বিদ্যুৎ-গ্যাস সংকটে মেঘনাতে বাড়তি ভাড়া, ভোগান্তিতে কর্মজীবী মানুষ
মেঘনা (কুমিল্লা) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৪ আগস্ট ২০২৬, ০১:২০ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
সন্ধ্যায় কর্মস্থলের ব্যস্ততা শেষ করে ঢাকার দিক থেকে কুমিল্লার মেঘনার পথে ছুটতে শুরু করেন কর্মজীবী মানুষ। যানজটসহ নানা কারণে বাড়ি ফিরতে ফিরতে অনেকের রাত ৮টা থেকে ৯টা বেজে যায়। সপ্তাহজুড়ে কর্মব্যস্ততার পর পরিবারের টানে প্রতি বৃহস্পতিবার রাতে বাড়ি ফেরেন অনেকে।
শুক্র ও শনিবার ছুটি থাকায় পরদিন আবার পরিবারের সঙ্গে সময় কাটিয়ে ভোরেই ঢাকার পথে রওনা দেন তারা। কর্মস্থলে সময়মতো পৌঁছানোর তাগিদে এই ছুটে চলার মধ্যেই যেন নতুন করে ভোগান্তি যোগ হয়েছে কর্মজীবী মানুষের। একদিকে বিদ্যুতের সংকট, অন্যদিকে গ্যাসের সমস্যাসহ দুই সংকটে চাপে পড়েছেন তারা। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে যাতায়াতে বাড়তি ভাড়া নেওয়ার অভিযোগ। যেখানে ১০ টাকা ভাড়া, সেখানে নেওয়া হচ্ছে ২০ টাকা, ৩০ টাকার ভাড়াও কোথাও গুনতে হচ্ছে ৬০ টাকা। এতে সবচেয়ে বেশি চাপে পড়ছেন সপ্তাহান্তে বাড়ি ফেরা কর্মজীবী মানুষ।
আরো পড়ুন: বিষাক্ত গ্যাস লিকে নিহত বেড়ে ৭
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) রাত ৯টার দিকে ঢাকার কর্মস্থল থেকে মেঘনার চন্দনপুরে বাড়ি ফেরেন মো. মামুন মিয়া। বাড়ি ফেরার পথে বিভিন্ন যানবাহনে তাকে বাড়তি ভাড়া গুনতে হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। উপজেলা বাসস্ট্যান্ডে পৌঁছানোর পরও সেই ভোগান্তির শেষ রক্ষা হয়নি। বাসস্ট্যান্ড থেকে মানিকারচর বাজার পর্যন্ত অটোরিকশার ভাড়া সর্বোচ্চ ১০ টাকা হলেও তার কাছ থেকে নেওয়া হয়েছে ২০ টাকা। মানিকারচর থেকে চন্দনপুরের পথেও একই চিত্র দেখা গেছে। সেখানেও তাকে গুনতে হয়েছে দ্বিগুণ ভাড়া। একই অভিযোগ করেন তার সঙ্গে থাকা আরেক যাত্রী সুমন মিয়া।
তাদের অভিযোগের পরপরই রাতে কয়েকজন অটোরিকশাচালকের সঙ্গে কথা হলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে তারা বলেন, বিদ্যুৎ না থাকায় ঠিকমতো অটোরিকশার ব্যাটারি চার্জ দেওয়া যাচ্ছে না। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় যে সময়টুকু বিদ্যুৎ পাওয়া যায়, সেই সময়েই কোনোমতে গাড়ি চার্জ দিতে হয়। এতে ব্যাটারি পুরোপুরি চার্জ না হওয়ায় দীর্ঘ সময় সড়কে অটোরিকশা চালানো সম্ভব হয় না, ফলে আয়ও কমে গেছে। অটোরিকশা চালিয়েই আমাদের সংসার চলে। যাত্রীদের কাছ থেকে ৫ থেকে ১০ টাকা বেশি না নিলে সংসারের বাজার খরচ চালানো কঠিন হয়ে পড়ে। এর মধ্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামও বেড়েছে। আগের মতো আয় না হওয়ায় যা উপার্জন হয়, তা দিয়ে পরিবারের ভরণপোষণ চালাতেই হিমশিম খেতে হচ্ছে।
তবে, যাত্রীদের কাছ থেকে নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে বেশি নেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে এখন পর্যন্ত থানায় কোনো অভিযোগ পাননি বলে জানিয়েছেন মেঘনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শহীদুল ইসলাম। তিনি বলেন, “ভাড়ার বিষয়ে আমরা এখন পর্যন্ত কারও কাছ থেকে কোনো অভিযোগ পাইনি। আপনার কাছ থেকেই প্রথম বিষয়টি জানতে পারলাম। কেউ অভিযোগ করলে বিষয়টি আইন অনুযায়ী দেখা হবে। তারপরও যেহেতু বিষয়টি জানতে পেরেছি, আমরা গুরুত্ব দিয়ে দেখব।”
