যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা অর্থহীন: ইরানি প্রেসিডেন্ট
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৩৮ এএম
ছবি : সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা করে কোনো লাভ নেই বলে মন্তব্য করেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। সোমবার (৫ অক্টোবর) তেহরানে আর্মেনিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরারাত মির্জোয়ানের সঙ্গে বৈঠকে তিনি এ মন্তব্য করেন।
ইরানের বার্তা সংস্থা ফারস নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদনে পেজেশকিয়ানকে উদ্ধৃত করে বলা হয়, যে পক্ষ প্রতিদিন হত্যা, নিষেধাজ্ঞা, চাপ ও হুমকি দেয় এবং প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করে, তার সঙ্গে আলোচনার কোনো অর্থ নেই। ইরানের জনগণও এ ধরনের পদ্ধতি মেনে নেবে না বলে মন্তব্য করেন তিনি।
এদিকে ইয়েমেনে হুথিদের সঙ্গে নতুন করে সামরিক উত্তেজনার মধ্যে সৌদি আরবের সঙ্গে করা দ্বিপক্ষীয় নিরাপত্তা চুক্তির প্রতিশ্রুতি যুক্তরাষ্ট্র বজায় রাখবে বলে জানিয়েছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও।
সোমবার ইউরোপ সফরে যাওয়ার আগে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে রুবিও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের মধ্যে একটি প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা চুক্তি রয়েছে এবং ওয়াশিংটন সেটি মেনে চলতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তবে এ ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র কী ধরনের সামরিক পদক্ষেপ নিতে পারে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানাননি তিনি।
হুথিদের ধারাবাহিক হামলার মুখে সৌদি আরবের আত্মরক্ষার অধিকার রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন রুবিও। তাঁর ভাষ্য, ইয়েমেনের মিত্র বাহিনীগুলো আগের সংঘাতে হারানো এলাকাগুলো পুনর্দখলের চেষ্টা করছে।
বাব আল-মান্দাব প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিয়েও কথা বলেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, সৌদি ও ইয়েমেনি বাহিনী গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথের কাছে হুথিদের আধিপত্যের বিরোধিতা করছে। স্থানীয় বাহিনীর পাল্টা অভিযানকে তিনি প্রত্যাশিত বলেও উল্লেখ করেন।
এর আগে সোমবার ইয়েমেনের প্রেসিডেন্সিয়াল লিডারশিপ কাউন্সিলের চেয়ারম্যান রাশাদ আল-আলিমি রাজধানী সানা পুনর্দখলের জন্য সামরিক অভিযান শুরুর ঘোষণা দেন। হুথিদের কাছ থেকে শহরটি পুনর্দখল করে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো চালুর লক্ষ্যে ‘ভাই ও বন্ধুদের’ সহযোগিতায় এ অভিযান শুরু করা হয়েছে বলে জানান তিনি। হুথিরা ২০১৪ সাল থেকে সানা নিয়ন্ত্রণ করছে।
ইয়েমেনি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তারা বাব আল-মান্দাব প্রণালির কাছে ধুবাব এলাকা এবং কয়েকটি কৌশলগত অবস্থান নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে।
তবে অভিযানে সরাসরি সামরিক হামলায় অংশ নেওয়ার বিষয়টি এখন পর্যন্ত প্রত্যাখ্যান করেছে ওয়াশিংটন। এর পরিবর্তে সৌদি আরবকে গোয়েন্দা তথ্য ও পরামর্শ দিয়ে সহায়তা করছে যুক্তরাষ্ট্র।
তথ্যসূত্র: দ্য এক্সপ্রেস ট্রিবিউন
