনকারীরা নারায়ণহাট, দাঁতমারা, শান্তিরহাট, হেঁয়াকো, চিকনছড়া ও বাগানবাজার এলাকার প্রায় ২৫-৩০টি স্থানে গাছের গুঁড়ি ও টায়ার জ্বালিয়ে ব্যারিকেড সৃষ্টি করে। ফলে ঢাকা-খাগড়াছড়ি মহাসড়কের ফটিকছড়ি অংশ এবং চট্টগ্রাম-হেঁয়াকো সড়কে কোনো যানবাহন চলাচল করতে পারেনি। দূরপাল্লার বাস ও পণ্যবাহী ট্রাকসহ শত শত যানবাহন সড়কে আটকা পড়েছে।
আরও পড়ুন: সাতক্ষীরার সাবেক এমপি নজরুল ইসলাম গ্রেপ্তার
আন্দোলনকারী স্থানীয় বাসিন্দা হাসান শামসুদ্দিন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, একটি উপজেলার প্রায় ৭২ শতাংশ মানুষের মতামতকে অগ্রাহ্য করা করা হয়েছে। চারটি ইউনিয়নের বিপুলসংখ্যক মানুষের যৌক্তিক দাবি উপেক্ষা করে মাত্র একটি ইউনিয়নের স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে সদর দপ্তর নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রশাসনের এই একপেশে সিদ্ধান্তের কারণে আজ আড়াই লাখ মানুষকে অনাকাঙ্ক্ষিত সংঘাত ও কষ্টের দিকে ঠেলে দেওয়া হয়েছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, হরতাল সমর্থকদের সরব উপস্থিতিতে বাগানবাজার থেকে নারায়ণহাট পর্যন্ত পুরো এলাকা থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে গুরুত্বপূর্ণ স্পটগুলোতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
এ বিষয়ে ভূজপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বিপুল চন্দ্র দে জানান, হরতালের কারণে মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিতে পুলিশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
